গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে এল CBI, লকডাউন টাটা বাই-বাই

সোমবার দুপুরে লকডাউনের মধ্যেই কলকাতার রাজপথে যত্রতত্র,রাজ্যের সব জেলার এখানে সেখানে হাজার হাজার মানুষের প্রবল জটলা চলছে

0
260

কাজি মাসুম আখতার: সোমবার দুপুরে লকডাউনের মধ্যেই কলকাতার রাজপথে যত্রতত্র,রাজ্যের সব জেলার এখানে সেখানে হাজার হাজার মানুষের প্রবল জটলা চলছে। চলছে তুমুল ক্ষোভ বিক্ষোভ কর্মসূচি। তবে করোনার অব্যবস্থা, অনিয়ম, চিকিৎসার সংকট বা আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে এই ক্ষোভ নয়, নারদার ঘুষ মামলায় অভিযুক্ত(নাকি?) রাজ্যের স্বনামধন্য চারজন নেতা মন্ত্রীকে সিবিআই কেন এই করোনার আবহে গ্রেফতার করে রাজনৈতিক কারণে আক্রান্ত করেছে।

এই অভিযোগে সরকারের সযত্নলালিত করোনাবিধি বা লকডাউনকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গায়ে গা, মুখের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে তীব্র আওয়াজে করোনার ভাইরাস বিনিময়ের সু বন্দোবস্ত করে তীব্র আন্দোলন চলেছে। লক্ষ লক্ষ রাজ্যবাসী করোনা প্রতিরোধে নিযুক্ত পুলিশ প্রশাসন আজ শুধুই দর্শক। হায় রে সদিচ্ছা! হায় রে মানুষকে বাঁচানোর সরকারি দায়বদ্ধতা! আবার উন্মোচিত হল মুখোশ।

এই ক’দিন আগেই বিধান সভা নির্বাচনের মাস কয়েকের সময়জুড়ে নিজেদের ক্ষমতায়নের স্বার্থে শাসক বিরোধী সব দলের নেতা নেত্রীদের জনসাধারণকে বেপরোয়া হওয়ার দীক্ষা দিয়ে তাদের করোনার কূপে নিক্ষিপ্ত করার তীব্র প্রতিযোগিতা দেখেছিলাম। আরও দেখেছিলাম নির্বাচন কমিশনসহ প্রায় সকল ভোট ভিক্ষুক নেতা নেত্রীদের চরম দায়িত্বহীনতা, মানব সেবার, গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গভঙ্গি, ভনিতা। সাধের মিডিয়াও তখন করোনা আতঙ্ককে বেমালুম ভুলে অবোধ আম জনতার টিআরপি পাওয়ার লোভে তখন শুধু ভোট রাজনীতির কেচ্ছা কাহিনী নিয়েই মশগুল ছিল।

ভোট গেল। গেল রাজনৈতিক খুন, লুটপাট, লাশ, বোমা, আগুন। গেল ভোট, সন্ত্রাস। এল মৃত্যুর ঢালি নিয়ে মহামারী করোনার নতুন ঢেউ। এই প্রাণঘাতী ঢেউ ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছে রাজ্যবাসীর শত শত প্রাণ। কেড়ে নিয়েছে এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য সচিবের ভাইদের প্রানও। তবুও আজকের এই অতিমারীপ্রসূত লকডাউনের আবহে হাজার হাজার মানুষের রাস্তায় নেমে করোনা বিধিকে চরম উপেক্ষা করাকে স্তব্ধ করতে রাজ্যের কোনও নেতা মন্ত্রী এমনকী, মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এখনও একটিও প্রতিবাদ, পদক্ষেপ বা সাবধানবাণী উচ্চারিত হতে শুনলাম না।

এই হল দেশবাসীর স্বার্থে এই পোড়া দেশের রাজনীতিকদের মানবিক, প্রশাসনিক দায়! এই কি আমাদের রাজধর্ম! পরম্পরা! এটি গেল রাজ্যের রাজধর্ম! তাহলে কেন্দ্রের রাজধর্ম?

