কাঁচা বাদাম এভাবে স্বপ্ন পূরণ করবে ভাবেননি ভুবন বাদ্যকর

0
183

তনুশ্রী দাসঘোষ, দুবরাজপুর: নেহাতই ছাপোষা গ্রাম্য মানুষ৷ গায়ে গতরে পরিশ্রম করেও অভাব, অনটনই ছিল নিত্যকার সঙ্গী৷ অদৃষ্টের লিখন বলে অবশ্য চুপ মেরে বসে থাকেননি৷ ভিতরে ভিতরে কিছু একটা করার তাড়না ছিল৷ স্বপ্ন দেখতেন, নিজের একটি পেল্লাই ক্রংক্রিটের বাড়ি হবে৷ তবে ওই পর্যন্তই৷ কারণ, মনে পড়ে যেত, বহুল ব্যবহারে জীর্ণ প্রবাদটার কথা, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার কথা! কিন্তু ‘কাঁচা বাদাম’ যে এভাবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে তা কস্মিনকালেও চিন্তা করেননি তিনি৷

তিনি ভুবন বাদ্যকর৷ বাদাম বিক্রি করতে করতে গান ধরেছিলেন বীরভূমের দুবরাজপুরের বাসিন্দাটি৷ সেই গানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় যত ভাইরাল হয়েছে ততই খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছেন ভুবন। ভারতের চলচ্চিত্র জগতের তারকা থেকে শুরু করে বিদেশি পপ তারকারাও বাদাম গানে নাচ করে গ্রামের ছাপোষা ভুবনকে বানিয়েছেন সেলিব্রিটি৷ বলছেন, ‘‘দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি বাড়ি বানানোর। কিন্তু আর্থিক পরিস্থিতি না থাকায় সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়। কিন্তু এরপর কাঁচা বাদাম গান গেয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে যা রোজগার করি, তা দিয়েই এবার আমার স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করছি৷ পূরণ হতে চলেছে, জীবনের স্বপ্ন৷’’

বাড়িটিতে রয়েছে দুটি রুম এবং একটা বারান্দা । বারান্দা প্লাই দিয়ে নানান কারুকার্য করার কাজ চলছে, মেঝেতে বসানো হয়েছে মার্বেল । পাশাপাশি অন্য দুটি রুমে মেঝে টাইলস দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। ভিতরের রুমগুলি প্লাস্টার সম্পন্ন হলেও এখনও রং করা বাকি রয়েছে। এই বছর প্রথম ঝড়ের দাপটে নষ্ট হয়ে যায় তার কাঁচা বাড়ি। একসময় কাঁচা বাদাম বিক্রি করা ভুবন বাদ্যকর খড়ের চালা বাড়িতে থাকতেন। একটি ঘরের মধ্যে কষ্টের মধ্যে দিয়েই চলতো তার দিন যাপন। কাঁচা বাদাম বিক্রি করে যা রোজগার হতো তা দিয়েই সংসার চলতো তার । কোনোদিন ভাবেননি যে তিনি নিজের টাকা খরচ করে পাকা বাড়ি বানাবেন। সরকার থেকে তিনি বাড়ি করার জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাকি টাকা খরচ করে ফেলায় আর বাড়ি করার স্বপ্ন বাস্তব হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু এরপরই কাচা বাদাম গান গেয়ে তার জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। নিজের শখ পূরণের জন্য মাস কয়েক আগে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড চারচাকা গাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু সেই গাড়িটি তিনি চালাতে গেলে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এই গাড়ি নিয়ে নানান জায়গায় নানান টিপ্পনী শুরু হয়। তবে সম্প্রতি ভুবনবাবু সেই গাড়িটি বিক্রি করে গাড়ি বিক্রির টাকাও এই বাড়ি তৈরির কাজে লাগাচ্ছেন। আপাতত আর স্বপ্নের বাড়িটি পুরোদমে তৈরির কাজ চলছে। তবে কয়েকদিন আগে ঝড়ে তার মাটির চলা ঘরটি পড়ে যায়৷ তাই বাধ্য হয়ে নতুন বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই সেখানে থাকতে শুরু করেছেন ভুবনবাবু। আপাতত চলছে স্বপ্নের বাড়ি তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ৷ দিনভর সেদিকে তাকিয়েই ভুবন আপন মনে গেয়ে ওঠে, ‘কাঁচা বাদাম!’