সৃষ্টির পাশাপাশি জগতকে ধ্বংস-ও করেন দেবী ভদ্রকালী, চিনে নিন তাঁকে

0
28

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: যিনি মরণের সময় জীবের মঙ্গল সাধন করেন, তিনি-ই ভদ্রকালী। সাধককে তিনি-ই অভীষ্টফল প্রদান করেন।

“মার্কণ্ডেয় পুরাণ”, “কালিকা পুরাণ” ইত্যাদিতে স্বয়ং মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গাকেই ‘ভদ্রকালী’ বলা হয়েছে। অতসীপুষ্পবর্ণা দেবী ষোড়শভূজা, সিংহের পিঠে আসীন হয়ে মহিষাসুরের বুকে ত্রিশূল ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শিব বড় না বিষ্ণু বড়, এ প্রশ্নের এক অসাধারণ উত্তর দিয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

“মহাভারতে”র বক্তব্য আবার, দক্ষযজ্ঞের সময় মহাদেবের ক্রোধ থেকে বীরভদ্রের জন্ম হলে সতীর ক্রোধের থেকেও প্রলয়ঙ্করী ভদ্রকালী উৎপন্ন হন। আরো চমকপ্রদ হল সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ রচিত “বৃহৎ তন্ত্রসারে”র ব্যাখ্যা। এখানে ভদ্রকালীর দুটি ভয়ঙ্করী দ্বিভূজা রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমটিতে দেবীর চক্ষুদ্বয় কোটরাগত।

তিনি লোলজিহ্বা, সর্পালঙ্কারা এবং নরমুন্ডসজ্জিতা। দ্বিতীয় রূপে চক্ষুদ্বয় কোটরাগত হওয়া ছাড়াও তাঁর দাঁতসমূহ ঘোরতর কৃষ্ণবর্ণ এবং দুহাতে জ্বলন্ত পাশ; এছাড়া ক্ষুধার্ত, মলিনা, মুক্তোকেশী, ক্রন্দনরতা এবং “জগতকে আমিই গ্রাস করবো”, বলে চিৎকাররতা।

অর্থাৎ সৃষ্টি-ও যেমন ভদ্রকালী করেন, ধ্বংস-ও তাঁরই হাতে। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রন্থে ভদ্রকালীর আরও নানা রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। যা নিয়ে ধোঁয়াশার অন্ত নেই।

যেমন “যোগিনীতন্ত্রে” রয়েছে, দেবী পতি মহাদেবকে বলছেন, “তুমি মহিষীকে বীর্যদান করে তার গর্ভে মহিষাসুররূপে জন্ম নেবে। সে সময় তোমার অসুরভাব প্রকটিত হওয়ায় আমি ‘ভদ্রকালী’ হয়ে তোমাকে হত্যা করে বুকের ওপর দাঁড়াব।” পুরাণ মতে মহিষাসুরের জন্ম অবশ্য রম্ভ নামক অসুরের বীর্য থেকে। কিন্তু ভেবে দেখুন, ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামে যাঁকে আমরা চিনি, সেই দুর্গার আরাধনাকালেও মন্ত্র বলা হয়ে থাকে, “ওঁ হ্রীঁ ভদ্রকাল্যৈ নমঃ”! বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে-ও এমনকি ‘ভদ্রকালী’ নামে ডাকা হয়ে থাকে।