যোগীর বিরুদ্ধে ‘রাজনীতি’ চুরির অভিযোগ নিয়ে ময়দানে অখিলেশ-মায়াবতী

0
27

লখনউ: ফের চর্চায় উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। দেশজুড়েও কড়া ঠাণ্ডার আবহেই যোগী রাজ্যে উত্তাপ বাড়ছে। তবে এই উত্তাপ রাজনীতির। গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর এবার যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি সরকার চাইছে রাম রাজ্যে পুরোভোট করতে। সেই ভোটে আসন সংরক্ষণ নিয়েই জলঘোলা হচ্ছে। সেই ঘলা জলের মধ্যে দিয়ে বিজেপি যাতে ভোটবাক্স ভরাতে না পারে তাই ময়দানে নেমেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী।

ওবিসি সংরক্ষণ চালু করে তারপর রাজ্যে পুরভোট করাতে সক্রিয় হয় যোগী আদিত্যনাথের সরকার। এই বিষয় নিয়েই  সরব হয়েছে বিরোধীরা। রাজ্যে বিজেপির দুই প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি দাবি করেছে যে বিজেপি সরকার পুরভোটে অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণির (OBC) জন্য আসন সংরক্ষণের নামে তাঁদের ‘সামাজিক ন্যায়ের রাজনীতি’ চুরি করতে চাইছে। এই ভাবে সংরক্ষণ করে ভোট করানো নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়ে আন্দলোনের ডাক দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই নয়া রাজনীতির প্রতিবাদে  ময়দানে নেমেছেন অখিলেশ-মায়াবতী। রাজ্যের মানুষকে সংরক্ষণের কথা বলে ভোট বাক্স ভরাতে চায় বিজেপি, এই কথা বলেই যোগীর বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছেন তাঁরা। এমনকি উচ্চবর্ণের দল বিজেপির সরকার আর্থিকভাবে পিছিয়ে পরা শ্রেণিকে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার কথা বলে বিজেপি কোনও ফায়দা তুলতে চায় কিনা সেই প্রশ্নও তুলে ধরেছে। মুখ আর মুখোশ সামনে আনতে চাইছে বিজেপি বিরোধীরা। এই লড়াই নিয়েই ফের রাম-রাজ্যে শাসক বিরোধীর টক্কর জোরাল হয়েছে।

- Advertisement -

বলা বাহুল্য যে এই বিষয় খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে বিজেপি সরকার। তাই এখনের ঝামেলার প্রভাব যাতে লোকসভা নির্বাচনে না পরে তাই সংরক্ষণ নিয়ে নিজেদের রাস্তা পরিষ্কার করে রাখছেন যোগী আদিত্যনাথ। জানিয়ে রাখা ভাল, যোগী সরকারকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে ওবিসিদের জন্য আসন সংরক্ষণ ছাড়াই পুরভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। যাতে প্রবল চাপে পড়েছিল বিজেপি। তাই তড়িঘড়ি করেই এলাহাবাদ হাই কোর্টর রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানায় উত্তরপ্রদেশের সরকার। তাতেই কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কারণ বুধবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি পিএস নরসিমহাকে নিয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। যোগী সরকাররে কাছে এই সময়টা অনেকটাই নিজেদের যা ভুল রয়েছে তা সংশোধন করার জন্য। তাই বিরোধীরা কিছু করার আগেই নিজেদের সামলে নেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।