ভারত হিন্দি রাষ্ট্রে পরিণত হলে, ক্রীতদাসের জীবনে ফিরতে হবে বাঙালি সহ সমস্ত অহিন্দি জাতিকে

হিন্দিকে সবার উপর চাপিয়ে দেওয়ার যে সর্বগ্রাসী চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধে অহিন্দি জাতির সমবেত প্রতিরোধ প্রয়োজন- এই দাবি সর্বত্র ধ্বনিত হচ্ছে, কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করে, রাজ্যের অধিকার খর্ব করে, বাংলা সহ সমস্ত অহিন্দি ভাষা ও জাতির অধিকারকে নস্যাৎ করে যেভাবে ভারতে হিন্দিভাষীদের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে আরএসএস ও বিজেপি, তার বিরুদ্ধে আপামর বাঙালি সোচ্চার হবে কিনা তা সময় বলবে। গত কয়েকবছরে বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান নজর কেড়েছে সারা ভারতের, বাংলার দিকে নজর সমস্ত অহিন্দি রাজ্যেরই।

0
962

  কৌশিক মাইতি, কলকাতা

লেখার শুরুতেই মজার ছলে স্বাধীনতা পরবর্তী এমন একটা ভারত রাষ্ট্রের কল্পনা করা যাক – যেখানে কোনও ইংরেজি নেই, হিন্দি সর্বত্র বাধ্যতামূলক। বাংলা, তামিল, কন্নড়, ওড়িয়া সহ কোনও ভাষায় কোনও চাকরির পরীক্ষা হয় না, পড়াশোনাও হয় না৷ সমস্ত সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র হিন্দিভাষী, পুলিশে-প্রশাসনে সর্বত্র হিন্দিভাষী। কল্পনা করেই ভয়ের স্রোত বয়ে যাচ্ছে ধমনীতে? ভাবুন, হিন্দি ভারতের রাষ্ট্রভাষা হলে তামিলনাড়ু এত উন্নত হত? মহারাষ্ট্র উন্নত হত? বাঙালি জাতির অস্তিত্ব থাকত? এত কালজয়ী বাংলা সিনেমা, সাহিত্য লেখা হতো? বিশ্ব- গবেষণার মঞ্চে বাঙালির এই দুরন্ত পারফরম্যান্স পাওয়া যেত? হিন্দিভাষীদের রাজত্ব শুনে বিশেষ করে মহিলারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন? আপনার দুঃস্বপ্নের এই হিন্দিবলয় কেন্দ্রিক পিছিয়ে পড়া ভারতই বানানোর স্বপ্ন দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার!

- Advertisement -

স্বাধীনতারও আগে থেকে ভারতের হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা যে স্বপ্ন দেখেছিল, আজ তারা সেই স্বপ্নপূরণ করতে উদ্যত। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২০ জন লোকসভার সাংসদ এবং ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদ অর্থাৎ ৩০ জন সাংসদ নিয়ে গঠিত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি ভারতের মাননীয়া রাষ্ট্রপতির কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন সরকারি ভাষার বিষয়ে৷ ইংরেজিকে সরিয়ে হিন্দিকে একমাত্র সরকারি ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত কাজে, বিজ্ঞাপনে, চাকরিতে একমাত্র সরকারি ভাষা হিসাবে হিন্দি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী বা অফিসার ইচ্ছাকৃতভাবে দৈনন্দিন কাজকর্মে হিন্দি ব্যবহার করেন না, তার জন্য শাস্তির কথাও বলা হয়েছে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে তৈরি এই রিপোর্টে। কর্মী, অফিসার এবং আমলাদের Annual Performance Report ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের দৈনন্দিন কাজে হিন্দি ব্যবহার না করলে। কেন্দ্র সরকারের সমস্ত Techincal Institutes (যেমন- IIT, IIM, AIIMS ইত্যাদি) এবং Non-Technical Institutes (যেমন- কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, নভোদয় বিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি) সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দিকে পড়াশোনার মাধ্যম এবং সমস্ত কাজের ভাষা হিসাবে ব্যবহারের কথা জোরালো ভাবে বলা হয়েছে এই রিপোর্টে।

শিক্ষার পাশাপাশি সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক ইংরেজি পেপার তুলে দিয়ে তার পরিবর্তে বাধ্যতামূলক হিন্দি পেপার রাখার সুপারিশ করা হয়েছে এই রিপোর্টে। হিন্দির পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে কোনও কেন্দ্র সরকারি অফিসে চাকরি পাওয়া দিবাস্বপ্ন হয়ে যাবে। প্রাত্যহিক কাজে হিন্দি ব্যবহার বেশি করলে, হিন্দির জ্ঞান বেশি হলে তাকে বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ইনসেনটিভ দেওয়ার মতো লোভনীয় সুযোগও থাকবে। কেন্দ্র সরকারের সমস্ত চিঠি, বিজ্ঞাপন, সমস্ত প্রকাশনা সহ সমস্ত কিছুর ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে হিন্দি ভাষা। খুব জরুরি দরকার ছাড়া কোনওক্ষেত্রেই ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা যাবে না!

হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোতে অবস্থিত হাইকোর্ট এবং অন্যান্য আদালতের সব কাজকর্ম হবে হিন্দিতে- মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে পেশ করা সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে এ কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। এমন কী, ভারতের সমস্ত রাজ্য যাতে হিন্দির ব্যবহার বাড়ায়, সে কথাও তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে। অহিন্দি রাজ্যগুলিকেও ক্রমাগত বাড়াতে হবে হিন্দির ব্যবহার। হিন্দিকে রাষ্ট্র সংঘের একটি সরকারি ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে ভারত সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। বিদেশ মন্ত্রক এবং বিভিন্ন দূতাবাসের কাজকর্মও যথাসম্ভব হিন্দি ভাষায় করতে চায় ভারত সরকার।

অর্থাৎ, এই ভারতে ক্রমশ অধিকার হারাতে থাকা অহিন্দি জাতিগুলোর উপর নিষ্ঠুর করাঘাত হানতে চলেছে ভারত সরকার। সমস্ত অহিন্দি ভাষা এবং অহিন্দি জাতির যতটুকু অধিকার বেঁচে ছিল তা পুরোপুরি ধ্বংস করার নীল নকশা বানিয়ে ফেলেছে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি। মাত্র ২৬% মানুষের মাতৃভাষাকে (৪২% মানুষের প্রথম ভাষা) ১০০% ভারতবাসীর উপর জোর করে চাপিয়ে চাকরি- কাজ- ভাষা- স্বাধীনতা সব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। ‘নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান- বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান’ বা ‘Unity in Diversity’ কথাগুলো বইয়ের পাতায় বেঁচে থাকবে কিংবা আগামীতে পুরোপুরি নিখোঁজ হয়ে যেতে পারে।

স্বাধীন ভারতের জন্মলগ্ন থেকেই হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র রপ্ত করেছে দিল্লি। কংগ্রেসের মধ্যেও হিন্দি লবি প্রচন্ড শক্তিশালী ছিল৷ বিজেপি পুরো দলটাই হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা চালিত। হিন্দিকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা করার জন্য Constituent Assembly তে ডিবেট এমনকি ভোটাভুটিও হয়েছিল। ভারতের মতো বহু ভাষিক, বহুজাতিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রভাষা কিভাবে থাকতে পারে? সেবার আইনসভায় ঠেকানো গেছিল এই ভয়ংকর চক্রান্ত। রাষ্ট্রভাষা না হলেও, হিন্দিকে অতিরিক্ত প্রাধান্য পাইয়ে দিয়েছিল আইনসভা। ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪৯ সালে কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলিতে United Province এর R. V. Dhulekar বলেছিলেন, “people who do not know Hindi, do not deserve to live in India.” ইংরেজিকে হিন্দির সঙ্গে সরকারি ভাষা হিসাবে রাখা যায় কি না, সেই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেছিলেন, “When we take into consideration the long history of the growth of this national language you will see that it is not on this ground alone that I am going to oppose that the official language of the country should not continue for fifteen years. I feel that the lease of another fifteen years will not be in the national interest.”

সেদিন আইনসভার প্রধান আম্বেদকরের উদ্দেশ্যে ওড়িশার Sarangdhar Das বলেছিলেন, “Sir, may I make the suggestion that the provinces which are non-Hindi speaking should be given more opportunity to speak. If only the Hindi-speaking people are given an opportunity to advertise their case……….” অর্থাৎ স্বাধীন ভারতের সংবিধান প্রণয়নের শুরু থেকেই হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছিল ভারতের আইন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে। বিপুল বিতর্ক ও বাক-বিতণ্ডায় হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করা থেকে আটকানো গিয়েছিল। আইনসভায় দক্ষিণ ভারত সহ নানা অহিন্দি জাতির প্রতিনিধিদের অনেকের অনবদ্য লড়াইয়ের ফলে হিন্দি রাষ্ট্রভাষা হয়তো হয়নি, কিন্তু হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা ছিনিয়ে নিয়েছিল অনেক কিছুই। ডঃ বি আর আম্বেদকরের নেতৃত্বে যে সংবিধান তৈরি হয় এবং জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বাধীন ভারত রাষ্ট্র যে সংবিধান গ্রহণ করে- তার ৩৪৩ নং ধারায় হিন্দি এবং ইংরেজিকে কেন্দ্র সরকারের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বলা হয়। কিন্তু, যে সর্বনাশা কথাটি লেখা হয় , তা হল , সংবিধান লাগু (২৬ শে জানুয়ারি, ১৯৫০) হওয়ার ১৫ বছর পর অর্থাৎ ২৬ শে জানুয়ারি, ১৯৬৫ -র পর হিন্দিই হবে ভারত সরকারের একমাত্র সরকারি ভাষা। ১৯৫০-১৯৬৫ এই সময়ে হিন্দি ভাষার ব্যবহার বাড়ানো হবে বিপুল পরিমানে।

সংংবিধানের ৩৪৩ নং ধারায় বলা হয়েছে-

” (1) The official language of the Union shall be Hindi in Devanagari script. The form of numerals to be used for the official purposes of the Union shall be the international form of Indian numerals.

(2) Not withstanding anything in clause (1), for a period of fifteen years from the commencement of this Constitution, the English language shall continue to be used for all the official purposes of the Union for which it was being used immediately before such commencement: Provided that the President may, during the said period, by order authorise the use of the Hindi language in addition to the English language and of the Devanagari form of numerals in addition to the international form of Indian numerals for any of the official purposes of the Union.”

সংবিধানের ৩৫১ নং ধারায়, হিন্দি ভাষার প্রচার ও ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্র সরকার পদক্ষেপ নেবে- এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া আছে।

“It shall be the duty of the Union to promote the spread of the Hindi language, to develop it so that it may serve as a medium of expression for all the elements of the composite culture of India and to secure its enrichment by assimilating without interfering with its genius, the forms, style and expressions used in Hindustani and in the other languages of India specified in the Eighth Schedule, and by drawing, wherever necessary or desirable, for its vocabulary, primarily on Sanskrit and secondarily on other languages.”

সংবিধানের ৩৪৩ এবং ৩৪৪ নং ধারা মেনে ১৯৬৩ সালে পাশ হয় “The Official Language Act, 1963”. এই আইনে বলা হয়, “Notwithstanding the expiration of the period of fifteen years from the commencement of the Constitution, the English language may, as from the appointed day, continue to be used in addition to Hindi,”

এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয় ভারতের নানা অহিন্দি রাজ্যে। তামিলনাড়ুর DMK দলের তরফে রাজ্যসভায় একমাত্র সাংসদ C. N. Annadurai “The Official language Act, 1963” তে থাকা “may” শব্দটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান রাজ্যসভায়। “may” এর পরিবর্তে তিনি “shall” শব্দ যোগ করতে বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর থেকে প্রতিশ্রুতি চান যাতে কেন্দ্র সরকার হিন্দির সাথে ইংরেজিকেও স্থায়ীভাবে সরকারি ভাষা হিসাবে ব্যবহার করে৷ কিন্তু কংগ্রেসে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীদের সংখ্যাধিক্যের কারণে এই আইন কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই পাশ হয়ে যায়। বিক্ষোভ শুরু করেন আন্নাদুরাই এবং তাঁর দলের কর্মীরা৷ অবশেষে প্রধানমন্ত্রী ১৯৬৫ সালের পরও ইংরেজিকেও সরকারি ভাষা হিসাবে ব্যবহারের কথা বলেন। কিন্তু ১৯৬৪ সালে নেহেরুর মৃত্যুর পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করার কেউ ছিলেন না। অন্যদিকে সেই সময়ই কংগ্রেস শাসনাধীন তামিলনাড়ুর বিধানসভায় “Three Language Formula (English-Hindi-Tamil)” বিল পেশ করেন M Bhaktavatsalam.

কংগ্রেসের এই হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রে শঙ্কিত হয়ে ওঠে তামিলরা৷ আন্নাদুরাইয়ের নেতৃত্বে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী আন্দোলন। ২৬ শে জানুয়ারী, ১৯৬৫ দিনটিকে “শোক দিবস” হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ২৫ শে জানুয়ারী আন্নাদুরাই সহ প্রায় ৩০০০ বীর তামিল গ্রেপ্তার হন। মিলিটারি নামানো হয়, গুলিতে মৃত্যু হয় প্রায় কয়েকশো তামিলের। ফাটল ধরে কংগ্রেসে। তামিল হিসাবে মাথা উঁচু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দেন তামিলনাড়ুর দুই কংগ্রেসি মন্ত্রী C Subhramaniam এবং OV Alagesan. হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের মূর্ত প্রতীক প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী দুই তামিল মন্ত্রীর ইস্তফা পত্রপাঠ গ্রহণ করে নেন। কিন্তু তা খারিজ করে দেন রাষ্ট্রপতি সর্বাপল্লি রাধাকৃষ্ণন।

তামিলনাড়ুতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও নানা রাজ্যে প্রতিবাদের ফলে অবশেষে মাথানত করেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ১১ ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৫ তারিখে তিনি বেতার বার্তায় নেহেরুর প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা বলেন। ১৯৬৭ সালে সংশোধন করা হয় “The Official Language Act, 1963” আইনটিকে। ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসাবে রাখা হয় হিন্দির সাথে। তামিলরা সেদিন মাথা উঁচু করে লড়েছিল। আন্নাদুরাই সেদিন অহিন্দি জাতির লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাই আজ অহিন্দি জাতির যতটুকু অধিকার বেঁচে আছে, তা সি এন আন্নাদুরাই, দক্ষিণ ভারতের বহু সাংসদ এবং অন্যান্য অহিন্দি জাতির কিছু সাংসদের সেদিনের প্রাণপণ লড়াইয়ের জন্য। সেজন্য আজও অহিন্দি জাতির ছেলেমেয়েরা অন্তত ইংরেজিতে কেন্দ্র সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে, বাধ্যতামূলক ভাবে হিন্দিতে এখনও দিতে হয় না৷ কংগ্রেসের মধ্যে থাকা হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা যে ভারতের স্বপ্ন দেখেছিল, তাতে হিন্দিভাষীরা ছিল প্রভু, বাকিরা দাস৷ অর্থাৎ ব্রিটিশ গিয়ে হিন্দুস্তানীরা শাসন করবে অহিন্দি জাতির মানুষকে৷

কিন্তু কংগ্রেসে অনেক প্রতিবাদী ছিলেন যারা বহুত্ববাদ ও প্রতিটা ভাষার অধিকারের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু বিজেপির চালিকাশক্তি RSS র তত্ত্বই হল- “হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান”, অর্থাৎ ভারতকে একভাষিক রাষ্ট্রে পর্যবসিত করা। সমস্ত অহিন্দি ভাষাকে খুন করে হিন্দির জয়রথ চলবে, এই স্বপ্ন দেখে আরএসএস। বর্তমান বিজেপি যেভাবে চলছে, তাতে কারোর সাহস নেই মোদী-শাহের বিরুদ্ধে কিছু বলার। তাই বিজেপি শাসনাধীন হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী দিল্লি নখ-দাঁত বের করেছে ভারতের বহুত্ববাদ, চাকরি-বাজার-পুঁজিতে অহিন্দি জাতির অধিকারকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে৷ সে উদ্দেশ্যেই অমিত শাহর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি অহিন্দি জাতি বিরোধী, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরোধী এমন একটি ভয়ংকর রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করলেন অবলীলায়, কমিটির ৩০ জন সাংসদের বাধা দিলেন না কেউই।

ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেস তার অতীত কর্মফলে জর্জরিত৷ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না৷ বর্তমানের অহংকারী হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীদেরও আগামীর ইতিহাস হয়ত ক্ষমা করবে না৷ কংগ্রেস সেই যে ১৯৬৭ সালে তামিলনাড়ু থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আজও ফেরেনি। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়াতে দক্ষিণ ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কংগ্রেস, হিন্দি বলয়ে কংগ্রেসের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বর্তমানে সংসদীয় কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে রাষ্ট্রপতিকে, ১৯৭৬ সালে ভাষা সংস্ক্রান্ত এই সংসদীয় কমিটি তৈরি হয়েছিল কংগ্রেস আমলে পাশ হওয়া “The Official Language Act, 1963” অনুসারেই। ১৯৬৩ র আইনের ৪ নং অনুচ্ছেদ মেনেই এই কমিটি তৈরি।

“Committee on Official Language-

After the expiration of ten years from the date on which section 3 comes into force, there shall be constituted a Committee on Official language, on a resolution to that effect being moved in either House of Parliament with the previous sanction of the President and passed by both Houses. 1. The Committee shall consist of thirty members, of whom twenty shall be members of the House of the people and ten shall be members of the Council of States, to be elected respectively the members of the House of the People and the members of the Council of States in accordance with the system of proportional representation by means of the single transferable vote.
2.It shall be the duty of the Committee to review the progress made in the use of Hindi for the official purposes of the Union and submit a report to the President making recommendations thereon and the President shall cause the report to be laid before each House of Parliament, and sent to all the State Governments.”

গত ৭০ বছর ধরে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী দিল্লি সমস্ত কেন্দ্র সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করে চলেছে বাঙালি সহ প্রতিটা অহিন্দি জাতিকে। ২০১৯ এর তথ্য অনুযায়ী, UPSC পাশ করা ৮১২ জনের ৪৮৫ জন হিন্দি মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রী, তার সঙ্গে যোগ হবে ইংরেজি মাধ্যমে পড়া হিন্দিভাষীরা। কেন্দ্র সরকারের নানা মন্ত্রক, রেল, সেনাবাহিনী, RPF, CISF, BSF, Bank সহ সর্বত্রই হিন্দিভাষীদের রমরমা। সংখ্যার তুলনায় কেন্দ্র সরকারি চাকরিতে অহিন্দি জাতির প্রতিনিধিত্ব নগণ্য। এমন কী, বাংলারও নানা ব্যাংকে বাঙালি কর্মীর সংখ্যা দ্রুত গতিতে কমছে। বাংলার কোনও রেলস্টেশনে বাঙালি RPF চোখে পড়ে না৷ হাতে গোনা ৫-১০ জন বাঙালি IAS-IPS তৈরি হচ্ছে প্রতিবছর। অথচ, ঐতিহাসিকভাবে এ কথা সত্য যে ভারত রাষ্ট্র বাঙালির রক্তে স্বাধীন হয়েছে । ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্টের আগে বাঙালি ভাবেনি, নিজেদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পাওয়া রাষ্ট্রেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে তাকে বাঁচতে হবে। এবার বিজেপি শাসিত হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী দিল্লি বাঙালি সহ সমস্ত অহিন্দি জাতিকে ক্রীতদাস বানানোর বন্দোবস্ত করছে। অর্থাৎ বাঙালি থাকবে, কিন্তু চাকরি থাকবে না, অধিকার থাকবে না, পুঁজি থাকবে না।

