যৌন সংসর্গের সময় কন্ডোম ব্যবহার করতেন বালক ফ্যারাও তুতানখামেন-ও

0
730

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: বালক ফ্যারাও তুতানখামেনের সমাধি নিয়ে আজও রহস্য দানা বেঁধে আছে। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের শেষার্ধ নাগাদ তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার করা হয়। এই আবিষ্কারের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন জর্জ এডওয়ার্ড হার্বার্ট। যিনি লর্ড কার্নারভন নামে পরিচিত। তাঁর এবং খননকার্যের সঙ্গে যুক্ত অনেক সঙ্গীর-ই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু ঘটে। এমনকি লর্ড কার্নারভনের কুকুরটিও আশ্চর্যভাবে মারা গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: বিতর্ক মানেই বাড়তি মনোযোগ, বাড়তি প্রচার, আরও এক রাজ্যে করমুক্ত ‘The Kerala Story’

- Advertisement -

তবে বালক ফ্যারাও নিজেও কম আশ্চর্যের চরিত্র ছিলেন না। শুধু তা-ই নয়। তাঁর সমাধি খনন করে সেখানে বহু জিনিসপত্র-ই পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে অনেকগুলিই বেশ রহস্যজনক। যেমন একটি ছোট চামড়ার থলি, আর তার সঙ্গে কোমরের সঙ্গে বাঁধার ফিতে।

বিস্তর গবেষণার পর জানা গিয়েছে, বস্তুটি আসলে কন্ডোম ছাড়া কিছুই নয়। আর এই কন্ডোম গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। আরও আশ্চর্য হতে হয় যখন এই কন্ডোমের মধ্যে থাকা ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষা করার পর গবেষকরা জানতে পারেন, এই কন্ডোম স্বয়ং ফ্যারাও তুতানখামেনের-ই ব্যবহার করেছিলেন। আর সেটিকে গর্ভনিরোধক হিসেবেই মমির সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল।

১৩৩৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্ভবত মাত্র আট বা নয় বছর বয়সে সিংহাসনের বসেন ফ্যারাও তুতানখামেন। ১৩২৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত দশ বছর রাজত্ব করেছিলেন। বালক ফ্যারাওয়ের মমিকৃত মৃতদেহের জেনেটিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, সম্ভবত শারীরিকভাবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল। ম্যালেরিয়া এবং হাড়ের রোগে আক্রান্ত। এও ধারণা করা হয়, সম্ভবত অপ্রজননের ফলে তাঁর এই সমস্যাগুলি দেখা দিয়েছিল। কারণ তুতানখামেনের পিতা-মাতা ভাইবোন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

এ অবস্থায় তুতানখামেনের সমাধিতে কন্ডোম উদ্ধার স্বাভাবিকভাবেই নয়া মোড় এনেছে ইতিহাসে। ঐতিহাসিকদের দাবি, ফ্যারাও তুতানখামেনের সমাধিতে পাওয়া এই কন্ডোম-ই আবিষ্কৃত হওয়া ইতিহাসের সবথেকে প্রাচীন কন্ডোম। যার ব্যবহার এবং কার্যকারিতা হাজার হাজার বছর পূর্বেই মিশরীয়রা জেনে গিয়েছিল। আরও একটি তথ্য সামনে আনছেন তাঁরা। মৃত্যুর পর তুতানখামেনের লিঙ্গটি নাকি ৯০° উত্থিত করে মমি করা হয়। যদিও মমি আবিষ্কার করার অল্প সময় পরেই নিখোঁজ হয় লিঙ্গটি। পরবর্তীতে জানা যায়, সেটি ভেঙে অন্যত্র রাখা হয়েছিল।