খবরদার, মা দুর্গার চোখের দিকে এই সময় ভুলেও তাকাবেন না

0
60

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: মার্কণ্ডেয় ঋষির ‘দেবীমাহাত্ম্যম্’ অনুসারে, দৈত্য ভ্রাতৃদ্বয় শুম্ভ-নিশুম্ভকে ব্রহ্মা বর দিয়েছিলেন, অ-যোনী সম্ভূত নারী ব্যতীত আর কারও বধ্য হবেনা এই দুই ভাই। অ-যোনী সম্ভূত নারী অর্থে যে নারীর জন্ম মাতৃগর্ভ থেকে নয়। ব্রহ্মা কর্তৃক এই বরপ্রাপ্ত শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধের নিমিত্তই পার্বতীর দেহের কোষিকা হতে দেবী কৌশিকীর জন্ম। তা একবার কিন্তু তিনিও বেশ বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

আরও পড়ুন: মা দুর্গাকে মানতে চাননি রামকৃষ্ণ,শেষে শাড়ি পড়ে দেবীর সখী সেজেই আরতি করেন

হ্যাঁ, শুম্ভ-নিশুম্ভের সেনাপতি রক্তবীজের সাথে যুদ্ধকালে দেবী দেখতে পান, রক্তবীজের দেহ থেকে একফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লেই, তা থেকে কোটি কোটি অসুর জন্ম নিচ্ছে। আবার তাদের রক্ত মাটিতে পড়লেও একই ঘটনা।

উপায়ান্তর না দেখে কৌশিকী নিজের ভ্রুযুগলের সন্ধিস্থল থেকে জন্ম দেন দেবী কালিকার, যিনিই পরবর্তীতে চণ্ড-মুণ্ড, অসুরদ্বয়কে বধ করে ‘চামুণ্ডা’ নামের অধিকারিণী হবেন, আপাতত রক্তবীজ সহ বাকি অসুর বিনাশ করার পর তাদের রক্ত মাটিতে পড়তে না দিয়ে পান করলেন।

সন্ধির অর্থ, মিলন। দেবী কৌশিকীর ভ্রুসন্ধি থেকে চামুণ্ডার জন্ম এবং দুই তিথির মিলনক্ষণে তাঁর রক্তবীজের রক্তপান করার উপলক্ষ্যেই মহাষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং মহানবমীর প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিটের ‘সন্ধিপুজো’ আয়োজিত হয়।

শাস্ত্রানুযায়ী, দুর্গোৎসবের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘সন্ধিপুজো’ই। কথিত, সারাদিন উপবাসী থেকে ‘সন্ধিব্রত’ করলে নাকি মৃত্যুর পর যম ছুঁতে পারেন না। অন্যদিকে পন্ডিতেরা এও বলেন, এসময় মা দুর্গার অন্তর থেকে সমস্ত মায়া-মমতা মুছে হয়ে যায়, তিনি মৃণ্ময়ী থেকে বিনাশকারী চিন্ময়ী— ‘চামুণ্ডা’তে রূপান্তরিত হন, তাঁর চোখের সন্মুখে দাঁড়াতে নেই। অষ্টমীতে বলিদানের নিয়ম নেই, সন্ধিক্ষণের প্রথম ২৪ মিনিট পেরোনোর পর নবমী পড়লে তবেই প্রথম বলি হয়।