29 C
Kolkata
Friday, June 18, 2021
Home খাস বাত পিএসসি পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক নয় কাদের স্বার্থে, প্রশ্ন উঠবেই

পিএসসি পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক নয় কাদের স্বার্থে, প্রশ্ন উঠবেই

কৌশিক মাইতি: অধিকাংশ বড় পদের রাজ্য সরকারি অফিসার ও কর্মচারী নিয়োগ হয় PSC (Public Service Commission) র মাধ্যমে। এই অফিসার ও কর্মচারীরাই অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যের নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নেয় এবং বাংলার মানুষকে পরিষেবা দেন এনারাই। UPSC র মাধ্যমে IAS, IPS হওয়া এখন বাঙালি সহ অহিন্দি জাতিগুলোর কাছে অলীক স্বপ্ন, হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ অহিন্দি জাতির স্বপ্ন ধ্বংস করছে। UPSC র প্রিলিমস হিন্দি-ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য ভাষায় দেওয়ার সুযোগ নেই, অর্থাৎ বাঙালি ছেলেমেয়েদের ইংরেজিতে পরীক্ষা দিতে হয়, আর হিন্দিভাষীরা নিজেদের মাতৃভাষায় পরীক্ষা দেয়।

- Advertisement -

কৌশিক মাইতি, বাংলাপক্ষ

গত বছর ৮১২ জন UPSC পাশ করেছে, যারা নানা রাজ্য সহ সারা ভারতের নীতি নির্ধারণ করবে, তাদের ৪৫৮ জন হিন্দি মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রী। এছাড়া ইংরেজি মাধ্যমে পড়া হিন্দি-উর্দুভাষী ছাত্র-ছাত্রী আছে অনেক। মানে বাঙালি আইএএস, আইপিএস হতে পারবে না, শুধু বাঙালি না প্রায় প্রতিটা অহিন্দি জাতির ভবিষ্যৎ এভাবে ধ্বংস করেছে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ।

- Advertisement -

আইএএস-আইপিএস হতে পারবেনা বাঙালি, কিন্তু WBCS-WBPS বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করতে পারে বাঙালি। এগুলো আমাদের নিজস্ব চাকরি, আমাদের রাজ্য সরকারী চাকরি। IAS-IPS রা বহিরাগত(মূলত উত্তর ভারতীয়) হওয়ায় তারা বেশিরভাগই বাঙালি বিদ্বেষী, তারা বাংলা ও বাঙালির স্বার্থ বিরোধী কাজ করে। নানা চাকরিতে বিহার-ঝাড়খণ্ড-উত্তরপ্রদেশ থেকে ছেলেমেয়ে ঢোকায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা না থাকায় আমাদের রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা এসব খেয়াল রাখেন না, তারা এসব নিয়ে ভাবিত না৷ ফলে বাঙালি বিরোধী IAS-IPS চক্র সহজেই বাঙালির ক্ষতি করতে পারে।

IAS-IPS আমাদের হাতে নেই। কিন্তু আমাদের এলাকার বিডিও কি বিহার থেকে আসা কোনও বাঙালি বিদ্বেষী হবে? বাংলার কৃষকদের স্বার্থ দেখবে উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে WBCS পাশ করা কোনও কৃষি আধিকারিক? বিডিও অফিস বা অন্যান্য সরকারি অফিসে গিয়ে হিন্দি-উর্দুতে কথা বলবে বাঙালি সহ রাজ্যের সকল ভূমিপুত্র? তারা বাঙালির কষ্ট বুঝবে? বাংলার মাটি তারা চেনে?

এটা পরিষেবার প্রশ্ন, রাজ্যের ভূমিপুত্রদের স্বার্থের প্রশ্ন। বাঙালি সহ কোনও ভূমিপুত্রকে বঞ্চিত করা চলবে না। বাংলা ভাষার ভিত্তিতে তৈরি রাজ্য, বাংলায় ৮৬% বাঙালি (২০১১ র আদমশুমারি অনুযায়ী), এ রাজ্যের মূল সরকারি ভাষা বাংলা।