একটা মিথ প্রচলিত আছে- হিন্দি জানলে কাজের সুযোগ বাড়ে। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। হিন্দি জানার সঙ্গে বাঙালির কাজের সুযোগ ব্যস্তানুপাতিক। গত কুড়ি বছরে বাঙালি আগের থেকে অনেক বেশি হিন্দি শিখেছে, কিন্তু বাঙালির চাকরি-কাজ দ্রুত গতিতে কমেছে। আসানসোল- খড়্গপুর- দুর্গাপুর- কলকাতা- শিলিগুড়ি- হাওড়ার বড় অংশের শহুরে বাঙালি পর্যাপ্ত হিন্দি জানে। কিন্তু গত কুড়ি বছরে প্রতিটা বড় শহর হিন্দি-ঊর্দুভাষীদের দখলে চলে গেছে আরও বেশি করে। বাঙালির চাকরি কমেছে, কাজ কমেছে, ব্যবসা কমেছে। কারণ অহিন্দিভাষীদের হিন্দি শেখা মানে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের বাজার বৃদ্ধি হওয়া।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, বাঙালিরা সকলে হিন্দি জানলে কোনও কোম্পানীকে কাস্টোমার কেয়ারে বাংলা জানা বাঙালি কর্মী নিয়োগ করতে হবে না, শুধুমাত্র হিন্দিভাষী কর্মী দিয়েই কাজ-কর্ম সম্পন্ন করা যাবে। এভাবেই ব্যাঙ্ক -রেলসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন বেসরকারি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিতে অহিন্দিভাষী কর্মীর সংখ্যা কমছে এবং হিন্দিভাষী কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ এটা সর্বত্র হচ্ছে। অহিন্দি জাতি হিন্দি জানার অর্থ হল হিন্দি বলয়ের মানুষ বিনা কষ্টে, কোনও সমস্যা ছাড়া অহিন্দি জাতির এলাকায় কাজ করতে পারে। সরকারি চাকরি ছাড়াও যেমন বাংলার প্রতিটা শহরাঞ্চলের ফুটপাত থেকে বড় ফ্যাক্টরিতে কাজ থেকে বেসরকারি কোম্পানীতে চাকরি- পরিবহন সব কিছু দখল হয়ে যাচ্ছে অতি সহজেই। যে পুঁজি ভারত রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, ভারত এক ভাষার রাষ্ট্র হলে তাদের সুবিধা হয়, এই কথাটা বোঝা জরুরি। কারণ ভাষার অন্যতম নিয়ন্ত্রক পুঁজি।

হিন্দিকে প্রাধান্য দেওয়ার যুক্তি হিসাবে বলা হয়, ভারত বহু ভাষিক রাষ্ট্র, তাই একটা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ থাকা উচিত সকলের সুবিধার্থে -তাই সকলের হিন্দি শেখা উচিত। আবার অন্যদিকে আমাদের ইংরেজি শিখতেই হবে বিশ্বের সঙ্গে, বিশ্ব পুঁজির সঙ্গে এবং বিশ্বব্যাপী জ্ঞানের সাথে নিজেদের জুড়তে। তাহলে সেই ইংরেজিকেই কমন ল্যাঙ্গুয়েজ করতে সমস্যা কাদের ? ইংরেজির সাথে হিন্দি কেন শিখতে হবে? ইংরেজি ছাড়াও বাধ্যতামূলক ভাবে আরও একটি ভাষা শেখা প্রয়োজন কাদের স্বার্থে ? তার সঙ্গে একথা বলা যায় যে, হিন্দি অনেকের মাতৃভাষা, কারোর মাতৃভাষা সরকারি ভাষা হিসাবে বাধ্যতামূলক হলে তারা অনৈতিক ভাবে অতিরিক্ত সুবিধা পায়, বঞ্চিত হয় বাকিরা। ভাষা রাজনীতির দরজার খুলে যায়। ইংরেজি ভারতের কারওর মাতৃভাষা না এবং প্রত্যেক জাতির থেকেই তা সমদূরবর্তী। তাই সকলের কাছে সমান সুযোগ। কিন্তু কেউই অনৈতিক সুবিধা পায় না সেক্ষেত্রে।

