পুলিশ তো নিজেই অসহায়, বাংলা তবে কি দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কে ‘ত্রাসে’র নামোচ্চারণ করেন না, সেই আতঙ্ক যেন পুলিশ (Police) কর্মীর চোখে মুখে৷ তারই নিটফল, সাধারণ মানুষ নয়, এখন দুষ্কৃতীদের আঁচ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না উর্দিধারীরাও৷

0
15

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: ভিভিআইপি সামলানো থেকে শুরু করে পাড়ার ক্লাবের পুজোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা! দিনভর হাজারও কাজে ‘ব্যস্ত’ থাকতে হয় ওদের৷ তবু পান থেকে চুন খসার স্টাইলে কোথাও কোনও সমস্যা তৈরি হলে, ঘরে-বাইরে ‘যত দোষ নন্দ ঘোষে’র স্টাইলে যাবতীয় তীর ধেয়ে যায় পুলিশের (Police) দিকেই৷ কেন পুলিশের দিকে ধেয়ে যায় অভিযোগে মোড়া হাজারও তীর? সোমবার রাতে বসিরহাটের সাকচুড়া বাজারে দুষ্কৃতীদের হামলা ঠেকাতে গিয়ে বুলেটের ঘায়ে পুলিশ কর্মীর জখম হওয়ার ঘটনা যেন সেই সব প্রশ্নকেই ফের সামনে আনল৷ সঙ্গে জবাবও৷

শাসকের গোষ্ঠী কোন্দল নাকি শাসক বনাম বিরোধী সংঘর্ষ৷ ইতিমধ্যেই বুলেটের ‘মালিকানা’ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্ক৷ তবে সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে পাঠককে বলব, একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে যেতে৷ সেটা ২১ মার্চ৷ রামপুরহাটের বগটুই গ্রাম৷ গ্রামের মোড়ে বাইকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখ৷ আচমকা ধেয়ে এল আততায়ী৷ ভাদুকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল উপ প্রধানের৷ মুহূর্তে থানার অদূরের বসতিটাতে শুরু হল তাণ্ডব৷ বাইরে থেকে দরজার শিকল তুলে পুড়িয়ে হত্যা করা হল ১০জন নিরীহ গ্রামবাসীকে৷ ঘটনার পর অকুস্থলে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ জারি করেছিলেন৷

- Advertisement -

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে টানা ১০ দিন ধরে কেশপুরের বাঁশ ঝাড় থেকে শুরু করে নানুরের কলাবাগান, উদ্ধার হওয়া হাজারও রকমবা অস্ত্রভান্ডারের দৌলতে সামনে এল রাজ্য পুলিশের কৃতিত্ব৷ কিন্তু উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ‘অভিভাবকে’র খোঁজ আজও সেই অর্থে সামনে আসেনি৷ তার ফলেই বসিরহাটের ঘটনা কি না, তা নিয়ে নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুলতেই পারেন৷ তবে বসিরহাটের ঘটনা ফের একটা বিষয় স্পষ্ট করল, শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ক্ষেত্র বিশেষে বাংলার আইনের রক্ষাকারীরাও অসহায়৷ নয় কি?

বসিরহাটের অকুস্থলের ডিউটিতে থাকা প্রবীণ পুলিশ কর্মী ভবতোষ ঘোষের অসহায় উক্তি যেন সেকথাটাই জানান দিচ্ছে৷ আহত পুলিশ কর্মীকে পাঁজাকোলা করে হাসপাতালে এসে পৌঁছান ভবতোষ৷ সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তাঁর অসহায় উক্তি, ‘‘দু’পক্ষের ঝামেলা হচ্ছিল৷ গন্ডোগোল শুনে গিয়েছিলাম৷ আচমকা একটা ফায়ারিংয়ের আওয়াজ৷ তারপরই চোখের সামনে আমার সহকর্মীকে লুটিয়ে পড়তে দেখলাম৷’’ কি নিয়ে ঝামেলা? কারা ঝামলা করছিল? ‘‘জানি না. বলতে পারব না!’’- সরাসরি দায় এড়িয়েছেন ভবতোষবাবু৷

যা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কে ‘ত্রাসে’র নামোচ্চারণ করেন না, সেই আতঙ্ক যেন পুলিশ (Police) কর্মীর চোখে মুখে৷ তারই নিটফল, সাধারণ মানুষ নয়, এখন দুষ্কৃতীদের আঁচ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না উর্দিধারীরাও৷ স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, বাংলা কি তবে সত্যি দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত? কারণ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার গুরুভার যাঁদের কাঁধে, ক্ষেত্রবিশেষে সেই পুলিশই তো অসহায়! নয় কি!

আরও পড়ুন: বদলে গেল অভিষেকের সভার মাঠ, শুভেন্দুর ডেরায় প্রকাশ্যে শাসকের কোন্দল

https://play.google.com/store/apps/details?id=app.aartsspl.khaskhobor