- Advertisement -

বাংলায় পিএসসির নানা পরীক্ষা বাংলা, হিন্দি, উর্দু, সাঁওতালি ও নেপালি নানা ভাষায় দেওয়া যায়, অর্থাৎ বাংলা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক না। ফলে বিহার বা ইউপি থেকে এসে কেউ বাংলায় WBCS অফিসার হয়ে বাঙালিকে শাসন করতে পারে। গত বছর ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় ষষ্ঠ হয়েছে বিহারের এক হিন্দিভাষী। যে কেউ এসে বাংলায় বড় বড় চাকরি দখল করতে পারে৷ কিন্তু বাঙালি কি অন্য রাজ্যের সরকারি চাকরি পায়? অন্য সব রাজ্যের সরকার যে রাজ্যের মানুষের স্বার্থ দেখে, ভূমিপুত্রদের পক্ষে সব রাজনৈতিক দল।

সব রাজ্যেই পিএসসি পরীক্ষায় সে রাজ্যের মূল সরকারি ভাষায় ১০০ বা ১৫০ নম্বরের পেপার বাধ্যতামূলক আছে। যে রাজ্য থেকে এসে বাংলায় চাকরি-কাজ-এলাকা-মাটি দখল করছে, সেই বিহারে পিএসসি তে ১০০ নম্বরের বাধ্যতামূলক হিন্দি পেপার আছে। বাঙালি বিহারে চাকরি পায় না, পাবেও না। মহারাষ্ট্রে ১০০ নম্বরের মারাঠি, কর্ণাটকে ১৫০ নম্বরের কন্নড় পেপার বাধ্যতামূলক৷ অন্ধ্রপ্রদেশে তো আবার আইন করে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ হয়ে গেছে সরকারি ও বেসরকারি সব চাকরিতে৷ পাশের রাজ্য ওড়িশা ও বাম শাসিত কেরালায় পিএসসির পরীক্ষায় বসতে গেলে যথাক্রমে ওড়িয়া ও মালায়ালম মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হবে বা মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকে একটা বিষয় হিসাবে ওড়িয়া ও মালায়লম থাকতেই হবে।

বুঝতেই পারছেন, অন্যান্য রাজ্য থেকে গিয়ে এইসব রাজ্যে কেউ চাকরি দখল করতে পারবে না। তামিলনাড়ুতে রাজ্য সরকারি চাকরির কথা অন্য রাজ্যের কেউ কল্পনাও করতে পারবে না, তামিলনাড়ুর প্রতিটা দল তামিল জাতির স্বার্থ দেখে, কারণ তামিলরা সচেতন।

এবার আসি মহান রাজ্য গুজরাতের কথায়। আপনাকে গুজরাতিরা শেখায় বাংলা বাংলা বা বাঙালি বাঙালি করো না, এগুলো প্রাদেশিকতা, আগে ভারতীয় হও। তারা আবার এক সপ্তাহে ৫০ হাজার বিহারীকে বিহারে ফেরত পাঠিয়ে দেয়, কেউ প্রাদেশিকতা বা উগ্র জাতিবাদ বলে হাউকাউ করে না, কারণ তারা গুজরাতি। ভারত স্বাধীন করা বাঙালিকে রাষ্ট্রপ্রেমের শিক্ষা দেওয়া গুজরাতি শাসকদের গুজরাতে পিএসসি মেইনস পরীক্ষায় ১৫০ নম্বরের গুজরাতি পেপার বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ আপনাকে বোকা বানিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ গুছিয়ে নেয়। আর আপনি নিজের অধিকার ভুলে দুহাত তুলে নৃত্য করেন, আপনার মাথায় বেল ভেঙে খায় হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা।

বাঙালি ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে চাকরি পায় না, পাওয়া সম্ভবও না। সর্বোপরি বাঙালি সহ সকল ভূমিপুত্ররা নিজের রাজ্যেই বঞ্চিত, বাধ্যতামূলক বাংলা বা সাঁওতালি পেপার না থাকায়। গত সত্তর বছর ধরে আমাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে আমাদের রাজ্য সরকার, এটা লজ্জার। শাসক দল বদলেছে, কিন্তু বাংলার ভূমিপুত্রদের স্বার্থ কেউ দেখেনি। নেতা-মন্ত্রীরা যাদের ভোটে নির্বাচিত, তাদের কথাই ভাবে না, সে চেতনাই নেই। অন্যান্য সব রাজ্যে এক নিয়ম, কিন্তু বাংলায় আলাদা। সব রাজ্যে এক নিয়ম চলে, বাংলায় তা চলেনা কেন? বাংলা কি ধর্মশালা? বাংলা কি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র? অন্যান্য রাজ্যের মতো এখানে একই নিয়ম নেই কেন?