হিন্দি ভারতের লিংক ল্যাঙ্গুয়েজ হবে- এর বিরোধিতায় C N Annadurai অসাধারণ একটি কথা বলেছিলেন, “Since every school in India teaches English, why can’t it be our link language? Why do Tamils have to study English for communication with the world and Hindi for communications within India? Do we need a big door for the big dog and a small door for the small dog? I say, let the small dog use the big door too!”

হিন্দিকে সবার উপর চাপিয়ে দেওয়ার যে সর্বগ্রাসী চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধে অহিন্দি জাতির সমবেত প্রতিরোধ প্রয়োজন- এই দাবি সর্বত্র ধ্বনিত হচ্ছে, কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করে, রাজ্যের অধিকার খর্ব করে, বাংলা সহ সমস্ত অহিন্দি ভাষা ও জাতির অধিকারকে নস্যাৎ করে যেভাবে ভারতে হিন্দিভাষীদের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে আরএসএস ও বিজেপি, তার বিরুদ্ধে আপামর বাঙালি সোচ্চার হবে কিনা তা সময় বলবে। গত কয়েকবছরে বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান নজর কেড়েছে সারা ভারতের, বাংলার দিকে নজর সমস্ত অহিন্দি রাজ্যেরই।

সেদিন যেমন কন্নড় জাতির মহানায়ক কুভেম্পু বলেছিলেন, “Neheru is not greater than Kannada. Let him learn Kannada or get his speeches translated.”, আজ বাঙালির কাছে স্পষ্ট ভাষায় তার মাতৃভাষা, জাতির অধিকারের কথা বলা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে কিনা তা নিয়ে সর্বস্তরে আলোচনা জরুরী। বাঙালি জাতি কি আগামীতে এমন কুভেম্পুদের জন্ম দিতে পারবে? প্রশ্নগুলো বাঙালির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে।

আজকের দিনটা ১৯৭৯ সালেই দেখতে পেয়েছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র৷ ভবিষ্যত দ্রষ্টা, অর্থনীতিবিদ, বামপন্থী তাত্ত্বিক অশোক মিত্র তাই বলেছিলেন “”ভাষার জন্য আন্দোলন টিকে থাকার আন্দোলনেরই সমার্থক। ভাষা না টিকলে আমরা নিজেরাই টিকব না। অতএব প্রয়োজন দেখা দিলে অতি অপ্রিয় সংগ্রামেই আমাদের অবতীর্ণ হতে হবে।”

যে ঐতিহাসিক সময় এসেছে, সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যে প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে – বাঙালি সহ সমস্ত অহিন্দি জাতি কি প্রথমবারের মতো ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে?

