দল বদলের হিড়িকে শুধু সাধারণ মানুষের নয়, ক্ষতি হচ্ছে রাজনীতিরও

0
219

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: একটি বদল এবং সেই সূত্রে আরও অনেক বদলের সাক্ষী থাকল ব্যারাকপুর এবং বাংলা। তিন বছর দু’মাসের সফর শেষে ফের ভোল বদলে ফেললেন অর্জুন সিং৷ সেই সূত্রে ‘বোল’ বদলে গেল তৃণমূল নেতাদের৷ এবং বিজেপিরও৷ শত্রু হল বন্ধু আর বন্ধু হল শত্রু!

তবু জল্পনার অবসান হল কই! একটি জল্পনার অবসানের সঙ্গে সঙ্গেই জন্ম নিল আরও হাজার জল্পনা৷ দল বদলে অর্জুনের রাজনৈতিক কেরিয়ারের কতখানি লাভ বা ক্ষতি হল, ব্যারাকপুরে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির কতখানি ক্ষতি হল, তৃণমূলেরই বা কতখানি লাভ হল, ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এবং ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায়’ উলঙ্গ রাজার মতো ব্যারাকপুরে তৃণমূলের একাংশ কর্মীদের উল্লাসেরও সাক্ষী থাকলাম আমরা৷ গেরুয়া থেকে কিভাবে সিংজির বাসভবন চোখের পলকে ঘাসফুলে মুড়ে ফেলা হল, সেই দৃশ্যও তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলেন ‘জনতা’৷

আর বসন বদলে অর্জুনের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘ভুল বোঝাবুঝিতে দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলাম।’’ সেই সূত্রেই ওয়াকিবহাল মহল সামনে এনেছে একাধিক প্রশ্ন৷ তৃণমূলে থেকে মানুষের কাজ করতে পারছিলেন না বলেই তো বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাতে মানুষের কতখানি উপকার হয়েছিল? জবাবটাও দিয়েছে ওই মহল৷ তাঁরা বলছেন, লাভ-ক্ষতির বির্তকে না গিয়েও সহজ পাটি গণিতের অঙ্কে বলা যায়-ভাটপাড়ার ২২ বছরের কাউন্সিলর, ১০ বছরের চেয়ারম্যান-বিধায়ক লোকসভার মুখে দল বদলানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দল বদলেছিলেন তৃণমূলের একাংশ নেতা, কর্মীও৷ সেই সূত্রেই এলাকায় তৃণমূল বিভাজিত হয়েছিল৷ তারই জেরে মাঝের সময়ে দু’পক্ষের একাধিক সংঘর্ষের সাক্ষী থেকেছে বাংলা৷ যার জেরে একাধিক কোল খালি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে৷

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নেতার দলবদলে জনতার কি লাভ হয়? ওয়াকিবহাল মহলে বলছে, এই প্রসঙ্গে খাঁটি সত্যটি এদিন জানিয়ে দিয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র৷ তখনও অর্জুন সিং অফিসিয়ালি দল বদলাননি৷ তারই আগে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘রাজনীতিতে কোনও স্থায়ী শত্রুতা হয় না। সবটাই নির্ভর করে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরে।’’

যা মনে করিয়ে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ‘রাজায় রাজায় লড়াই হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’বহুল ব্যবহারে জীর্ণ এই আপ্তবাক্য যে আজও ভীষণভাবে বাস্তব্য সত্য ফের দলবদলে অর্জুন সেটাই প্রমাণ করলেন৷ দল বদলের সঙ্গেই বদলে ফেলেছেন নিশানাও৷ দু’দিনে আগে পর্যন্ত যিনি সিবিআই, এনআইএ-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সেই তাঁর মুখেই শোনা গিয়েছে, ‘‘বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার করছে৷’’ ওই মহল বলছে, দল বদলের হিড়িকে শুধু সাধারণ মানুষের নয়, ক্ষতি হচ্ছে রাজনীতিরও৷ কারণ, আয়ারাম-গয়ারামের হিড়িকে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা৷ কারণ, দল বদলালে বুলিও যে বদলাতে হয়!

আরও পড়ুন: শুভেন্দুর কেস উঠলেই সিবিআই, বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেতা