29 C
Kolkata
Saturday, July 31, 2021
Home অফবিট জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের সময় রবীন্দ্রনাথ পাশে পাননি গান্ধীজি দেশবন্ধুকে

জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের সময় রবীন্দ্রনাথ পাশে পাননি গান্ধীজি দেশবন্ধুকে

বিশেষ প্রতিবেদন: জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ নাইড উপাধি ত্যাগ করেছিলেন ৷ কিন্তু বড় আশ্চর্যের বিষয় সেই প্রতিবাদের সময় বলতে গেলে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন বিশ্বকবি ৷ পাশে পাননি তখন মহাত্মা গান্ধীকে ৷ সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে শুধু গান্ধীজি কেন এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে বাংলায় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মতো নেতারাও তাঁর পাশে ঠিকমতো দাঁড়াতে সাহস দেখাননি৷ যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছিলেন কবি৷

- Advertisement -

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (অমৃতসর হত্যাকাণ্ড) ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কুখ্যাত গণহত্যা। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল বৈশাখি উৎসবের দিন অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর শহরে ইংরেজ সেনানায়ক ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

সেই ১৩ এপ্রিল দিনটা পাঞ্জাবের বৈশাখি উৎসবের দিন হওয়ায় ওই দিন সকাল ৯টার সময় জালিয়ান ওয়ালাবাগে জমায়েত হয়েছিল অমৃতসর ও তার আশে পাশের অঞ্চল থেকে আসা বহু মানুষ , যাদের অনেকেরই জানা ছিল না সরকারি নির্দেশে মিটিং মিছিল করা তখন সেখানে নিষিদ্ধ ৷ কিন্তু ওইদিন ডায়ার প্রায় ১০০জন গুর্খা সৈন্য আর ২টি সাজোয়া গাড়ি নিয়ে ঘিরে ফেলেন ৬-৭ একরের গোটা উদ্যানটিই৷ তারপর ডায়ারের নির্দেশে অতর্কিতে শুরু হয় গুলি বর্ষণ৷ শোনা যায় সেদিন খরচ হয়েছিল ১৬৫০ রাউণ্ড গুলি। বাঁচতে বাগের মাঝখানে থাকা কুয়োতে ঝাঁপ দিলে পাথর ফেলে কিছু মানুষকে জীবন্ত প্রোথিত করা হয়। ব্রিটিশ সরকারি হিসেব বলে সেদিন ৩৭৯জনের মৃত্যু এবং ১১০০জন আহত হয়েছিল৷ যদিও বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ছিল হাজারের অনেক বেশি৷

- Advertisement -

ওই ভয়ানক ও মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্রিটিশ শাসনের প্রকৃত নগ্ন রূপ বেরিয়ে পড়ে৷ এ খবর জানার পর রবীন্দ্রনাথ রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত৷ তিনি মনে করেন ইংরেজের এমন বর্বোরচিত আচরণের কথা বিশ্ববাসীর জানা উচিত৷ কিন্তু এমন নৃশংস ঘটনার পরেও গান্ধীজি কিংবা কংগ্রেসের নেতাদের দিক থেকে তেমন কোনও প্রতিবাদ গর্জে উঠতে দেখা গেল না৷

তখন রবীন্দ্রনাথ একটা প্রস্তাব দিয়ে অ্যান্ড্রুজকে পাঠালেন গান্ধীজির কাছে ৷ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল- তিনি গান্ধীজিকে সঙ্গে নিয়ে পাঞ্জাবে যাবেন কারণ তখন সেখানে পাঞ্জাবের বাইরের লোকেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ব্রিটিশ সরকার৷ তাঁরা দুজনে সেখানে ঢুকতে গেলে নিশ্চিত গ্রেফতার হবেন৷ আর গান্ধী গ্রেফতারের খবর চাপা থাকবে না ফলে গোটা বিশ্বে সেই খবর ছড়িয়ে পড়বে৷ এর কয়েকদিন বাদে অ্যান্ড্রুজ ফিরলেন তবে কোনও ইতিবাচক বার্তা ছিল না। কারণ কবির প্রস্তাবে গান্ধীজি রাজি হলেন না ৷ ওই সময় সরকারের সঙ্গে কোনও রকম প্রত্যক্ষ সংঘাতে যেতে রাজি নন মহাত্মাজি৷

