বিদ্বেষের জমির উপর তৈরি হচ্ছে ‘রাম মন্দির’, RJD সভাপতির মন্তব্যে শুরু প্রবল বিতর্ক

0
38
Ram Mandir

পাটনা: রাম মন্দিরের (Ram Mandir ) নির্মাণ চললেও এখনও এই বিষয় নিয়ে নানা বিতর্কের রেশ বজায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে বাবরি মসজিদ ও রাম জন্মভূমির বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়েছিল। রায় গিয়েছে রাম মন্দিরের পক্ষেই। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়ে ভূমিপুজোর মাধ্যমেই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এই মন্দির নাকি নির্মিত হচ্ছে বিদ্বেষের জমির উপর। সম্প্রতি এমনটাই মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) নেতা এবং দলের সভাপতি জগদানন্দ সিং । সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

বিহারের আরজেডি সভাপতি বলেছেন, “ঘৃণার জমিতে রাম মন্দির তৈরি করা হচ্ছে। রামকে একটি মহৎ প্রাসাদে বন্দী করা যায় না। আমরা সেই মানুষ যারা ‘হে রাম’ বিশ্বাস করি এবং এবং ‘জয় শ্রী রাম’-এ নয়।” তিনি আরও বলেছেন, “শ্রী রাম অযোধ্যায় বা লঙ্কায় নেই, কিন্তু শ্রী রাম শবরীর কুটিরে আছেন।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারী রাম মন্দির উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবেন এই খবর বলে ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই RJD নেতার বিতর্কিত এই মন্তব্য করেছেন। এখানেই শেষ নয় আরজেডি নেতা জগদানন্দ সিং অমিত শাহকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলে বলেছেন্‌ “প্রভু রাম কি এখন মানুষের হৃদয় থেকে দূরে মন্দিরে বসবেন?” তিনি বলেন, “এখন কি রাম শুধু মন্দিরেরই থাকবে? রাম কি এখন দেশের হবে না? ভারতে রামকে মানুষের হৃদয় থেকে ছিনিয়ে নিয়ে শুধু পাথরের তৈরি বিলাসবহুল ভবনে বসিয়ে রাখা যাবে না।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলে তিনি যানতে চান, “ভগবান রাম কি রামায়ণ থেকে পালিয়ে যাবে? ভারত কি এখন রামের হবে না? মন্দির কি এখন শুধু ভগবান রামের?” তাঁর কথায়, “ভারতে, এটা বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান রাম মানুষের হৃদয়ে বাস করেন। আপনি ভগবান রামকে মানুষের হৃদয় থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি দুর্দান্ত প্রাসাদে বন্দী করতে পারবেন না। আপনি প্রভু রামকে ফাঁদে ফেলতে পারবেন না।”

- Advertisement -

আরও পড়ুন- সামাজিক সাপোর্টে এগিয়ে চলে দল, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির তুলনা দিলীপের

রাম মন্দির (Ram Mandir ) নিয়ে আরজেডি নেতার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা পাল্টা নিশানা করে বলেন, “এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয় কিন্তু ভোট ব্যাঙ্কের ব্যবহার। যখন পিএফআই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেই সময়েও তিনি অপব্যবহার করেছিলেন এবং হিন্দুদের অপমান করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” এখানেই শেষ নয়, বৃহস্পতিবার, অমিত শাহ, অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করার সময়, রাম মন্দির নির্মাণে ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকেও দোষারোপ করেন। জানিয়ে রাখা ভাল, ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অযোধ্যার অন্য জায়গায় মসজিদ নির্মাণের জন্য ৫ একর জমি বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়েছিল।