অনির্বাণের হাত ধরেই সোনার বাংলা গড়তে চায় বিজেপি

শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি...

0
243

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি….৷ পোড়া বাংলার খোলনলচে বদলে লেনিনের এই বিখ্যাত উক্তিকেই ভরসা রাখছে গেরুয়া শিবির৷ বিপ্লব কথাটার মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব থাকলেও গেরুয়া শিবিরের দৃষ্টিভঙ্গিতে রয়েছে, উন্নয়নের বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ৷ সেই তাগিদ থেকেই লেনিনের উক্তিতেই ভরসা রাখছেন গেরুয়া ব্রিগেডের শীর্ষ নেতৃত্ব৷

আরও পড়ুন: west bengal assembly election 2021: সন্ত্রাসকে হারানোর ডাক অনির্বাণের

- Advertisement -

আটটি সংস্থার মধ্যে ছ’টি সংস্থা বুথ ফেরৎ সমীক্ষায় তৃণমূলকে এগিয়ে রাখলেও নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় জয় থুড়ি বাংলায় সরকার গঠনে ষোলো আনা নিশ্চিত মোদী-শাহ-নড্ডা-ঘোষ-রায়-অধিকারীরা৷ স্বভাবতই, উঠে আসছে লাখ টাকার প্রশ্নটা৷ বাংলার সার্বিক উন্নয়নের কারিগর হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কাকে বসাবেন দিল্লির পন্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায় মার্গের তাত্ত্বিক নেতারা?

আরও পড়ুন: west bengal assembly election 2021: বোলপুরে প্রহৃত সাধু, শাসকদলের বিরুদ্ধে কমিশনে অনির্বাণ

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে প্রধান চারটি নাম- দিলীপ ঘোষ, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্ত, কর্ণেল সুব্রত সাহা৷ বৃহস্পতিবার রাতে এবিষয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সশরীরে হাজির না থাকলেও বৈঠকের বিষয়ে আদ্যন্ত ওয়াকিবহাল অমিত শাহও। সেখানে প্রধান দুটি নাম নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে খবর৷ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নাকি ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রির্সাচ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ড: অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়?

একটি অংশের মতে, দিলীপবাবুর নেতৃত্বে লোকসভায় দুই থেকে ১৮ আসনে পৌঁছেছে বিজেপি। একুশের বিধানসভা দখলের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে তাঁর নেতৃত্বেই। দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংঘের হয়ে প্রচার চালানোর কাজও করেছেন তিনি৷ ফলে মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে গোপীবল্লভপুরের নাড়ুই যোগ্য পদপ্রার্থী বলে অভিমত সংশ্লিষ্ট মহলের।

অপর অংশের মতে, দিলীপবাবু অত্যন্ত ‘লুস টক’ করেন৷ তাঁর সর্বগ্রাসী ইমেজও একটা অংশের মানুষের না-পসন্দ৷ ওই অংশের মতে, ‘‘দল চালানোর জন্য দিলীপবাবু ঠিক আছেন৷ কারণ, গ্রাম বাংলার মাঠে ঘাটে একই সঙ্গে বিরোধীদের দমন ও ক্যাডারদের উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে দিলীপবাবুর বিকল্প কেউ নেই৷ কিন্ত তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদে বসালে একদিকে যেমন দল পরিচালনায় ঘাটতি তৈরি হবে তেমনই বাংলার জনান্তিকে শুনতে হবে, সেই তো একই হল৷ মমতা আর দিলীপের শব্দচয়নে ফারাক কই?’’

ঠিক এই জায়গাতেই বিকল্প হিসেবে দলের সিংহভাগ অংশের মত, বোলপুরের বিজেপি প্রার্থী ড: অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়কে করা হোক মুখ্যমন্ত্রী৷ যুক্তি হিসেবে একাধিক তথ্য সামনে আনছেন তাঁরা৷
এক: দীর্ঘদিন দলের নীতি প্রণয় কমিটি (থিঙ্ক ট্যাঙ্ক)তে থাকার সুবাদে আদ্যন্ত বিজেপি ধ্যানধারণা তিনি খুব ভাল বোঝেন৷ ব্যক্তিগতভাবে শুধু উচ্চ শিক্ষিতই নন, ভদ্র, নম্র এবং মার্জিত৷

