Merry Christmas: আমরা যাঁকে চিনি, যীশু কী তিনিই

একটি বিষয় সহজেই অনুমেয়। The Holy Bible য়ে বর্ণিত, যীশু হলেন ঈশ্বরের সন্তান। যাঁকে ঈশ্বর পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন মানুষের পাপের বোঝা লাঘব করতে। এবারে ভেবে দেখুন, যিনি ঈশ্বরের সন্তান কিংবা ঈশ্বরপ্রেরিত দূত, তাঁকে তো সৌন্দর্যের অধিকারী কিংবা উচ্চকুলজাত কিংবা অন্য কোনওভাবে প্রভাবশালী হতেই হবে। নয়ত সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করবেন কী করে?

0
35

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: যীশু খ্রীষ্ট। নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক পরম করুণাময় মুখমণ্ডল, তাতে দুটি উজ্জ্বল চোখ।

যদিও একদল বিশেষজ্ঞের ব্যাপারটিতে একটু আপত্তি আছে। আমরা যে ছবি দেখে বড় হয়েছি, সেটি আদপেই যীশুর ছবি নয়। এই তাঁদের কথা। তাঁরা এও বলেন, যীশু আদতেই সুন্দর ছিলেন না। বরং যথেষ্টই কদর্য চেহারা ছিল তাঁর।

খুব অবিশ্বাস করা যায় কী কথাগুলো? যীশুকে আমরা কেউই সচক্ষে দেখিনি। কিন্তু একটি বিষয় সহজেই অনুমেয়। The Holy Bible য়ে বর্ণিত, যীশু হলেন ঈশ্বরের সন্তান। যাঁকে ঈশ্বর পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন মানুষের পাপের বোঝা লাঘব করতে। এবারে ভেবে দেখুন, যিনি ঈশ্বরের সন্তান কিংবা ঈশ্বরপ্রেরিত দূত, তাঁকে তো সৌন্দর্যের অধিকারী কিংবা উচ্চকুলজাত কিংবা অন্য কোনওভাবে প্রভাবশালী হতেই হবে। নয়ত সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করবেন কী করে?

আরও পড়ুন: ধুনি উৎসব: ক্রিসমাস ইভের রাতেই গেরুয়া ধারণ করেন নরেনরা ৯ গুরুভাই

হিন্দু ধর্মে চোখ রাখুন। সেখানে ঈশ্বরের অবতারদের ক্ষেত্রেও শর্তগুলি এক। শ্রীকৃষ্ণ আদতেই গোপ পরিবারের সন্তান নন, এবং কালো হলেও সেই কালো সবার মন করে দেয় ভাল। আসলে এটাই দস্তুর। অবতার বা ঈশ্বরের দূত সমাজের পতিত-নিপীড়িত হয়ে লড়বেন। কিন্তু তাঁকে নিজেকে সেই শ্রেণীতে পড়লে কী করে চলবে? তাহলে তো লোকে তাঁকে গুরুত্বই দেবে না। সুতরাং, যীশুও খারাপ দেখতে হতে পারেন না। তাঁর চেহারার ক্ষেত্রে এ কিংবদন্তি জন্ম নিতে পারে, তা বোধহয় অস্বীকার করা যায় না।

যাই হোক, যেটুকু বিবেচ্য বিষয়— ঈশ্বরের বরপুত্রকে একজন কেউকেটা হতেই হবে। এ নিয়ে আলোচনা করা গেল। এবার আমরা জেনে নেব যীশু সম্পর্কে দুটি তথ্য। যা হয়ত উপরোক্ত বিষয়টিকে সমর্থন করবে।

(১) পেশা: যীশুকে বলা হয়েছে সূত্রধরের পুত্র। অর্থাৎ ছুতোর। আর এ থেকেই বোঝা যায়, তিনি কতখানি পরিশ্রমী ছিলেন।

(২) খাদ্যাভ্যাস: Old Testament য়ে বলা হয়েছে, যীশু মাখন আর মধু খেতেন। এরই সঙ্গে ঝলসানো মাছ এবং মৌচাকও নাকী খেয়ে ফেলতেন। এছাড়া সেযুগের বাকী লোকেদের মত রুটি ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান খাদ্য।

আরও পড়ুন: মা সারদা: মাতৃত্বের মোড়কে দেবীত্বের মূর্ত প্রতীক

এরপরেও কী বিশেষজ্ঞদের মতটিকে উড়িয়ে দেওয়া যায়? যাঁর পেশা এবং খাদ্যাভ্যাস এত সাধারণ, তাঁকে কী মানুষ অত সহজে ঈশ্বরের দূত হিসেবে মেনে নিতে পারবে? তাছাড়া এই পেশায় শরীরও ভেঙে পড়তে বাধ্য। অর্থাৎ যে সৌন্দর্য আমরা যীশুর প্রত্যেকটি ছবি বা মূর্তিতে দেখি, তা যে সম্ভব না, বোধহয় জোর দিয়েই বলা চলে।

তাহলে যাঁকে আমরা চিনি, তিনি যীশু নন? যুক্তি দিয়ে বিচার করলে তা-ই। কিন্তু চেহারায় কী এসে যায়? তাঁর মতাদর্শ তো মিথ্যে হতে পারে না। বরং সেইটিই আসল কথা। সুতরাং, আজকের পবিত্র দিনে তাঁর কথা স্মরণে রেখে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার পালা।