শিব বড় না বিষ্ণু বড়, এ প্রশ্নের এক অসাধারণ উত্তর দিয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ

0
68

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: কে বড়? শিব নাকি বিষ্ণু? বৈষ্ণব-রা নিঃসংকোচে বলবেন, বিষ্ণু। আর শৈব-রা বলবেন, শিব। কিন্তু আসলে কে বড়? কে এগিয়ে? শাস্ত্রে কী বলে?

নাঃ হাজার শাস্ত্র ঘাঁটলেও কোনও সন্তোষজনক ব্যখ্যা পাওয়া যায় না। কারণ, সত্যিই এর কোনও চূড়ান্ত সমাধান নেই। শাস্ত্রে শিবকে বলা হয়েছে, দেবাদিদেব। অর্থাৎ সকল দেবের আদি যিনি। এ কথা মাথায় রাখলে স্বাভাবিকভাবেই মহেশ্বরকে-ই সবার বড় বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আবার হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ভগবদ্গীতা ভুলে গেলে কী করে চলবে?

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

আরও পড়ুন: মা দুর্গাকে মানতে চাননি রামকৃষ্ণ,শেষে শাড়ি পড়ে দেবীর সখী সেজেই আরতি করেন

বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই তিনি গীতাতে অর্জুনকে বিশ্বরূপ দর্শন করিয়ে বলছেন, আসলে তিনিই সব। তাঁর মধ্যেই সকল দেবদেবী সহ এই গোটা জগৎ সংসার। সুতরাং, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সত্যিই কঠিন যে কে আসলে বড়। শিব না বিষ্ণু?

এ অবস্থায় ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দিচ্ছেন একটি মজাদার জবাব। তিনি একটি গল্প বলেছেন। একবার বিষ্ণুলোচন নামের বর্ধমাননিবাসী জনৈক পণ্ডিতকেও এই প্রশ্নের সন্মুখীন হতে হয়েছিল। শিব আর বিষ্ণুর মধ্যে কে বড়? এর উত্তরে পদ্মলোচন হেসে জবাব দেন, “আমার ১৪ পুরুষে কেউ শিবও দেখেনি বিষ্ণুও দেখেনি। তাই কে বড় আর কে ছোট, তা আমি কেমন করে বলব?”

বলা দরকার, প্রথমদিকে ঠাকুরের নিজের বক্তব্য-ও এর ভিন্ন কিছু ছিল না। কিন্তু সকল সাধনা শেষে তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, যত মত তত পথ। অর্থাৎ যে পথ ধরেই যাও, ওই একজনের কাছেই পৌঁছবে। তিনি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। তিনিই বিষ্ণু আবার তিনিই শিব। উভয়েই কার্যত এক।