ভক্ত সমাগম ছাড়া দুর্গাপুজো সহ অন্যান্য উৎসব পালনের নির্দেশ রাজ্যের

0
248

ওড়িশা: করোনা কাঁটা এখনও বিঁধে রয়েছে বিশ্বের গলায়। কবে যে এই অদৃশ্য শত্রুর হাত থেকে রেহাই মিলবে তার উত্তর এখনও অজানা। একটু অসতর্ক হলেই বিপদ অনিবার্য। আর সামনেই দেশ জুড়ে উৎসবের মরসুম। এই কারণে কেন্দ্র আগে থেকেই উৎসবের সময়গুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রন করার জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে । বিরাজমান মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে, ওড়িশা সরকার চলতি বছর ২১ নভেম্বর পর্যন্ত দুর্গাপুজো, গণেশপূজা এবং অন্যান্য সকল উৎসব ভক্ত ছাড়া উদযাপন করার অনুমতি দিয়েছে।

সোমবার ওড়িশার বিশেষ ত্রাণ কমিশনার (এসআরসি) এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, “গণেশ পুজো, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো এবং অন্যান্য অনুরূপ উৎসব উদযাপনের জন্য রাজ্য জুড়ে জনসমগমের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে কোভিড প্রোটোকল মেনে গীর্জা/ মন্দির/ মসজিদ/ উপাসনালয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলবে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি সহ”। ওড়িশার বিশেষ ত্রাণ কমিশনার জানিয়েছেন, পুজো প্যান্ডেল বা মণ্ডপে পুজো পরিচালনা করার জন্য, আয়োজকদের আবেদন করতে হবে এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা তাঁর অনুমোদিত অন্য কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে।

আরও পড়ুন- আবহাওয়ার হালহকিকতে জেনে নিন আকাশের মুডের হদিশ

একজন কর্মকর্তা মতে, বিভিন্ন পুজো উদযাপনের জন্য মানুষ সাধারণত একত্রিত হয় এবং একে অপরের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোভিড উপযুক্ত আচরণ মেনে চলা এত ভিড় হলে সম্ভব নয় এবং এই ধরনের মণ্ডপে ভাইরাসের বিস্তার ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে, রাজ্য সরকার সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে করোনা বিধি মেনে ওড়িশা জুড়ে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণেশ পুজো উদযাপনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত। বলা ভালো করোনার কারণেই চলতি বছরেও ওড়িশার পুরিতে ভক্ত ছাড়াই পালিত হয়েছে জগন্নাথ দেবের রথজাত্রা।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি নির্দেশিকাগুলি হল:

১. যে কোন নির্দিষ্ট সময়ে, পুজো মণ্ডপে আয়োজক, পুরোহিত এবং সহায়ক কর্মচারী সহ ৭ জনের বেশি ব্যক্তি থাকতে পারবে না।

২. পুজো মণ্ডপে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার অথবা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক জারি করা সমস্ত কোভিড প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে।

৩. প্রতিমার আকার ৪ ফুটের কম হওয়া উচিত। পুজো প্যান্ডেল বা মণ্ডপ তিন দিকে ঢাকা থাকবে। চতুর্থ দিকটিও এমনভাবে আচ্ছাদিত করা হবে যাতে প্রতিমাকে কোন জনসাধারণকে দেখার অনুমতি না পায়। সাধারণ ভক্তদের দ্বারা কোন দর্শন হবে না।

৪. আয়োজক এবং পূজা পরিচালনার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসন বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত অন্য কোন শর্ত মেনে চলবে।

৫. কোনো বিসর্জন মিছিল হবে না। স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্মিত কৃত্রিম জলাধারে মূর্তিগুলি নিমজ্জিত করা হবে।

৬. কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কোনও ধরণের ধর্মীয় মিছিল হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা রাজ্যে মহররম উদযাপনের জন্য করা হয়েছে।

৭. করোনা চলাকালীন কোনও পুজো বা উৎসবের সাথে সম্পর্কিত কোন সম্প্রদায়ে ভোজনেরর অনুমতি দেওয়া হবে না।