পুলওয়ামা শহিদের স্ত্রীর সবজি বিক্রির ছবি ভাইরাল, সমালোচনা নেটিজেনদের

0
193

রাঁচি: স্বামীকে হারিয়ে পথে বসতে হয়েছে শহিদের স্ত্রীকে৷ সালটা ২০১৯৷ ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ জন সেনা জওয়ান৷ তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঝাড়ঘণ্ডের বিজয় সোরেন৷ সেই সময় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শহিদদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করবে৷ কিন্তু এক বছর কেটে গিয়েছে৷ কোনো সাহায্যই পায়নি বিজয় সোরেনের স্ত্রী বিমলা সোরেন৷ তাই বাধ্য হয়ে তাঁকে রাস্তায় বসে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে৷ এমনই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে৷

জানা গিয়েছে, স্বামী বিজয় সোরেন ছিলেন একমাত্র রোজগেরে৷ তিনি সংসারের সমস্ত খরচ চালাতেন৷ কিন্তু তিনি চলে যাওয়ায় পর আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁর পরিবার৷ এক বছরে কোনো সাহায্য করেনি সরকার৷ তাই বাধ্য হয়ে অভাবের তাড়নায় সবজি বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন বিমলা দেবী৷ সিমরেগা বাজারে তাঁর সবজি বিক্রির ছবি সোশ্যাল মিডিয় ভাইরাল হয়৷

সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি৷ এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন৷ ছবিটি নজরে আসে ঝাড়ঘণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের৷ সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিমলা দেবীকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন৷ তিনি সিমরেগা জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, অবিলম্বে বিমলা দেবীকে সমস্ত রকম সরকারি সাহায্য দেওয়ার জন্য৷

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে শহিদের বাড়িতে হাজির হন সরকারি আধিকারিকরা৷ শহিদ বিজয় সোরেন পরিবারকে সব রকম সাহায্য করবে বলে আশ্বস্ত করেন বিমলা দেবীকে৷ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এর আগে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে আর্থিক সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল শহিদ পরিবারকে৷ কিন্তু তা পূরণ হয়নি৷ একইভাবে হেমন্ত হোরেন শহিদ পরাবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছে। তাই এখন দেখার বিষয় কতটা আর্থিক সাহাযা পায় শহিদ পরিবার৷

প্রসঙ্গত, এক বছর আগে, জম্মু থেকে শ্রীনগরে ২,৫০০ সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) কর্মী পরিবহনের ৭৮ টি গাড়ির একটি কাফেলা জাতীয় হাইওয়ে ৪৪-এ যাত্রা করছিল। কাফেলা সূর্যাস্তের আগে তার গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল৷ অবন্তীপাড়ার কাছাকাছি লেথপোরায় নিরাপত্তা কর্মীবাসী একটি বাস বিস্ফোরক বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে৷ ঘটনায় ৭৬তম ব্যাটালিয়নের সিআরপিএফের ৪০ জন সদস্যের মৃত্যু হয়৷ আহত হয় অনেকে।