দুর্নীতি দমনে এতদিন অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে সিবিআই হঠাৎ এই অতিমারির আবহে, যখন মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, ঠিক তখনই এ হেন কঠিন সিদ্ধান্ত কেন? সততার ইস্যুকে হাতিয়ার করে দীর্ঘ দিনের অমীমাংসিত অভিযুক্তদের কয়েকজনকে এই মুহুর্তেই গ্রেপ্তার কি খুব প্রয়োজন ছিল? এই সময় নির্বাচন কীসের ইঙ্গিত? যেচে রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ নেওয়া কি খুব প্রয়োজন ছিল? অপর দিকে, এই লক ডাউনের আবহে আবেগপ্রবণ অন্ধ রাজনীতিঅন্তপ্রাণ পার্টিকর্মী সমর্থকের দল, যারা রং বদলের সঙ্গে সঙ্গে, ক্ষমতাশালীদের কাছে নিজেদের আনুগত্য প্রমাণে প্রাণ দিতেও কুণ্ঠিত হন না, তাদেরকে রাস্তায় লেলিয়ে দিয়ে কি মহৎ উদ্দেশ্য সাধিত হচ্ছে?

আসলে সকলের একটিই উদ্দেশ্য- রাজনৈতিক মুনাফা। তাই তো দেখলাম এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন দলের জয়ী বিধায়কদের প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত আসামি। হ্যাঁ, পার্টি সুপ্রিমরা এদেরই ভোট লড়তে টিকিট দেয়। কারণ ভোট বৈতরণী পার করতে এরাই যে সম্পদ! বাস্তবে তাদেরকেই বিপুল ভোটে জয়ী করেছে গণতন্ত্র রক্ষায় সদা প্রহরী ভোটার জনগণ! সুতরাং তাদের নেতারা এমন হওয়াইতো স্বাভাবিক! তাই না? এ হেন জননেতারা নিজে চুরি করবে বা সহযোগী ভক্তদের চুরি করতে সাহায্য করবে- না চোর ধরবে? তার উত্তর জনগন যে ভালোভাবেই জানেন। তাই দুর্নীতির প্রশ্নে এ দেশের রাজনীতিকদের তেমন ড্যামেজ কন্ট্রোলের প্রয়োজন হয় না।পরের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক জনগণ ঢাকঢোল পিটিয়ে তাদের জয়লাভ পুনরায় সুনিশ্চিত করে।

তাই করোনায় আম পাবলিক মরলে কার কি আসে যায়? পাবলিক গ্রেফতার হবে, করোনায় বা বিনা চিকিৎসায় মরবে, তা বলে নেতাদের গায়ে হাত, গ্রেফতার? আমরা সবাই জানি, কিছু ডামাডোল, হৈ হুল্লোড় শেষ হলে ক’দিন পরেই নেতাদের মুক্তি প্রায় অনিবার্য। কিন্তু বিক্ষোভকারী ভক্তদের একবার বাগে পেলে কি করোনা ভাইরাস মুক্তি দেবে? নাকি তাদের ভবের খেলা সাঙ্গ করেই ছাড়বে!

আসলে গণতন্ত্রের ভোট তন্ত্রে জয়ী জনগণের রায়- নারদা, সারদা, রোজভ্যালীতে কিছু এদিক ওদিক হলে জনগণের যাবে! তাতে ওদের সিবিআই, ইডি রাজনীতি করতে আমাদের নেতাদের গ্রেফতার করবে কেন? মিডিয়াওয়ালাদেরতো আবার টিআরপির সংকট! কি? করোনা ভুলে আবার গ্রেফতার কাণ্ড নিয়ে মাস খানেক চালাবেন নাকি? জনগন কিন্তু ভীষণ খাবে! ততদিন আমাদের রাজ্যে করোনা নেই ভেবে বরণ একটু চিন্তামুক্ত থাকি! কি বলেন?