মহাত্মার এমন আচরণে কোনও বিরূপ মন্তব্য করলেন না ঠিকই তবে কবি চরম আঘাত পেলেন ৷ তখন তাঁর মনের ভিতর চরম অস্থিরতা৷ ঠিক করলেন চিত্তরঞ্জন দাশের সঙ্গে দেখা করবেন৷ কবি নিজেই গেলেন তাঁর কাছে ৷ কবির প্রশ্ন দেশবন্ধুর কাছে – পাঞ্জাবের ঘটনায় বাঙালিরা কেন প্রতিবাদ করছে না? কেন এখানকার কংগ্রেস নেতারা নীরব? রবীন্দ্রনাথ তাঁকে প্রতিবাদ সভা ডাকতে বলেন এবং সে সভায় কবি স্বয়ং সভাপতি হতে রাজি বলেও জানালেন৷ সেদিন রবি ঠাকুর চেয়েছিলেন ওই সভাটি যেন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় ৷ কিন্তু বাংলায় আরও অনেক কংগ্রেস নেতা রয়েছে এই অজুহাত দেখিয়ে তাঁর একার পক্ষে এ ব্যাপারে কথা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান চিত্তরঞ্জন৷ তিনি কবিকে পাল্টা প্রস্তাব দেন বরং ওই সভাটি নয় রবীন্দ্রনাথ নিজেই ডাকুন৷ সেদিন বিস্মিত রবীন্দ্রনাথ – বুঝে উঠতে পারলেন না এ বঙ্গের কংগ্রেস নেতাদের ব্রিটিশদের এত ভয়ের কারণটা কী ? চিত্তরঞ্জনের মনোভাব বুঝে আর সেখানে বসে সময় নষ্ট না করে ফিরে এলেন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে৷

- Advertisement -

সেদিন কবির জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন প্রশান্ত মহলানবিশ৷ লেখালেখির সংক্রান্ত কিছু কাজ ছিল৷ সেদিন আর কোনও কাজ হবে না তাই কবি তাঁকে চলে যেতে বলেন৷ রবি ঠাকুরের থমথমে মুখ দেখে একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে নিজের বাড়ি ফিরেন তাঁর একান্ত অনুগত প্রশান্ত ৷ তবে রাতে বাড়ি ফিরলেও দুশ্চিন্তা থেকেই গেল । তাই পরের দিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আবার জোড়াসাঁকো যান তিনি৷ কবির ঘরে গিয়ে দেখলেন তিনি সারারাত না শুয়ে কিছু লেখালিখিতে ব্যস্ত ৷ তখন ইংরেজিতে লেখা সেই কাগজগুলি প্রশান্তকে পড়তে দিলেন কবি৷

কাটাকুটিতে ভরা লেখাটা হাতে নিয়ে প্রশান্ত দেখলেন বড়লাট চেমসফোর্ডকে লেখা চিঠি যাতে বলা হয়েছে- কবি এখন নাইট উপাধি ত্যাগ করছেন৷ পাশাপশি ডেকে পাঠালেন অ্যান্ড্রুজকে চিঠিটা পড়ে দেখার জন্য ৷ ঠিক আছে বলে জানালেও চিঠিটিতে ভাষাটা একটু মোলায়ম করার কথা বলেছিলেন অ্যান্ড্রুজ ৷ কিন্তু কবি তাতে রাজি নন কারণ এক্ষেত্রে আমার যুক্তি- প্রতিবাদই যখন তখন ভাষা নরমের কি দরকার?

কবির মতে, ইংরেজ সরকার একদিন বেশ খাতির করে তাঁকে নাইটহুড দিয়েছিল ঠিকই কিন্ত যে সরকার দেশের লোকের উপর এমন অত্যাচার করতে পারে সে সরকারের দেওয়া খেতাব রাখার কোনও দরকার নেই৷ তাই জালিয়ানওলায়াবাদের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তিনি নাইড উপাধি ফেরত দিচ্ছেন৷ রাজনৈতিক নেতাদের পাশে না পাওয়ায় আর কোনও সভা করার তাগিদ অনুভব করেননি৷ তিনি তখন চেয়েছিলেন একেবারে নিজের মতো করেই লিখে প্রতিবাদ জানাতে৷ আর সেটাই করলেন৷

