রথযাত্রা, রথের মেলা এবং পাঁপড় ভাজা

0
58

“রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম, ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম…”

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: সত্যিই এক মহা ধুমধাম। লোকের মাথায় লোক খাওয়া। মনে পড়ে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত রাধারানী উপন্যাস? যেখানে বালিকা রাধারানী মাহেশে রথের মেলা দেখতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল।

রথ বলতেই সবার আগে যা মাথায় আসে তা হল, পাঁপড় ভাজা। হ্যাঁ, এই একবিংশ শতকেও একটি জিনিসের ওপরে বাঙালির আবেগ অকৃত্রিম। আজও তাই জগন্নাথের পাশাপাশি কতকটা পাঁপড় ভাজার টানেও মাহেশের রথে দূর দূরান্ত থেকে পাড়ি জমান শয়ে শয়ে বঙ্গসন্তান‌।

আরও পড়ুন: জগদ্ধাত্রীরূপে ভক্তকে দেখা দিয়েছিলেন মা সারদা, কী হল তারপর

বা শুধু মাহেশ কেন? বাংলার যেখানে যেখানে রথের মেলা আয়োজিত হয়, প্রত্যেকটি জায়গায় পাঁপড় ভাজা আর জিলিপির চাহিদা গগনচুম্বী। সব মিলিয়ে বিষয়টি যেন এমনই হয়ে গিয়েছে রথের মেলা মানেই পাঁপড় আর পাঁপড় মানেই রথ।

যদিও রথযাত্রার প্রকৃত তাৎপর্য একেবারেই আলাদা। পাঁপড়ের সঙ্গে তার কোনওই সম্পর্ক নেই। রয়েছে গুন্ডিচা দেবীর সম্পর্ক।

কে ছিলেন এই গুন্ডিচা? ইনি মালবরাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন অর্থাৎ যিনি পুরীর মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, তাঁর স্ত্রী। পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন দেবী গুন্ডিচা। ফলে, তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুসারে, বছরে এই একটি সময় সাত দিনের জন্য জগন্নাথ দেবকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আর তার ফলে কালক্রমে তিনি হয়ে গেলেন জগন্নাথের মাসি। পাঁপড়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।