শুধু মা সারদা-ই নন, শ্রীমায়ের ভাইঝি রাধুও ছিলেন আদ্যাশক্তির অংশ

0
58

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: মা সারদা সকলের মা। তাঁকে বলা হয়, স্বয়ং আদ্যাশক্তি। কিন্তু শুধু মা সারদা-ই নন। মায়ের ভাইঝি রাধু-ও ছিলেন মহাশক্তির অংশ। আর স্বয়ং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস এই কথা বলেছিলেন মাকে। আর মা-ও পরবর্তীতে সকল ভক্তদের বলতেন সে কথা।

আরও পড়ুন: তুলসী পাতা ছাড়া নারায়ণ পুজো অসম্ভব, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তুলসী

- Advertisement -

রাধুর মা ছিলেন পাগলী। রাধুর মধ্যেও শৈশবে সে ভাব ছিল। এছাড়া শারিরীকভাবেও রুগ্ন ছিলেন রাধু। প্রায়ই ভুগতেন। জয়রামবাটীর বাড়িতে একবার তেমনই অসুস্থ হয়েছেন। পেটের গোলমাল। ডাক্তার কেদারবাবু তাঁকে দেখে ওষুধ দিতেই মা উঠানের একদিকে নির্দেশ করে বললেন, “ঐখানটিতে আমি বসে থাকতাম, তখন প্রায়ই দেখতাম লাল কাপড় পরে ছোট্ট মেয়েটির রূপ ধরে সামনে ঘুরত।”

কেদারবাবু কথাটা ভাল করে শুনতে পাননি। ফলে মা আরও ব্যখ্যা দিয়ে বলেন, “ঠাকুরের শরীর চলে যাওয়ার পর কিছুই ভাল লাগত না এই সংসারে। আমি বারবার ঠাকুর কাছে প্রার্থনা করছি, আমাকেও তুলে নাও। এমন সময় হঠাৎ দেখি লাল কাপড় পরা একটি ১০-১২ বছরের মেয়ে এই উঠোনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর ঠিক তখনই ঠাকুর সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘একে আশ্রয় করে থাকো।'”

এরপরই মা চলে যান আসল ঘটনায়। ডাক্তার কেদারবাবুকে তিনি বলেন, “এই ঘটনার দিন কয়েক পরেই হঠাৎ একদিন দেখি, ছোটবউ (রাধুর মা তথা মায়ের ছোটভাইয়ের স্ত্রী) কিনা কতগুলো কাঁথা-কাপড় বগলে করে টানতে টানতে যাচ্ছে। আর রাধু-ও হামা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর পিছনে চলেছে। এ দৃশ্য দেখে আমার বুকের ভিতরটা কেমন জানি করে উঠল‌। মনে হল, একে আমি না দেখলে আর কে দেখবে। ছুটে গিয়ে রাধুকে কোলে নিলাম। আর ঠিক তখনই ঠাকুর ফের আমার সামনে এসে বললেন, “এ সেই মেয়েটি। একে আশ্রয় করে থাকো। এ দেবী যোগমায়া।”

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

দেবী যোগমায়ার উল্লেখ একাধিক পুরাণ ও মহাকাব্যে পাওয়া যায়। কথিত, শ্রীকৃষ্ণ যখন কংসের কারাগারে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন, ঠিক একই সময়ে দেবী যোগমায়া-ও নন্দ গোকুলে যশোদার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। এরপর বসুদেব রাতের অন্ধকারে গোকুলে গিয়ে বাচ্চাদুটি অদল বদল করে দেন। এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের বোন সুভদ্রাকেও মনে করা হয় দেবী যোগমায়ার অংশ।