দুই: শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে সর্বক্ষেত্রে বেহাল বাংলার হাল ফেরাতে যেটা সবার আগে প্রয়োজন সেটা হল পলিসি রুপায়ণ৷ দীর্ঘদিন ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রির্সাচ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নয়, বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণাও আছে যাদবপুরের প্রাক্তনী অনির্বাণের৷ প্রধানমন্ত্রীর নয়া এডুকেশন পলিসির স্বপক্ষে সবচেয়ে বেশি সওয়ালও করেছেন তিনি৷ ফলে তাঁর বিকল্প মুখ এই মুহুর্তে খুঁজে পাচ্ছে না গেরুয়া শিবির৷

তিন: পন্ডিচেরিতে ঋষি অরবিন্দের আশ্রমে স্কুলিং৷ সেখান থেকে যাদবপুর৷ বাংলার সংস্কৃতির গবেষণার কাজে যুক্ত অনির্বাণের কাছে ওয়েলিংটনে সুবোধ মল্লিকের বাড়ি কিংবা ফুলিয়াতে কৃত্তিবাসের অস্থি সমাধীস্থল নখ দর্পণে৷ ভোটের ঠিক আগে বাংলার ৭ হাজার কিমি পথ অতিক্রম করেছিলেন তিনি৷ সেসময় এই প্রতিবেদককে অনির্বাণ বলেছিলেন, ‘‘কোনও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই৷ এমন চলতে থাকলে আমরা তো নিজেরাই নিজেদের পরিচয় ভুলে যাব? কি রেখে যাব নব প্রজন্মের জন্য?’’

স্মৃতি রোমান্থন করে বলেছিলেন, ‘‘সুরাটে দেখেছি-মহাত্মা গান্ধী যেখানে পড়তেন সেখানে শুধু মিউজিয়াম তৈরি করা নয়, যুবক যুবতীদের মিউজোলজির ওপর প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে৷ তাঁরা সেখানেই চাকরি পাচ্ছেন৷ মানুষের কর্ম সংস্থান তৈরি হচ্ছে৷ বাইরে থেকে মানুষ এসে দেখছেন গান্ধীর মূর্তি৷ আর আমাদের বন্দে মা তরমের উৎসস্থল, লালগোলার হাল? প্রথমে পাগলা গারদ, পরে জেল খানা৷ ভিতরে ঢুকলে মাস্ক ভেদ করেও নাকে গন্ধ আসবে? লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়৷ আমাদের কিসের অভাব? দূরদর্শিতার?’’

বোলপুরের শক্ত মাটিতে লাগাতার পায়ে হেঁটে প্রচার অভিযানের ফাঁকেও তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন দলের দিশা, শুনিয়েছেন সোনার বাংলার স্বপ্ন৷ বলেছেন, ‘‘আগামী বছর যখন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি হবে৷ অর্থাৎ আগামী ২৫ বছর পর স্বাধীনতার ১০০ বছর৷ তখন আমরা বাংলাকে কিভাবে দেখতে চাই৷ এত মেধা, এত কর্ম দক্ষতা এগুলো কি ঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে? যদি সত্যি এগুলো স্বদব্যবহার করা হত, তাহলে আমরা আজ কোথায় পৌঁছাতাম?’’

প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘ভিক্ষার রেশন কেন নেবেন? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্ম সংস্থানের প্রকৃত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে৷ ২টাকার চালের চেয়ে অনেক বেশি জরুরী প্রত্যেককে স্বনির্ভরশীল করে তোলা৷ তাহলেই রাজ্য আর্থিক দিক থেকে উন্নত হবে৷’’ কোনও খারাপ শব্দ উচ্চারণ না করেও স্পষ্টভাবে বলছেন, ‘‘মত বিনিময় খুব জরুরী৷ তা না হলে মেধার বিকাশ হবে না। না-কারাত্মক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আর বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন ভাবতে হবে৷’’
দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, একুশের বঙ্গ ভোটে মোদী-শাহর মনোনীত দু’জন প্রার্থীর একজন অশোক লাহিড়ি অন্যজন অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়৷ অশোকবাবু হবু অর্থমন্ত্রী৷ স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে দিলীপ ঘোষকে কয়েক কদম পিছনে ফেলে উঠে আসছে একটাই নাম- অনিবার্ণ গঙ্গোপাধ্যায়৷ বোলপুরের বিজেপি প্রার্থী নিজে অবশ্য এবিষয়ে স্পিকটি নট৷ তবে ঘনিষ্ঠরা বলছেন, অনুমান সত্যি হলে রবি ঠাকুরের খাসতালুকে গাঁথা হবে সম্মানের আরও একটি নতুন পালক৷