পুলিশের চাকরি করতে এসেছিলাম, এভাবে গরু সামলাতে হবে কে জানত

0
19

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: উর্দিধারীরা আইন রক্ষা করেন৷ পিছু ধাওয়া করে অপরাধী ধরেন৷ কিংবা মোড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে যান নিয়ন্ত্রণ করেন৷ এটাই স্বাভাবিক ঘটনা৷ কিন্তু সেই পুলিশকেই যদি দিনের পর দিন গরু সামলাতে হয়? তাহলে কেমন লাগবে বিষয়টা! হেঁয়ালি নয়, বাস্তবিকই মাসের পর মাস অভিভাবকহীন গরু সামলাতে গিয়ে নাস্তানাবুদ বাঁকুড়া শহরের ট্রাফিক পুলিশের একাংশ কর্মী৷

গত কয়েক মাস ধরেই এই ছবিটাই দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাঁকুড়া শহরের মানুষ। দিনের একটা বড় সময় শহরের ব্যস্ততম কলেজ মোড়, মাচানতলা, তামলিবাঁধ, চাঁলমারিডাঙ্গা থেকে লাল বাজারের রাস্তা থাকে ‘মালিক বিহীন’ ওই গরুরদলের দখলে। ফলে ছোটো খাটো দুর্ঘটনার পাশাপাশি ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এলাকা জুড়ে। এমনটাই অভিযোগ শহরবাসীর একাংশের।

- Advertisement -

শহরবাসী বিশ্বনাথ দাস বলেন, কে বা কারা ওই গরুগুলি এভাবে রাস্তার উপর ছেড়ে দিচ্ছে তা পুরসভা থেকে স্থানীয় প্রশাসন সবার দেখা উচিৎ। শহরের মোড়গুলি গরুর পালের দখলে চলে যাওয়ায় অনেক সময় অনেককে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকি জনস্বার্থে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীদেরও কাজ ছেড়ে গরু তাড়াতে হয় বলে তিনি জানান। বাঁকুড়া পুরসভার উপ পুরপ্রধান হীরালাল চট্টরাজকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ট্রাফিক পুলিশ থেকে সাধারণ মানুষ সবাই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন৷ মাঝে মধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনাও। সমস্যার সমাধানে আমরা জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলছি৷’’ পরিস্থিতি সামাল দিতে এই মুহূর্তে ‘খোঁয়াড়ে’র খোঁজ শুরু করেছে প্রশাসন৷

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মীর আক্ষেপ, ‘‘ট্রাফিক সামলাব না গরু৷ দুইয়ের মাঝে পড়ে সত্যি আমাদের নাস্তানাবুদ অবস্থা৷ তার ওপর অনেকে আবার গরু পুলিশ বলে টিটকারি করছে৷ এসব কথা শুনতে কার বা ভাল লাগে বলুন?’’ প্রশাসন সূত্রের খবর: সবার প্রথমে এলাকায় মাইক প্রচার করে সংশ্লিষ্ট মালিকদের সতর্ক করে দেওয়া হবে। তাতেও কাজ না হলে গরুগুলিকে ‘বেওয়ারিশ’ ঘোষণা করে তুলে দেওয়া হবে খোঁয়াড়ে৷

আরও পড়ুন: শোভন তৃণমূলে ফিরলে কি করবেন রত্না, খই ফুটছে শাসকের অন্দরমহলে