Durga Puja: শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ, ঠাকুরের এ বাণীতেই অন্তর্নিহিত কুমারী পুজোর ব্যাখ্যা

কুমারী রূপেই দেবী মহাকালী বধ করেন দুরাত্মা কোলাসুরকে। "মহাভারতে"র ভীষ্ম পর্বে অর্জুন দেবীকে কুমারী রূপেই পুজো করেছেন। "বৃহদ্ধর্মপুরাণ" অনুযায়ী, রাম কর্তৃক রাবণবধের নিমিত্ত দেবগণ মহামায়ার স্তব করলে এক কুমারীই প্রকট হয়ে অকাল বোধনের বিধান দেন।

0
60

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: বেলুড় মঠের কুমারীপুজোর জগজ্জোড়া নাম। সে হেতুই অনেকের ধারণা, মহাষ্টমী তিথিতে এই পুজোর সূত্রপাত বোধহয় স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে। ১৯০১ সালে।

সত্যিটা হল, “দেবীপুরাণ”, “প্রাণতোষিণী”, “সহস্রনাম”, “যোগিনীতন্য”, “পুরোহিত-দর্পণ” ইত্যাদি গ্রন্থে বহু পূর্বেই স্পষ্ট বলা হয়েছে, অনধিক ষোলো বছরের যেকোনো অজাতপুষ্প সুলক্ষণা— অরজঃস্বলা কুমারীকে যেকোনও শক্তিপুজোর অঙ্গস্বরূপ আরাধনা করা যাবে। যদিও ১৬ বছরেও অরজঃস্বলা থাকা কতটা সম্ভব, সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যাই হোক, বয়সের ভিত্তিতে এদের প্রত্যেকেরই একটি করে নাম রয়েছে—

প্রথমবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘সন্ধ্যা’; দ্বিতীয়বর্ষীয়া কন্যার নাম ‘সরস্বতী’; তৃতীয়বর্ষীয়া কন্যার নাম ‘ত্রিধামূর্তি’; চতুর্থবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘কালিকা’; পঞ্চমবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘সুভগা’; ষষ্ঠবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘উমা’; সপ্তমবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘মালিনী’; অষ্টমবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘কুষ্ঠিকা’; নবমবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘কালসন্দর্ভা’; দশমবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘অপরাজিতা’; একাদশবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘রুদ্রাণী’; দ্বাদশবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘ভৈরবী’; ত্রয়োদশবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘মহালপ্তী’; চতুর্দশবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘পীঠনায়িকা’; পঞ্চদশবর্ষীয়া কন্যার নাম ‘ক্ষেত্রজ্ঞা’ এবং ষোড়শবর্ষীয়া কন্যাকে বলা হয়, ‘অন্নদা’। নাঃ শ্রেণী-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। এমনকি বেশ্যার গৃহে বেড়ে ওঠা কন্যাকেও ‘কুমারীপুজো’ করা যেতে পারে যদি তার মধ্যে সদগুণগুলি খুঁজে পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: কলাবউ গণেশের বউ নন, জেনে নিন আসলে তিনি কে

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ যেমন বলতেন, “শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ।” নানা পুরাণেও উল্লেখিত, মহামায়া একাধিকবারই কুমারীর বেশে দেখা দিয়েছেন ভক্তগণকে।

কুমারী রূপেই দেবী মহাকালী বধ করেন দুরাত্মা কোলাসুরকে। “মহাভারতে”র ভীষ্ম পর্বে অর্জুন দেবীকে কুমারী রূপেই পুজো করেছেন। “বৃহদ্ধর্মপুরাণ” অনুযায়ী, রাম কর্তৃক রাবণবধের নিমিত্ত দেবগণ মহামায়ার স্তব করলে এক কুমারীই প্রকট হয়ে অকাল বোধনের বিধান দেন। এরপর আরেক কুমারী বালিকাকে একটি বেলগাছের নীচে ঘুমন্ত অবস্থায় পান দেবতারা, জাগরিত হয়ে ইনিই স্বমূর্তি ধরে সকলের অভীপ্সা পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা দেয় “ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ”। কুমারীকে পুজো করা মানে প্রকৃতিকেই পুজো করা, কারণ সকল নারীই প্রকৃতিরূপী মহামায়ার অংশ। তাঁরা পুরুষের ভোগ্যা নয়, বরং পূজ্যা। কথিত, কুমারীপুজো বিনা নাকি দুর্গা আরাধনার সম্পূর্ণ ফল মেলে না।

উল্লেখ্য, কেবল বেলুড় মঠ বা বাংলাতেই নয়, মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দিরেও মহা আড়ম্বরে ‘কুমারীপুজো’ হয়। এবং গত বছর থেকে কোভিডের কারণে বিভিন্ন রামকৃষ্ণ আশ্রমে কুমারী মেয়ের পরিবর্তে দেবী কন্যাকুমারীর ছবিকে পুজো করা হচ্ছে।