ক্ষোভ বরদাস্ত নয়, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি শাহের

0
493

কলকাতা: দলের ওপরে কেউ নন৷ দলের সিদ্ধান্ত মেনে সকলে চলতে হবে৷ তা না হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে৷

আরও পড়ুন: মতুয়া ভোট টানতে কৌশলী শাহ

একুশের বঙ্গ ভোটে বিজেপির প্রার্থী তালিকা সম্পর্কে জেলায় জেলায় চলতে থাকা কর্মী বিক্ষোভে রাশ টানতে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে গেলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ কর্মী বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘‘প্রার্থীকে কেন্দ্র করে কোনও ক্ষোভ বিক্ষোভ দল বরদাস্ত করবে না৷ সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে৷ যাঁরা এরপরও দলবিরোধী কাজ করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দল পিছু পা হবে না৷’’

আরও পড়ুন: ওই পরিবারটাই বেইমান, শিশির-শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমণ তৃণমূল নেতার

কেন তিনি এমন হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন কর্মী বৈঠকে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শাহ৷ সূত্রের খবর: বৈঠকে বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘এখন সকলের লক্ষ্য একটাই হওয়া উচিত, বাংলা থেকে এই কাটমানি, তোলাবাজির সরকারকে হঠানো৷ তা না হলে বাংলাকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়৷’’ কর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারকে অপসারণ করতে হলে সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে৷’’

 

 

আশ্বস্ত করেছেন, ‘‘দলের সক্রিয় কর্মীদের বিষয়টি দলের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে৷ যাঁরা দলের হয়ে কাজ করবেন, তাঁদের কাউকেই দল নিরাশ করবে না৷’’ এরপরই রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে তিনি জানিয়ে দেন, ‘‘প্রার্থীকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বই মনোনীত করেছেন৷ ফলে প্রার্থীকে না মানার অর্থ দলের শীর্ষ নেতৃত্বর নির্দেশকে অমান্য করা৷ এটা আমাদের দল বরদাস্ত করবে না৷ যাঁরা দলবিরোধী কাজ করবেন, তাঁদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে৷’’ ইঙ্গিত দিয়েছেন বহিষ্কারেরও৷ সূত্রের খবর, রবিবার এগরার সভার পর বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরের মেছেদায় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন শাহ। রাতে কলকাতাতেও দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শাহ৷ দুটি বৈঠক থেকেই তিনি এই বার্তা স্পষ্ট করেন৷

 

 

প্রসঙ্গত, আগের দু’দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরও বেশ কিছু জেলায় দেখা গিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের ক্ষোভ, বিক্ষোভ৷ তৃতীয় ও চতুর্থ দফা ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর সেই ক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়ে যায়৷ কোথাও পার্টি অফিসে ভাঙচুর কোথাও বা প্রার্থী প্রত্যাহারের দাবিতে পথ অবরোধেও সামিল হতে দেখা যায় গেরুয়া কর্মী, সমর্থকদের৷ এমনকি প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই প্রথমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন শিখা মিত্র৷ জানিয়ে দেন, প্রার্থী হবেন না৷ পরে সেই পথে হেঁটে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক মালা সাহার স্বামী তরুণ জানান, ‘‘আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাও করেননি বিজেপির নেতারা৷ তৃণমূল ছিলাম। এখনও আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। বিজেপিতে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না৷’’

 

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থী অসন্তোষের জেরে এক লহমায় ভোটের লড়াইয়ে শাসকদল তৃণমূলের চেয়ে অনেকখানি পিছিয়ে যেতে হয়েছে বিজেপিকে৷ স্বভাবতই সময় থাকতে ক্ষোভ-বিক্ষোভে লাগাম পড়াতে কড়া হুঁশিয়ারির পথে হেঁটেছেন গেরুয়া শিবিরের হাই-ভোল্টেজ নেতা৷ তা না হলে বঙ্গ দখলের স্বপ্ন যে অধরায় রয়ে যাবে!