ছুঁচো মেরে হাত গন্ধের অভিযোগ, বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে মমতার মন্ত্রী

0
141

বসিরহাট: ইয়াস বিপর্যস্ত মানুষের হাতে ত্রাণ দিতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি এলাকার ঘটনা৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনের কিছু কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে সন্দেশখালি থানার সরবেড়িয়া পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে ত্রাণ বিতরণের জন্য হাজির হন সিদ্দিকুল্লা সাহেব।

আরও পড়ুন: দিলীপ ঘোষ লিভ ইন করেন, রাজ্যপাল পরকীয়া: মদন মিত্র

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সে সময় অতিরিক্ত জনসমাগমে বিশৃঙ্খলা অবস্থা তৈরি হয়। সিদ্দিকুল্লা সাহেবের অভিযোগ, এলাকার কিছু দুষ্কৃতী ত্রাণের গাড়ি থেকে মালপত্র লুঠ করে এবং বিক্ষোভ দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকে। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কর্মীরা বাধা দিতে গেলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। কয়েকজন কর্মীকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং মন্ত্রীর পাইলট কারের উপর চড়াও হয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: কেন বঙ্গ দখলের স্বপ্ন অধরায় রয়ে গেল বিজেপির, জানালেন ব্রাত্য বসু

যদিও মন্ত্রী মশাইয়ের আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন৷ পুলিশের দাবি, ত্রাণ সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত মানুষজন হাজির হওয়ায় সময়িক বিশৃঙ্খলা অবস্থা তৈরি হয় এবং ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়। অনেকেই ত্রাণ না পেয়ে কিছুক্ষণের জন্য বিক্ষোভ করেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো, সরবেড়িয়া আগারআটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ শাহজাহান, স্থানীয় তৃণমূল নেতা শফিকুল ইসলামেরা৷

আরও পড়ুন: চোর তবে কি ল্যাপটপ প্রেমী, প্রশ্ন গৃহকর্তার

তাঁদের দাবি, দলের একজন মন্ত্রী হিসেবে তিনি এলাকায় ত্রাণ নিয়ে আসছেন এই খবর তাঁদের কাছে ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। যা কিছু হয়েছে ত্রাণ নিতে আসা সাধারণ মানুষের চাহিদা না পূরণের জন্য।  জানা গিয়েছে, ত্রাণ বিলির খবর শুনে সেখানে ত্রাণ নিতে হাজির হন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ৷ কিন্তু সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী তাঁর সংগঠনের পক্ষ থেকে মাত্র ৩০০ জনের মত ত্রাণ নিয়ে আসেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়েই গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে  দলীয় নেতা বা কর্মীরা কোনভাবেই যুক্ত নয় বলেই দাবি স্থানীয় নেতৃত্বের।

কটাক্ষের সুরে তাঁরা বলেছেন, ‘‘চুঁচো মেরে হাত গন্ধ করতে এসেছিলেন মন্ত্রী মশাই৷ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলে উনি নিশ্চয় স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েতকে জানাতেন৷ খোঁজ নিতেন কত মানুষ দুর্গত রয়েছেন৷ তার ভিত্তিতে এলাকায় ত্রাণ পৌঁছালে নিশ্চয়ই মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতেন৷ কিন্তু তা হয়নি বলেই এই ঘটনা৷’’ যদিও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের তরফে এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলেই দাবি করা হয়েছে।