বিজেপি-আর এস এসের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে কতটাই বা এক হবে অহিন্দি রাজ্যে রাজনীতি করা মূল দলগুলো? ভাষা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির রিপোর্টের কথা প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস দল। রাহুল গান্ধী কর্ণাটকে “ভারত জোড়ো” যাত্রায় গিয়ে প্রতিটা ভাষার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছেন, কন্নড় ভাষার পক্ষে লড়বেন তিনি- এমনটাই সংবাদমাধ্যমে বলেছেন। অতীতের পাপক্ষয় করতে হলে, কংগ্রেসকে আরও অনেক বেশি রাস্তায় ও সংসদে সোচ্চার হতে হবে। ট্যুইটে প্রতিবাদ করেছে CPIM, দলের অফিসিয়াল ট্যুইটার একাউন্ট থেকে বলা হয়েছে, “We strongly oppose these efforts which stem from the RSS conception of one nation, one culture, one language. It runs contrary to the spirit of the Indian Constitution and our country’s linguistic diversity.” ইতিমধ্যে কেরালার বাম মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর ভাষায় চিঠি দিয়েছেন।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী M K Stalin গর্জে উঠেছেন, রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচী করেছে ডিএমকের ছাত্র ও যুব শাখা। কর্ণাটকের কন্নড় জাতীয়তাবাদী সংগঠন কন্নড়া রক্ষণাভেদিকে তীব্র প্রতিবাদ করেছে, সোচ্চার জেডিএস এবং কংগ্রেসও। প্রতিবাদ করেছে তৃণমূলও। দলের মুখপাত্র সুখেন্দু শেখর রায় বলেছেন, “এরা (বিজেপি) সারাদেশে হিন্দিভাষীদের আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে। সর্বভারতীয় পরীক্ষা যদি হিন্দিতে হয় তাহলে অহিন্দিভাষীরা কীভাবে চাকরি পাবে?” দলের মুখপত্রে বিস্তারে সংসদীয় কমিটির এই রিপোর্টের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। চেন্নাই গিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী M K Stalin এর সঙ্গে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এই প্রতিবাদ পর্যাপ্ত নয়, এত সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। বাংলায় শহরাঞ্চলগুলো, মূলত রাজধানী কলকাতায় যেহেতু হিন্দিভাষী ভোট প্রায় ৫০% এর কাছাকাছি, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলির ভাষায় এটা একটা বড় ভোটব্যাঙ্ক ৷ তাই সব রাজনৈতিক দল হিন্দি তোষণে ব্যস্ত। হিন্দি তোষণ করা এবং হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা একসঙ্গে সম্ভব না। সর্বভারতীয় স্তরে সমস্ত অহিন্দি জাতির রাজ্য দল (যেমন DMK, YSR Congress, TRS, TDP, JDS, BJD, AGP, TMC, আকালি দল), CPIM এবং কংগ্রেসকে সমস্বরে রাস্তায়, সামাজিক মাধ্যমে, সংবাদমাধ্যমে এবং পার্লামেন্টে সোচ্চার হতে হবে। অহিন্দি জাতির প্রতিটা মানুষ, নানা গণ সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিল্পী, সাহিত্যিক সকলে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের সময় এসেছে। কারণ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে এটা বাঙালি সহ সমস্ত অহিন্দি জাতির অস্তিত্বের লড়াই, অধিকারের লড়াই, আত্মসম্মানের লড়াই। এটা ফেডেরাল স্ট্রাকচার, রাজ্যের অধিকার, বহুত্ববাদ, ভারত রাষ্ট্রের ধারণা বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম।

ইতিমধ্যেই কালজয়ী কবি জয় গোস্বামী, কিংবদন্তি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, পুরাণবিদ নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ির মতো বিশিষ্টরা এবং বহু রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী সোচ্চার হয়েছেন। বাংলায় এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বাংলা পক্ষ। সংগঠনটির লড়াই ইতিমধ্যেই হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের জন্য সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ছাপ ফেলেছে। বাংলায় আরও কিছু সংগঠন লড়াই করছে।

কংগ্রেস পাপের সাজা পাচ্ছে, তারা পাপক্ষয় করতে চায়। বর্তমান শাসক দলকেও ভবিষ্যত শিক্ষা দেবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আরএসএস-বিজেপি সংযত না হলে আগামীতে ভারতের নানা রাজ্যে ১৯৬৫ র তামিলনাড়ুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলে অবাক হব না, সে আভাস এখন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে।

 (লেখক বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক৷ নিবন্ধের বিষয়ে মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব, ব্যক্তিগত৷ )