বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি, মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি

0
62

খাস খবর ডেস্ক: এখনও বিয়ে করেননি? সাবধান‌ গবেষণা কিন্তু অন্য কথা বলছে। বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি, মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি। কার্ডিওলজিস্টদের নতুন গবেষণায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: করোনায় মৃত্যু নিয়ে WHO এর রিপোর্টে হতাশ ভারত, জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

ভালোবাসা হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। তাই বিয়ে নারী-পুরুষ উভয়ের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় বলে মনে করা হচ্ছে। বিবাহিত অথবা কোনো সম্পর্কের মাঝে আছেন এমন নারী ও পুরুষের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা নিঃসঙ্গ মানুষের চেয়ে অনেক কম। সঙ্গীর নিবিড় সঙ্গ এবং নতুন পরিবারের নতুন সব আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ভালো বন্ধনের কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কারণ হিসেবে বলা হয় পরিবারের সাথে থাকলে মন উৎফুল্ল থাকে। মনে কোনো মানসিক চাপ থাকলে তা শেয়ার করতে পারে। এতে মনের ওপর চাপ কমে। বহু মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং সাইকোলজি টেস্ট করেই এমনটা জানা গিয়েছে বলে দাবি বিঞ্জানীদের।

এই গবেষণা চলছে প্রায় ১০২২ জন রোগীর উপর । গবেষণাটি ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ১০২২ জন হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। যাদের মধ্যে বিবাহিত ছিলেন ৬৩৩ এবং অবিবাহিত ছিলেন ৩৭৬ জন। অপরদিকে বাকিরা ছিলেন কেউ বিপত্নীক আবার কারোর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, অবিবাহিতদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাকিদের থেকে অনেক বেশি। বেশিরভাগেরই। হার্ট দুর্বল, স্ট্রেস ও অয়াংজাইটি অত্যাধিক বেশি।

এই বিষয়ে জার্মানির ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ওয়ারজবার্গের কম্প্রিহেনসিভ হার্ট ফেলিওর সেন্টার থেকে ডক্টর ফ্যাবিয়ান কেরওয়াগেন জানিয়েছেন , সামাজিক সহায়তা মানুষকে দীর্ঘজীবি হতে সাহায্য করে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ওষুধ খেতে, স্বাস্থ্যকর আচরণ করতে প্রতি মুহূর্তে সাপোর্ট করে। এই গবেষণা অনুযায়ী, অবিবাহিত অসুস্থ ব্যক্তিরা বিবাহিত রোগীদের তুলনায় সামাজিকভাবে একটু কম মেলামেশা করেন। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে মানসিক অস্থিরতা, অবসাদ দেখা দিতে থাকে। যখন তখন রাগ, মুড সুয়িং, মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। শারীরিক ভাবে দেখা যায় পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা যন্ত্রণা বা অনিদ্রার মতো সমস্যা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা নামক অংশ থেকেই স্ট্রেস হরমোন বের হয়। বেশি দুশ্চিন্তা করলে, ভয় বা আতঙ্কে ভুগলে অ্যামিগডালা সক্রিয় হয়ে স্ট্রেস হরমোন বের করে। এর ফলে হার্টে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের হরমোনের মাত্রা শরীরে বেশি থাকলে রক্তনালীর প্রদাহ হয়, হার্ট দুর্বল হতে থাকে।