নিজের পিতার-ই স্ত্রী হয়েছিলেন সরস্বতী, যে কারণে কুল খাওয়া হয়না তাঁর পুজোর আগে

স্কন্দপুরাণ অনুযায়ী, সরস্বতী এবং লক্ষ্মী উভয়েই ব্রহ্মার সৃষ্টি। এবং মানসকন্যা সরস্বতীকে সৃষ্টি করার পর দেবীর রূপ দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি ব্রহ্মা। নিজ কন্যার সঙ্গেই সঙ্গমে লিপ্ত হন।

0
1067

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: আমরা বিদ্যার দেবী হিসেবে সরস্বতীকে চিনলেও তিনি কিন্তু চিরকালই বিদ্যার দেবী ছিলেন না। পুরাকালে বরং দেবী লক্ষ্মীর স্থানে ছিলেন। অর্থাৎ ধন দৌলতে’র দেবী। এছাড়া আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হল, দেবী সরস্বতী তাঁর নিজের পিতার-ই স্ত্রী।

হ্যাঁ। দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে দেবী থাকেন বলে ধারণা করা হয়, তিনি বোধহয় দুর্গা এবং শিবের কন্যা। কিন্তু স্কন্দপুরাণ অনুযায়ী, সরস্বতী এবং লক্ষ্মী উভয়েই ব্রহ্মার সৃষ্টি। এবং মানসকন্যা সরস্বতীকে সৃষ্টি করার পর দেবীর রূপ দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি ব্রহ্মা। নিজ কন্যার সঙ্গেই সঙ্গমে লিপ্ত হন।

আরও পড়ুন: সতী-পার্বতীই কেবল নয়, আরও এক রূপে শিবের ঘরণী হন মহামায়া, চিনে নিন তাঁকে

অর্থাৎ সেইদিক থেকে দেখতে গেলে সরস্বতীকে ব্রহ্মাণী-ও বলা চলে। যাই হোক, এবার একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক। সরস্বতী পুজোর আগে কেন কুল খাওয়া হয়না? বা কুল খেতে নিষেধ করা হয় কেন?

পুরাণমতে, সরস্বতীর কৃপা পেতে একদা বদরিকাশ্রমে (অধুনা কেদার-বদ্রীর বদ্রীনাথ) তাঁর তপস্যা বসেন মহাভারতকার বেদব্যাস। তার ঠিক আগে মহর্ষি’র আসনের পাশে একটি কুলের বীজ বপন করা হয়। অতঃপর শর্ত দেওয়া হয়। এই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে গাছ জন্মাবে। সেই গাছ বড় হয়ে নতুন কুল ধরবে। আর সেই কুল ব্যাসদেবের মাথায় যখন পড়বে, সেটি-ই হবে সিদ্ধিলাভের লক্ষণ। ধরে নিতে হবে, দেবী তুষ্ট হয়েছেন দেবীর প্রতি।

অতঃপর কয়েক বছর পর একদিন সত্যি সত্যিই গাছের কুল পেকে, তা মহর্ষির মাথায় পড়ল। ব্যস্! তিনিও বুঝে গেলেন, সরস্বতী দেবী তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। দিনটা ছিল মাঘ মাসের শ্রীপঞ্চমী তিথি। দেবী সরস্বতী এই দিনেই মহাভারতকার’কে পাকা কুলের মাধ্যমে কৃপা করেছিলেন বলে পঞ্চমীর আগে কুল খেতে নিষেধ করা হয়। অন্যদিকে কুলের আরেক নাম বরই বা বদ্রী। সেই থেকেই ব্যাসের তপস্যাস্থলে’র নাম হয়ে গেল, বদরিকাশ্রম।

আরও পড়ুন: রাবণ নিজে থেকেই চেয়েছিলেন রামের হাতে মরতে, জেনে নিন কারণ

এ তো গেল পুরাণ আর লোককথা। সরস্বতী পুজোর আগে কুল না খাওয়ার নেপথ্যে একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। সরস্বতী পুজো হয় মাঘের শুরু বা মাঝামাঝি সময়ে। এ সময়ে কুল পাকে না। কাঁচা কষযুক্ত অবস্থায় থাকে। এই কুল খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। আমাদের শাস্ত্রকারেরা বাস্তবিকই বিজ্ঞানের অনেক জটিল তত্ত্ব জানতেন। সে কারণেই তাঁরা এই গল্পকথা’র মাধ্যমে কুল খাওয়া নিষিদ্ধ করেন সরস্বতী পুজোর আগে।