লাঠির জোরে মা সারদার থেকে কৃপা আদায় করছিল বাগদির ছেলে

0
62

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: স্বামী বিবেকানন্দ মা সারদাকে বলতেন, “জ্যান্ত দুর্গা।” আবার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কথায় বলতেন, “ও সারদা। সংসারকে সার দান করতেই এসেছে। ও সরস্বতী।” মা সত্যিই ছিলেন একাধারে দুর্গা এবং সরস্বতী। সেই কারণেই বিংশ শতকে জয়রামবাটীর মত অজপাড়াগাঁয়েতেও দীক্ষা দিয়ে কৃপা করতে পেরেছিলেন তথাকথিত নিচু জাতের যুবককে।

আরও পড়ুন: যে তাঁকে চেনে না, তারও মা সারদা, প্রয়াণের পর দেখা দিয়ে দিয়েছিলেন মাতৃস্নেহ

- Advertisement -

মায়ের জীবদ্দশার শেষদিন পর্যন্ত তাঁর সেবায় ছিলেন স্বামী ঈশানানন্দ ওরফে বরদা মহারাজ। এ ঘটনা বর্ণনা তিনিই করেছেন। বরদা মহারাজের কথায়, একটি বাগদি ছেলে জয়রামবাটীতে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল গড়বেতা ও পিয়ালডোবার নিকটবর্তী কোনও একটি গ্রাম থেকে। সে দীক্ষা নেওয়ার ইচ্ছা জানালে প্রথমেই অবশ্য মা তাঁকে দীক্ষা দিতে চাননি। বলেন, “তোমাদের কুলগুরু রয়েছে। তাছাড়া এত তাড়াতাড়ির-ই বা কী আছে! এখন আমার শরীর বিশেষ ভাল নয়। তাছাড়া এখানে বড় হাঙ্গামা। আগে কলকাতায় ফিরি। তারপর না হয় দেখা যাবে।”

আসলে মা প্রথমে তাঁর ভাইদের ভয় পাচ্ছিলেন। বিশেষতঃ কালীমামা যদি জানতে পারেন তাহলে কুরুক্ষেত্র বাঁধাবেন। তা বুঝতে পেরে ছেলেটি ক্ষুণ্ন হয়। সে মাকে মুখের ওপর জবাব দিয়ে বললে, “বুঝে গিয়েছি। আমি জাতে বাগদি কিনা। বাগদির মা হতে আপনার আটকাচ্ছে। কিন্তু কই, সেই সেবার তেলোভেলোর মাঠে বাগদির মেয়ে হতে তো আপনার কিছুমাত্র কুন্ঠা হয়নি।”

যুবকের জবাব শুনে আর স্থির থাকতে পারেন না মা। হেসে বললেন, “আচ্ছা, যা বাবা। কাল স্নান করে তৈরী হয়ে থাকিস। এরা (ব্রহ্মচারীদের দেখিয়ে) তোকে ডেকে আনবে।” অতঃপর পরদিন সকালে কালীমামা বিশেষ কাজে গ্রামের বাইরে গেলে ছেলেটির দীক্ষা হয়ে যায়।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

সেদিনই দুপুরবেলা আরামবাগ থেকে মায়ের জনৈক ডাক্তার ভক্ত প্রভাকরবাবু দেখা করতে এসেছিলেন। সবটা শুনে তিনি বলেন, “বাগদির পো যেন লাঠির জোরেই মায়ের কৃপা আদায় করে ছাড়ল। আর আমরা ব্রাহ্মণ হয়ে মাথা কুটছি‌। সবই ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা। কত মুনিঋষি কতশত সাধনা করেও তাঁর কৃপা পাননা।”