বিচারকদের আক্রমণ করা বর্তমানে ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে, উদ্বেগ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

0
87

নয়াদিল্লি: যারা ন্যায় অন্যায়ের বিচার করেন তাঁরাই বর্তমানে আক্রান্ত হচ্ছে যে বিচয় সমাজের খাছে খুব খারাপ বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে। বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা আজকাল একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিচারকদের নিশানা করা বা আক্রমণ করার ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়েই এবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করার সময় একজন অ্যাডভোকেটকে অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার সময়ে শীর্ষ আদালত এমনটা জানিয়েছে।

শীর্ষ আদালত অ্যাডভোকেটকে অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। শীর্ষ আদালতের কথায় “বিচারক যত শক্তিশালী, অভিযোগ তত খারাপ”। বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড় বলেছেন, সারা দেশে বিচারকদের ওপর হামলা হচ্ছে এবং জেলা বিচারকদের কোনো নিরাপত্তা নেই, এমনকি অনেক সময় লাঠি চালানো হলেও সেখানে পুলিশকে পাওয়া যায় না। অভিযুক্ত আইনজীবর কারাদণ্ড বহাল রেখে আদালত বলেছেন, “আইনজীবীরা আইনের ঊর্ধ্বে নন। তারা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে তাদের পরিণতিও ভোগ করতে হবে।” অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করার সময় শীর্ষ আদালত বলেছে, “এই ধরনের আইনজীবীরা বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি কলঙ্ক এবং এদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা উচিত। এই লোকটি সম্পূর্ণরূপে ভুল। তিনি এমন এক শ্রেণীর আইনজীবীদের অন্তর্ভূক্ত যারা একেবারেই ভুল। তারা আইনি পেশার জন্য কলঙ্ক।”

আরও পড়ুন- ‘নিজেদের সান্তনা না দিয়ে ক্ষতিটা মানতে শেখা দরকার: অনুপম হাজরা

বিচারপতি চন্দ্রচূড় পর্যবেক্ষণ করেছেন যে কিছু হাইকোর্টে প্রকাশ্যে বিচারকদের হুমকি দেওয়া সাধারণ অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিচারক বলেছেন, “আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে। অতিরিক্ত আদালত কক্ষের কাছে একটি চায়ের দোকানে তাঁকে আবিষ্কৃত করা হয়েছিল, ১০০ জন আইনজীবী তার সঙ্গে ছিলেন এবং জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট (NBW) পরিবেশন করা থেকে বাধা দেন। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে…এবং আরও খারাপ যখন বিষয়টি আবার এখানে আসে, তিনি বিচারপতি পিটি আশার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।” বিচারপতি চন্দ্রচূদ মন্তব্য করেছেন, মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ এবং চেন্নাইয়ে এই ধরনের পরিস্থিতি বড় আকারে ঘটছে। আদলত চত্বরে বিচারকদের উপরেই আক্রমণ ঘটনা মোটেই কাম্য নয় বলেই উল্লেখ করেছেন বিচারপতি।