মা সারদা: মাতৃত্বের মোড়কে দেবীত্বের মূর্ত প্রতীক

যিনি সৎ-অসৎ কাউকে ফেরাননি। যে একবার 'মা' বলে আশ্রয় চেয়েছে, তাকেই কোলে তুলে নিয়েছেন। তাইতো শরতের(স্বামী সারদানন্দ) মতো মুসলমান আমজাদও তাঁর ছেলে।

0
82

“প্রকৃতিং পরমামভয়াং বরদাং,
নররূপধরাং জনতাপহরাম্।
শরণাগত-সেবকতোষকরীং,
প্রণমামি পরাং জননীং জগতাম্॥”

~স্বামী অভেদানন্দ

- Advertisement -

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর। বাংলা ১২৬০ সনের ৮ই পৌষ, বৃহস্পতিবার, কৃষ্ণাসপ্তমী (পৌষকালীর আগমনী) নিশিতে বৈকুণ্ঠ থেকে স্বয়ং লক্ষ্মীর আগমন এই ধরিত্রীতে। জয়রামবাটীর রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শ্যামাসুন্দরী দেবীর কোল আলো করে এল এক ফুটফুটে কন্যা। অদূর ভবিষ্যতে মাতৃত্বের মোড়কে যিনি হতে চলেছেন দেবীত্বের এক এবং অভিন্ন মূর্ত প্রতীক।

আরও পড়ুন: কালীরূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন কর্কট রোগাক্রান্ত শ্রীরামকৃষ্ণ, ঠাকুরের বরাভয় লীলার সাক্ষী এই বাড়ী

যিনি সৎ-অসৎ কাউকে ফেরাননি। যে একবার ‘মা’ বলে আশ্রয় চেয়েছে, তাকেই কোলে তুলে নিয়েছেন। তাইতো শরতের(স্বামী সারদানন্দ) মতো মুসলমান আমজাদও তাঁর ছেলে। এমনকি গঙ্গার ঘাটে চড়ে বেড়ানো সামান্য গুগলিগুলোরও মা তিনি। ঠাকুর একদিন গুগলির ঝোল খেতে চাইলে সটান জানিয়ে দেন, তিনি ওদের মাথা থেতো করতে পারবেন না।

শ্যামাসুন্দরী দেবী একবার দুঃখ করে বলছিলেন, “এমন জামাইয়ের সাথে মেয়ের বে দিলুম, ‘মা’ ডাক শুনতে পেলে না!” ঠাকুর শুনে হেসে বলেছিলেন, “শাশুড়ি ঠাকুরণ, দুঃখ করবেননি। এরপর এমন একদিন আসবে, ‘মা’ ডাকের ঠ্যালায় অস্থির হয়ে উঠবে ও।”

সত্যিই তো, আজ কতখানি অস্থির তিনি! একদিকে যেমন দুষ্টু ছেলের দুষ্টুমির জেরে বিপদে পড়ে “মা” “মা” বলে ডাক। অন্যদিকে আবার ভাল ছেলে একটিবারের জন্য মা’য়ের স্নেহাশীষ পাওয়ার আর্তি। জগজ্জননীর কী জো আছে কানে তুলো গুঁজে বসে থাকার?

দুটি ঘটনা, উল্লেখ না করলেই নয়। স্বামীজি সুদূর আমেরিকা থেকে গুরুভাই স্বামী শিবানন্দকে চিঠিতে বলেছিলেন, “দাদাগো, রাগ কোরো না। মা ঠাকুরানি কি বস্তু, তা তোমরা কেউ এখনো বোঝোনি। রামকৃষ্ণ পরমহংস চলে যান, ক্ষতি নেই। কিন্তু মা গেলেই সর্বনাশ! তোমাদের ‘জ্যান্ত দুর্গা’র পুজো কাকে বলে, দেখাব!” স্বামী শিবানন্দই আবার মায়ের অন্তিম সৎকারের পর(১৯২০) বলেন, “সতীর দেহ ৫১ খন্ডে বিভক্ত হয়ে সারা দেশে ৫১ টি শক্তিপীঠ গড়ে উঠেছে। সেই সতীর গোটা দেহটাই আজ বেলুড় মঠের মাটিতে, বাতাসে মিশে গেল। ভক্তগণ সমস্ত সতীপীঠ ঘুরে যে পুণ্য সঞ্চয় করে, এক বেলুড় মঠে আসলেই তারা সমান পুণ্যের অধিকারী হবে।”

আরও পড়ুন: খোদ নারায়ণের কথাতেই নারায়ণ শিলা হরণ করেন বামদেব, অতঃপর ঘটে গেল এই ঘটনা

তিথিটি কৃষ্ণা সপ্তমী। আজ অবশ্য সেই তিথি নয়। আগামী ২৬ ডিসেম্বর, রবিবার সেই তিথি পড়েছে এ বছর। কিন্তু আজকের দিনটিই বা কম গুরুত্বের কোথায়? ইংরেজি মতে আজ সৎ-অসতের মা’য়ের ১৬৮ তম জন্মবার্ষিকী। পবিত্র এই দিনে মাকে প্রণাম জানিয়ে তাঁর কৃপা ভিন্ন কীই বা চাওয়ার থাকতে পারে? সকলের মঙ্গল করো, মা। দ্রুত শঙ্কামুক্ত হোক অতিমারী-অধ্যুষিত বিশ্ব।