গ্রামবাংলার দেবী ওলাইচণ্ডীর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে যে কাহিনী

0
73

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: সেই প্রাচীনকাল থেকে মহামারী বঙ্গজীবনের অঙ্গ। কিছুদিন আগেই আমরা বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর দাপট দেখেছি। তবে অতীতে যে ব্যাধিটির মহামারী সর্বাপেক্ষা বড় আকার ধারণ করত এই বাংলায়, তা হল ওলাওঠা। কলেরাকেই চলতি কথায় বলা হয়, ওলাওঠা। আর এই ওলাওঠাকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি হয়েছে লৌকিক দেবী ওলাইচণ্ডীর (Olai Chandi)। যিনি কলেরার দেবী।

আরও পড়ুন: কার্তিককে বলা হয় চিরকুমার, সত্যিই কি অবিবাহিত ময়ূরবাহন

- Advertisement -

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হিন্দু এবং মুসলিম, উভয় ধর্মের মানুষের কাছেই দেবী ওলাইচণ্ডী পরম আরাধ্যা। যদিও হিন্দুরা “ওলাইচণ্ডী” নামে ডাকলেও ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা তাঁকে ডাকেন “ওলাইবিবি” বলে। উল্লেখ্য, ওলাইবিবি একা-ই নন। সঙ্গে থাকেন তাঁর আরও ছয় বোন। এঁরা যথাক্রমে আসানবিবি, ঝোলাবিবি, আজগৈবিবি, চাঁদবিবি, বাহড়বিবি এবং ঝেটুনেবিবি এঁদের একত্রে আবার বলা হয়, “সাতবিবি”।

ওলাইবিবির রূপটি ভারী অদ্ভুত। কোথাও তাঁর হাতে তাকে ঝাঁটা আবার কোথাও থাকে আশাবারি। এই রূপ দেখে মনে করা হয় তিনি যেন সমস্ত রোগজীবাণু নিজে হাতে পরিষ্কার করবেন। আবার মুসলমানরা তাকে বালিকা রূপে আরাধনা করে থাকে। অনেকটা হিন্দুদের কুমারীপুজোর মত।

আবার বৈষ্ণবদের মত মাধুকরী অর্থাৎ ভিক্ষাবৃত্তির প্রথাও রয়েছে ওলাইচণ্ডী (Olai Chandi) দেবীর পুজোয়। যদিও এক্ষেত্রে তাকে বলা হয় “মাঙন করা”। সাধারণত গ্রামের যুবকেরা এই মাঙন করে থাকে। মাঙনে প্রাপ্ত ফুল-ফল দিয়েই পুজো হয় ওলাইচণ্ডী বা ওলাইবিবির। তবে পুজোর বিশেষ কোনও উপাচার নেই। এমনকি এই পুজোয় পুরোহিতেরও প্রয়োজন পড়ে না। যেহেতু কলেরার মহামারী এবং অপদেবতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেবীর পুজো করা হয়, তাই কোনও গৃহস্থের বাড়িতে পুজো হয় না। অস্থায়ী মন্ডপ বা থান তৈরি করে পুজো করা হয়।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

নৈবেদ্য হিসেবে সাধারণতঃ বাতাসা এবং পান-সুপারি দেওয়া হয়। তবে কোনও কোনও সময় বিশেষ পুজোও থাকে। তখন ছাগ বলি হয়ে থাকে। এ পুজো সম্প্রীতির পুজো। হিন্দু এবং মুসলমান, উভয়ে একযোগে এ পুজোয় অংশ নেয়। বাংলাজুড়ে অসংখ্য ওলাইচণ্ডীর মন্দির ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে কলকাতার বেলগাছিয়ায় একটি বড় মন্দির রয়েছে।