বিরোধী ঐক্যে ফাটলের ইঙ্গিত, উত্তরপ্রদেশে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড় যাত্রায় থাকবেন না অখিলেশ-মায়াবতী

0
78

লখনউ: দিল্লি থেকে কংগ্রেসের ভারত জোড় যাত্রা প্রবেশ করবে উত্তরপ্রদেশে। অন্যান্য রাজ্যে কংগ্রেস নেতার সঙ্গে পদযাত্রায় বহু বিরোধী দলের নেতাকে পা মেলাতে দেখা গিয়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশ যাকে দিল্লির জয়ের রাস্তা বলা হয় সেই জায়গাতেই ধাক্কা খেতে চলেছে কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, যোগী রাজ্যে রাগার ভারত জোড় যাত্রায় সামিল হবেন না রাজ্যের বিজেপির প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী। তবে কি যে  সংযোগ রাহুল গান্ধী লোকসভা ভোটের আগে করতে চাইছেন সেই ঐক্যে বড় ফাটল তৈরি হল? এই প্রশ্নই রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে প্রবেশ করতে চলেছে ভারত জোড় যাত্রা। উত্তরপ্রদেশের শীর্ষ বিরোধী নেতারা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারত জোড়ো যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন না। কংগ্রেস সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতী এবং রাষ্ট্রীয় লোকদল  নেতা জয়ন্ত চৌধুরীকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর পর্যন্ত পার্টির মেগা মার্চে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সূত্র জানিয়েছে, অখিলেশ যাদব যাত্রায় যোগ দিতে পারবেন না তবে তিনি কোনও দলের নেতাকে পদযাত্রায় অংশ নিতে পাঠাবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র ঘনশ্যাম তিওয়ারি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁদের দল ভারত জোড়ো যাত্রার ধারণাকে সমর্থন করে, তবে একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে ঘোলা করতে চায় না।

- Advertisement -

আরও পড়ুন- করোনাবিধি নিয়ন্ত্রণে এবারে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের মোতায়েন করা হবে বিমানবন্দরে

অন্যদিকে, আরএলডি প্রধান চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন তাঁর আগে থেকেই কিছু ব্যস্ততা রয়েছে এবং তিনি কংগ্রেসের পদযাত্রায় যোগ দিতে পারবেন না। দলের মুখপাত্র রোহিত জাখর বলেছেন যে আরএলডি যাত্রাকে সমর্থন করে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, পদযাত্রাকে রাজনৈতিক মাধ্যমে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই রাজস্থানে কংগ্রেসের সাথে সরকার চালাচ্ছি। আমরা আদর্শগতভাবে যাত্রাকে সমর্থন করি।” রাজনৈতিক মহল বলছে, সমাজবাদী পার্টি এবং তার মিত্র আরএলডি, যাত্রা থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ তাদের অংশগ্রহণ ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট সম্পর্কে গুঞ্জন সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেস খুব ভালো করেই জানে যে, ২০২৪ সালে বিজেপকে হারাতে হলে উত্তরপ্রদেশের বৃহত্তম বিরোধী শক্তি অখিলেশ যাদবের দলের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে চলতি বছরে প্রথমে বিধানসভা নির্বাচনের কংগ্রেসের ফলাফল দেখার পর নিজেদের বাঁচাতে এই লড়াইয়ে থেকে অখিলেশ যাদব একটি সতর্ক পন্থা বেছে নিয়েছেন। আবার মায়াবতী, যার দল যারা সাম্প্রতিক বিবৃতিতে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে যোগী রাজ্যে পদযাত্রার সময় চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে কংগ্রেস। সেই সঙ্গেই বড় ধাক্কা লাগতে পারে।