নিজের মাটিতে বাঙালি এভাবে কতদিন বঞ্চিত হবে? লাখ লাখ ভূমি সন্তানের ভবিষ্যতের স্বার্থে, রাজ্যে সরকারি পরিসেবার স্বার্থে, সর্বোপরি বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে বাংলায় পিএসসির সব পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের বাংলা/সাঁওতালি পেপার বাধ্যতামূলক চাই। এটা সকল ভূমিপুত্রের দাবি, এটা বাংলার দাবি, এটা সময়ের দাবি। রাজ্য সরকার বাংলার মানুষের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে পিএসসির সব পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক করুক, নাহলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

** মতামত সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত

- Advertisement -

সপ্তাহের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতা থেকে দফতর সরাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, আশঙ্কায় বহু কর্মী

খাস খবর ডেস্ক: কেন্দ্রের অধীনে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সদর দফতর কলকাতা থেকে সরিয়ে ফেলা হতে পারে অন্য রাজ্যে। যার জেরে কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন...

বাস তো নয় যেন হাতি পুষছি, সরকারি সাহায্যের দাবি স্কুল বাস মালিকদের

রায়গঞ্জ: প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল৷ তখন থেকেই গ্যারেজ বন্দী স্কুল বাসগুলিও৷ দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বাসের...

স্বাস্থ্য দফতরে ১০০ শতাংশ অবাঙালি নিয়োগ, ক্ষুব্ধ বাংলাপক্ষ

সৌমেন শীল, কলকাতা: বাংলা নিজের মেয়েকেই চাই। এই স্লোগান দিয়ে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে বিপুল সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার একমাসের...

মুকুলের বিরুদ্ধে ওঠা সম্মানহানিকর অভিযোগের সামনে দাঁড়িয়েও শুভ্রাংশু নীরব কেন, উঠছে প্রশ্ন

কলকাতা: যা রটে তার কিছু তো বটে৷ বহুল ব্যবহারে জীর্ণ এই প্রবাদটাই ফের সামনে উঠে আসছে মুকুল রায়ের তথ্য পাচারের প্রসঙ্গে পুত্র শুভ্রাংশুর নীরবতাকে...

খবর এই মুহূর্তে

বিশ্বে দৈনিক সংক্রমণের তুলনায় সুস্থতার হার বেশি, মৃত প্রায় নয় হাজার

খাসখবর ডেস্ক: প্রাণঘাতী ভাইরাসের জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। ধীরে ধীরে কমছে এই মারণ ভাইরাসের তাণ্ডব। দৈনিক সংক্রমণের চেয়ে বাড়ছে সুস্থতার লক্ষণ। তবে চিন্তায় ফেলেছে মৃত্যুর...

যুদ্ধবিরতির অবসান, ফের শুরু ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ

খাসখবর ডেস্ক: বেশকিছু দিনের যুদ্ধ বিরতি। ফের শুরু হয়ে গিয়েছে ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। প্যালেস্টাইন সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার...

প্রবল বৃষ্টিতে সেবক-রংপো নির্মীয়মাণ টানেলে ধস, হতাহত ৭

খাসখবর ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ে ধস নেমে ঘটল বড় বিপর্যয়৷ কালিম্পয়ের কাছে সেবক-রংপো নির্মীয়মাণ টানেলে নামে ধস৷ ঘটনাস্থলেই মারা যান ২ শ্রমিক৷ আহত হয়েছেন...

৫০ বার শ্রীঘরে গিয়েও বদলাইনি স্বভাব, ফের চুরির অভিযোগ ধৃত পরিচারিকা

মুম্বই: কথায় বলে, কয়লা যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে৷ বনিতা গাইকোয়াড়ের ক্ষেত্রে প্রবাদ বাক্যটি ষোলো আনা খাঁটি৷ চুরি করে ধরা পড়েছে বহুবার৷...