রেলপথ না কি আস্ত নদী বোঝা দায়, প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত অসম

0
264

খাস খবর ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টিতে তছনছ অসম ও অরুণাচল প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। যে দিকে চোখ যায়, শুধুই জল। টানা বর্ষণে জলের তলায় রেললাইন। জলের স্রোতেই ভাসছে ট্রেনের কামড়া। ট্রেনগুলি দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন খেলনা গাড়ি জলে ভাসছে। যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে এবং ধস নেমেছে, তাতে অসমে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ চেহারা ধারণ করেছে। বন্যা পরিস্থিতিতে অসমে পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। কয়েকজন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৬৬ হাজার ৬৭১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ কলকাতাতেই জেরা অভিষেক রুজিরাকে, ইডিকে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের: Coal Smuggling Case

প্রবল বৃষ্টিতে ধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেললাইনও। নিউ হাফলঙে রেললাইনে ট্রেনের মধ্যেই আটকে পড়েছিলেন প্রায় ২৮০০ যাত্রী। প্রাণ হাতে নিয়ে কার্যত আতঙ্কের প্রহর গুনছিলেন তাঁরা। কোনওরকমে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। বায়ুসেনার কপ্টারে করে অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দিমা হাসাও জেলায় লুমডিং শাখায় দুটি ট্রেন আটকে পড়েছিল। ওই দুটি ট্রেনের মধ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন যাত্রী।

এই পরিস্থিতিতে ২৫ জোড়া ট্রেন বাতিল করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। অসমের দিমা হাসাও এলাকায় ভূমিধসের কারণে ত্রিপুরা, মিজোরাম ও দক্ষিণ অসমের এলাকায় চলাচলকারী ওই ট্রেনগুলিকে বাতিল করেছে নর্থইস্ট ফ্রন্টইয়ার রেলওয়ে। যে সমস্ত ট্রেন বাতিল ও আংশিক বাতিল করা হয়েছে সেগুলির মধ্যে আছে, আগারতলা-আনন্দ বিহার তেজস্ব রাজধানী এক্সপ্রেস, ব্যাঙ্গালোর কান্ট আগরতলা এক্সপ্রেস, আগরতলা-সেকেন্দ্রাবাদ এক্সপ্রেস, শিয়ালদা-আগরতলা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।

আসামের সাতটি জেলায় প্রবল বৃষ্টিতে ৫৭ বহাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৫ টি রাজস্ব সার্কেলে ২২২ টিরও বেশি গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে। জলে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসল। আসামের হোজাই, লখিমপুর ও নওগাঁ জেলায় রাস্তা, সেতু ও খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কারণে হাজার হাজার পশুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসমের কাছার জেলার পরিস্থিতিও ভয়ানক। সেখানে ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।