নাইটহুড ফেরত দিতে চেয়ে বড়লাট চেমসফোর্ডকে লেখা সেই চিঠিটিকে তার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অ্যান্ড্রুজকে৷ আর প্রশান্ত সেই চিঠির কয়েকটি কপি করে পাঠিয়ে দেন বিভিন্ন সংবাদপত্র ও পত্রিকার দফতরে৷ রাজনীতিবিদদের অদ্ভুত নীরবতার মধ্যে কবির একক প্রতিবাদ সেদিন অবশ্যই অন্যমাত্রা পেয়েছিল ৷ এর কিছুদিন পরে অবশ্য গান্ধীজি তাঁর অবস্থান বদলেছিলেন এবং পাঞ্জাবে গিয়েছিলেন৷ পাশাপাশি আবার রাজনীতির মোড় ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাই এই ইস্যুতে তাঁদের অবস্থান বদলে ফেলেছিলেন ৷ তবে জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারকে প্রথম ধাক্কাটা দেওয়ার সাহস কোন নেতা দেখাতে পারেননি। সেটা দেখিয়েছিলেন কবিগুরুই ৷

- Advertisement -

সপ্তাহের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ

বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নিক, প্রিয়াঙ্কা পাড়ি দিলেন আমেরিকায়

মুম্বই: বলি অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং হলিউড পপ তারকা নিক জোনাসের প্রেম পর্বের খবর প্রায়শই পেজ থ্রির শিরোনামে থাকে। কেবলমাত্র বি-টাউনই নয় হলিউডেও বেশ...

এক্সক্লুসিভ: প্রয়াণ দিবসে মহানায়কের নাতবৌ অভিনেত্রী দেবলীনা কুমারের ‘উত্তম-কথা’

পূর্বাশা দাস: তিনি শুধু নায়ক নন, তিনি মহানায়ক। আপামর বাঙালির কাছে উত্তম কুমার মানে আবেগ। মৃত্যুর এক চল্লিশ বছর পরেও সকলের মনের মনিকোঠায় রয়েছেন...

কপিলের শো থেকে বাদ পড়ায় মনের ব্যথা প্রকাশ ‘কর্মহীন’ সুমনার

মুম্বই: শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম অভিনয় জগতে পা রাখেন অভিনেত্রী সুমনা চক্রবর্তী। তিনি প্রথম স্ক্রিন শেয়ার করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খানের সঙ্গে। তখন সেই...

বাড়ির সর্বত্র এদের অবাধ বিচরণ, এই উপায়ে উৎপাত থেকে মুক্তি পান

খাস ডেস্ক: প্রায় সবার বাড়িতেই টিকটিকির ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটে। ঘরের আনাচে কানাচে, প্রায় সর্বত্র এদের অবাধ বিচরণ। একে দেখে নিরীহ প্রাণী মনে হলেও টিকটিকি কিন্তু...

খবর এই মুহূর্তে

জন্মদিনে পাঠকদের ঠাট্টা তামাসা ভরা উপহার লেখিকার

খাস খবর ডেস্ক: 'জন্মদিনে কি আর দেব তোমায় উপহার। বাংলায় নাও ভালবাসা, হিন্দিতে নাও প্যায়ার।' নিজের জন্মদিনেও পাঠকদের উপহার দিয়ে ভরিয়ে দিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক...

বিষমদ কাণ্ডে ১০ বছর পর দোষী সাব্যস্ত কুখ্যাত ডন খোঁড়া বাদশা

কলকাতা: সংগ্রামপুর বিষ মদ কাণ্ডে অবশেষে ১০ বছর পর প্রধান অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল আলিপুর আদালত। বিষ মদ কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত কুখ্যাত ডন নূর...

কালিয়াচকে বানভাসীদের পাশে দিদির তরুণ ভক্তরা

মালদা: ভিটে মাটি টুকুও কেড়ে নিয়েছে রাক্ষুসে গঙ্গা। তাই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসিরা। এমন অবস্থায় দু'বেলা পেটের জ্বালা মেটানোই দায় হয়ে পড়েছে...

ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মেলবোর্নে পরমের ‘সৌমিত্র’ অভিযান

পূর্বাশা দাস: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বাঙালির নস্টালজিয়া, বাঙালির আবেগ। তিনি বাঙালির 'অপরাজিত' 'ফেলুদা'। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের 'জার্নি'কে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।...