হোটেল মালিকের মুখ চেয়ে মাত্র ১ কেজি চালের ভাত খেয়েই সন্তুষ্ট থাকেন এই ভদ্রলোক

0
117

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘অল্পেতে খুশী হবে, দামোদর শেঠ কি! মুড়কির মোয়া চাই, চাই ভাজা ভেটকি।’ নাহ্। রবি ঠাকুরের দামোদর শেঠের মতো মুড়কির মোয়া, ভাজা ভেটকি, ঘি, বোয়ালের পেট, কাঁকড়ার ডিম ইত্যাদি কিছুই চাই না এই মানুষটির। কারণ দামোদর শেঠের মতো কলেবর নয়, আর ওজনও তিন মন নয়। ছিপছিপে লম্বা চেহারার এই মানুষটি একটা সবজি, এক টুকরো মাছ হলেই অনায়াসে খেয়ে ফেলতে পারেন প্রায় দু’কেজি ওজনের চালের ভাত। আর তিনি যেমন খেয়ে তৃপ্ত হন, তেমনই তাঁকে খাইয়ে তৃপ্তি পান হোটেল মালিকেরাও৷

ধান ভানতে শীবের গীত হয়ে গেল কি? তা যদি হয়ে যায়, তাহলে এবার সব ভনিতা ছেড়ে আসল কথায় আসি। হীড়বাঁধের পড়্যারডাঙ্গা গ্রামের দুলাল চন্দ্র মুর্ম্মু। পেশায় খাতড়া মহকুমা আদালতের মুহুরি। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ১৬ কিমি সাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে আসেন। কাজের ফাঁকেই এসডিও মোড়ের একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খান। এই হোটেলে মাত্র ৫০ টাকাতেই পেট ভর্তি খাবার মেলে। কিন্তু দুলালবাবু একাই এক কেজির বেশি চালের ভাত খান। মাত্র ৫০ টাকায় ওনাকে খাইয়ে ৩০ টাকার মতো লোকসান হলেও খুশী হোটেল মালিক। তিনি বলেন, ‘‘এখন মানুষ খুব বেশী খেতেই চায় না। উনি খান। লোকসান হলেও ওঁকে খাইয়ে আমরা আনন্দ পাই!’’

দুলাল চন্দ্র মুর্ম্মুর সহকর্মী, আইনজীবী সাগেন মুর্ম্মু বলেন, ‘‘ওনার খাওয়ার সাক্ষী আমরা দীর্ঘ দিনের। সম্প্রতি একটি বিয়ে বাড়িতে ৩০ টি নান, ১ কেজি খাসি মাংস, ৫০ টির মতো রসগোল্লা খেয়েছেন৷ যা দেখে সকলের চোখ চানাবড়া হয়ে গিয়েছিল!’’ গলা অব্দি খেয়েও অবশ্য বেশ টানটান মেদহীন দেহ ধরে রেখেছেন ভদ্রলোক! কিভাবে? রহস্যটাই বা কি? একগাল হেসে দুলালবাবু বলেন, ‘‘শারিরীক পরিশ্রম করি। সেকারণেই কোনও সমস্যা হয় না। তবে বাড়িতে ২ কেজি চালের ভাত খেলেও হোটেল মালিকের মুখ চেয়ে মাত্র ১ কেজি চালের ভাত খেয়েই সন্তুষ্ট থাকেন!’’

আরও পড়ুন:রাজ্যের বকেয়া ৯৮ হাজার কোটি, ‘আসল’ সত্য সামনে আনলেন ড: অশোক লাহিড়ি