পূর্ণিমার চাঁদকে এখন সত্যিই ঝলসানো রুটি মনে হয় জাতীয় খেলোয়াড়ের

0
33

জলপাইগুড়ি: রাজ্য তো বটেই, জাতীয়স্তরেও বাস্কেট বল খেলে বারে বারে জেলার মুখোজ্জ্বল করেছিলেন তিনি৷ দু’চোখের সেই স্বপ্ন এখন অস্তমিত হতে বসেছে৷ আর্থিক অনটনের জেরে পূর্ণিমার চাঁদকে এখন সত্যিই ঝলসানো রুটি মনে হয় চন্দু দাসের৷

জেলা, রাজ্য এবং জাতীয়স্তরে খেলার দৌলতে অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি৷ কিন্তু হাঁড়িতে চাল নেই৷ অগত্যা, অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন জলপাইগুড়ি শহরের খ‍্যাতনামা জাতীয় বাসকেট খেলোয়াড় চন্দু। বাড়ি, রাজবাড়ি পাড়া এলাকায়। তার মা একটি বেসরকারি নাসিং হোমে আয়ার কাজ করেন। যদিও সেই কাজ সব সময়ে থাকে না।

চন্দু বলেন, ‘‘চাকরির জন্য প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরেছি৷ কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি৷ এখন সার্টিফিকেটগুলোকে সত্যি কাগজ মনে হয়৷ বাড়িতে রান্নার চাল নেই৷ কি করব! বাধ্য হয়ে শহরের বিভিন্ন দোকানে কাজ করেছি৷ লক ডাউনের পর সেই কাজও চলে গেছে৷ বাধ্য হয়ে কাকুর জমিতে কিছু শাকসবজি চাষ করে সেটা বাজারে বিক্রি করে সংসারের কিছুটা হাল ধরার চেষ্টা করছি৷’’

অথচ এক সময়ে জেলাশাসক থেকে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তি, রাজ্যের মন্ত্রীদের হাত থেকে অসংখ্য পুরষ্কার নিয়েছেন চন্দু৷ তাঁকে সকলে জেলার গর্ব বলে ডাকতো৷ উৎসাহ দিত, আরও ভাল করে খেলার জন্য৷ জীবনের কঠিন বাস্তব অবশ্য চন্দুকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও রোজগার না থাকলে মাঠে খেলে হাঁড়ির চাল জুটবে না৷

চন্দুর এমন হাল দেখে আফশোস ঝরে পড়ে কোচ সুব্রত রায়ের কন্ঠেও৷ বলছেন, ‘‘আমার হাত ধরেই খেলায় এসেছিল মেয়েটা৷ ২০ বার জলপাইগুড়ি জেলা থেকে রাজ্যে খেলেছে৷ জুনিয়র ন্যাশন্যাল এবং ইয়ুথ ন্যাশন্যালে খেলেছে৷ কিন্তু সরকার থেকে কোনও সাহায্য পেল না৷ ন্যূনতম খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে, সেরকম একটা ব্যবস্থা সরকার করুক, অন্তত গ্রুপ ডি হলেও হবে৷’’ একই সঙ্গে তুলেছেন প্রশ্ন, বলছেন, ‘‘মেয়েটা জেলা তথা রাজ্যের জন্য এত কিছু দিয়েছে৷ কিন্তু এমন খেলোয়াড়ের পাশে সরকার না দাঁড়ালে আগামীদিনে আর কোনও খেলোয়াড় কি উঠে আসতে চাইবে?’’

আরও পড়ুন: দুর্নীতি ইস্যুতে দুই রাজ্যে দুই বিধান, প্রশ্নের মুখে মমতার সরকার