‘নিজেদের সান্তনা না দিয়ে ক্ষতিটা মানতে শেখা দরকার’ বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার গলায় অন্য সুর

0
58

কলকাতা: এক মাসের বেশি সময় ধরে বেসুরো বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং রবিবারে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। যোগ দেওয়া নয় বরং পুরানো দলে ফেরা বলাই শ্রেয় এমনটাই বলছে রাজনৈতিক মহল। ২০২৪ সালের আগে অর্জুনের ফুল বদল বিজেপির কাছে বড় ক্ষতি এমনটাই বলেছেন গেরুয়া দলের নেতা অনুপম হাজরা। ব্যরাকপুরের বিজেপি বিধায়কের তৃণমূলে ফেররা আগেই এই মন্তব্য করেছিলেন। তার পর আবারও ঘাসফুলে অর্জুন যোগের পর বিজেপিকেই কাঠগোড়ায় তুলেছেন তিনি। করেছেন ফেসবুক পোস্টও।

২০১৯ আর ২০২১ এর নির্বাচনের আগে যারা যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাঁরা সকলের প্রায় পুরানো দলে ফিরে এসেছেন। তৃণমূলের নেতা ভাঙিয়ে বিজেপি তৃণমূলকে গোল দিতে চাইলেও উল্টে তাঁরাই গোল খেয়ে গিয়েছেন। যখনওই কেউ বিজেপি ছাড়ছেন তখনই গেরুয়া বাহিনীশীর্ষ নেতৃত্বকে বলতে শোনা গিয়েছে এতে কোনও ক্ষতি হবে দলে। বিজেপি নেতাদের এই নিয়েই এবার মুখ খুলেছেন অনুপম হাজরা। ফেসবুক পোস্টে বিজেপি নেতা লিখেছেন, ‘কেউ দল ছাড়লেই “এতে কিছু হবে না” বা “গুরুত্ব দিতে নারাজ” বলে নিজেদের সান্তনা না দিয়ে , “ক্ষতি যে কিছুটা হয়ে গেল” তা মানতে শেখা দরকার বা কেন বারবার ছেড়ে যাচ্ছে সেটা বিশ্লেষণ করা দরকার। কিন্তু কেউ নিতান্তই নিজের ব্যক্তি-স্বারথ-চরিতার্থ করার বা নিতান্তই ধান্দাবাজির জন্য অন্য দলে গেলে সেটাকে গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল।’

অনুপম হাজরার কথায়, “বাস্তবটা অস্বীকার করে কোনও লাভ নেই, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে একটা কাউন্সিলর সিট জিততে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে, সেখানে কাউন্সিলরের যথেষ্ট উপররের পদমর্যাদা সম্পন্ন জেউ ছেড়ে গেলে নিঃসন্দেহে তা দলের ক্ষতি। All is well বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়াটা সিনেমাতে ভাল লাগলেও, বাস্তবে সেটা নাও খাটতে পারে।” যদিও এই মতামত ব্যক্তিগত বলেই জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তবে তা হলেও দলের নেতৃত্বকে দল বাঁচাতে যে তিনি বার্তা দিতে চেয়েছেন তা লেখা থেকেই স্পষ্ট।

আরও পড়ুন- পৃথক রাজ্য হতে চলেছে জঙ্গলমহল, জল্পনা উস্কে দিলেন বিজেপি সাংসদ 

উল্লেখ্য,  বিজেপির যেখানে ঘর ভাঙছে সেখানে দলের বিরুদ্ধে এহেন মন্তব্যই আরও প্রকট করছে গেরুয়া শিবিরের অন্তরের দ্বন্দ। একে একে দল ছাড়া নিয়ে বাংলার পদ্ম শিবিরের সাংগঠনিক দিক নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছে। তারপর আবার এভাবে দল ছাড়ার হিড়িক। তাই সব মিলিয়েই কেবল অনুপম হাজরাই নয় তথাগত রায় সহ বেশ কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।