গ্রামের ফেরিওয়ালা থেকে খড়গপুর আইআইটি, হার মানবে মিকি মাউসে’র স্রষ্টাও

0
398

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সামান্য খবরের কাগজ বিক্রেতা থেকে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের অগ্রদূত হয়ে উঠেছিলেন ওয়াল্ট ডিজনি৷ বাঁকুড়ার শালতোড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম পাবড়ার ছোটন কর্মকার যেন ‘মিকি মাউসে’র স্রষ্টার সেই লড়াকু কাহিনীকেও হার মানায়৷

‘যদি তুমি স্বপ্ন দেখতে জানো, তবে তুমি তা পূরণ করতেও পারবে।’ ওয়াল্ট ডিজনির বিখ্যাত উক্তিটা ছোটন জানে কি না জানা নেই৷ তবে তার নিজের দেখা স্বপ্ন সে আজ পূরণ করতে পেরেছে। গ্রামের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সামান্য চুড়ি, মালা, রঙ, সিঁদুর বিক্রির পাশাপাশি পড়াশুনা করে, রীতিমতো নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে সে পৌঁছে গিয়েছে দেশের অন্যতম কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়্গপুর আইআইটিতে। সেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিটেক এ ভর্তিও হয়েছে। সেই দৌলতেই বাঁকুড়ার অখ্যাত গ্রামের প্রান্তিক পরিবারের ছোটন এখন অনেকের কাছে ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’! আবার কারও কারও কাছে ‘দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই’ এর নাম ছোটন! তবে এই স্ট্রাগল জার্নিটা মোটেই সহজ ছিল না কর্মকার পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্যের কাছে।

- Advertisement -

বাবা, মা, এক দাদা ও ছোটনকে নিয়ে চার জনের ছোটো পরিবার। বাবা কানাই কর্মকার সকাল হলেই লজঝড়ে মোটর বাইক নিয়ে গ্রামে গ্রামে চুড়ি, মালা, রঙ, সিঁদুর সহ অন্যান্য মনোহারি দ্রব্য ফেরি করতে বেরিয়ে যান। সেই রোজগারেই চলে চার জনের সংসার। কিন্তু এমন দিনও হয়েছে, বাবা বেরোতে পারেননি, সংসার চালাতে পড়ার বই ছেড়ে ওই লজঝড়ে বাইক নিয়ে ব্যবসায় বেরোতে বাধ্য হয়েছে ছোটন৷ গ্রামে গ্রামে গিয়ে হাঁক পেড়ে বিক্রি করেছে মনোহারি দ্রব্য৷ সেদিনের সেই ফেরিওয়ালা এখন খড়্গপুর আইআইটির স্টুডেন্টস!

তবে আইআইটি কাকে বলে, সেখানে কি হয়, এসব জানেন না ছোটনের বাবা কানাই কর্মকার, মা ববিতা কর্মকাররা। ছেলে ‘একটা বড় জায়গায় পড়ার সুযোগ পেয়েছে’ এটুকুই তাঁরা বোঝেন। বাবা কানাই কর্মকার বলেন, ‘‘ছেলে আমার সঙ্গেও ফেরি করতে যেত৷ ব্যবসা বাদ দিয়ে যতটুকু সময় পেত পড়াশোনা করতো৷’’ আর শাড়ির আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে মা ববিতা কর্মকার বলেন, ‘‘আমরা মুর্খ মানুষ৷ ওই সব আইআইটি কি জানি না৷ তবে ছেলে ধীরে ধীরে জীবনে উন্নতি করছে সেটা বুঝতে পারছি৷’’

তবে খুশীর দিনেও পরিবারে দুঃশ্চিন্তার ছায়া৷ আইআইটি খড়্গপুরের মতো ‘বড়’ প্রতিষ্ঠানে ছেলেকে পড়ানোর খরচ কিভাবে আসবে তা ভেবেই রাতের ঘুম উড়েছে তাঁদের। তবে সব বাধা অতিক্রম করে ‘ছেলে অনেক দূর যাবে’ এই আশাতেই এখন বুক বাঁধছেন ছোটনের সহজ সরল বাবা,মা৷

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতে কি বাম-কংগ্রেস জোট হবে, কি বললেন অধীর

https://play.google.com/store/apps/details?id=app.aartsspl.khaskhobor