মৌমাছির ঝাঁক থেকে উৎপন্ন হচ্ছে প্রায় বজ্রবিদ্যুতের সমান শক্তি, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা

0
49
Honeybees

খাস ডেস্ক: প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীব হল মৌমাছি (Honeybees)। ফুলের পরাগ মিলনের মত কাজ সম্পন্ন করে প্রকৃতিতে সবুজের ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে তারা। কিন্তু জানেন কি, একটি মৌমাছির ঝাঁকে প্রায় বজ্রবিদ্যুতের মত শক্তি উৎপন্ন হয়? সম্প্রতি, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় এমন এক তথ্য উঠে এসেছে তা দেখে রীতিমত তাজ্জব বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন- দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প ফাঁকা, রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ বিজেপির

- Advertisement -

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইরাল্ড হান্টিং এবং অন্যান্যরা লক্ষ্য করেন, তাঁদের ইলেক্ট্রিক ফ্লিড-এর মনিটরে সম্প্রতি অত্যধিক ইলেক্ট্রিক চার্জ হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল। ওই পরিমাণ শক্তি কেবলমাত্র বজ্রপাত হলেই ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বিগত কয়েকদিনে এলাকায় একবারও বজ্রবিদ্যুত সহ বৃষ্টিপাত হয়নি। তাহলে, আচমকা ওই পরিমাণ শক্তি মনিটরে ধরা পড়ল কেন? এরপরেই তাঁদের মন পড়ে, সম্প্রতি মৌমাছির একটি ঝাঁক নতুন বাসস্থানের সন্ধানে কয়েকদিন থেকেই গবেষণাগারের ফিল্ড স্টেশনের আশেপাশে ঘুরছিল।

ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণার পর তারা বুঝতে পারেন, পাশ্চাত্য মৌমাছির ঝাঁক প্রায় বিজ্রবিদ্যুতের সমান শক্তি উতপাদন করতে সক্ষম। গবেষণাটি সম্পন্ন করার জন্য ইলেক্ট্রিক ফিল্ডে একটি ক্যামেরা বসিয়ে দেন গবেষকরা। সেখানেই ধরা পড়ে, রানী মৌমাছি সহ প্রায় ১২ হাজার মৌমাছির ওই ঝাঁকটি বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। ডানা ঝাপটানোর মাধ্যমে ওই শক্তি উৎপাদন করে তারা। গবেষণায় উঠে এসেছে প্রতি মিটারে মাত্র ৩ মিনিটের প্রায় ১০০ থেকে ১ হাজার ভোল্ট পর্যন্ত শক্তি উৎপন্ন করে মৌমাছির ঝাঁক। ঝাঁকটি যত বড় হয়, উৎপাদিত শক্তির পরিমাণও তত বাড়ে।

আরও পড়ুন- তৃণমূল নন্দীগ্রামে গেলে Suvendu Adhikari-র গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে: Shamik Bhattacharyya

জানা গিয়েছে, ডানা ঝাপটানোর সময় বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে প্রতিটি মৌমাছি কিছু পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে। সমগ্র এইভাবে ঝাঁকের প্রতিটি মৌমাছি উৎপাদিত শক্তি একত্রিত হয়ে প্রায় বজ্রবিদ্যুতের সমান শক্তি উৎপাদিত হয় বলে গবেষণায় জানা গিয়েছে। মৌমাছিদের (Honeybees) এই বিশেষ গুণাবলিটি দেখে রীতিমত তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে, এই ধরণের শক্তি পাখি সহ অন্যান্য জীবও তৈরি করতে সক্ষম কিনা সেই বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।