Nagaland Killings: চরম হুঁশিয়ারি উপজাতি সংগঠনগুলির, নাগাল্যান্ড গণহত্যায় রাজ্য সরকারকে বেঁধে দিল সময়সীমা

গত ৪ ডিসেম্বর গ্রামবাসীরা ওটিং গ্রাম থেকে মিনি ট্রাকে চেপে ফিরছিলেন। সেই সময়েই চলছিল অনুপ্রবেশকারী বিরোধী অভিযান। রাতের অন্ধকার থাকায় মিনি ট্রাকে থাকা গ্রামবাসীদের অনুপ্রবেশকারী ভেবে গুলি চালায় সেনা। তাতেই ঘটে দুর্ঘটনা।

0
666

কোহিমা: গত বছরের ৪ ডিসেম্বরের অনুপ্রবেশকারী ভেবে সেনারা গুলি চালালে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। যে ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি নাগাল্যন্ডে। সময়ের সঙ্গে উত্তাপ কমার বদলে বেড়েছে। এবার নাগাল্যান্ডে গুলি চালানোর ঘটনায় উপজাতি সংগঠনগুলি রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

নিরীহ গ্রামবাসীদের মৃত্যুর ঘটনার আসল তদন্তের পর রিপোর্ট সামনে আনার জন্য নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন সংগঠন বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এবার রাজ্যসরকারকে আসল কারণ জানানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। জানা গিয়েছে আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আনার জন্য বিক্ষুব্ধ সংগঠনগুলির তরফে সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। কোন্যাক ইউনিয়ন, কোনিয়াক ন্যুপুহ শেকো খং এবং কোন্যাক স্টুডেন্টস ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি কনিয়াক উপজাতি ইউনিয়নের একটি সংগঠন শুক্রবার বৈঠক করেছে। নাগাল্যান্ড পুলিশের এসআইটি বা বিশেষ তদন্ত দলের একটি প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

নাগাল্যন্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে দলগুলি বলেছে যে তাদের ‘সম্পূর্ণ অসহযোগ’ আন্দোলন সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে, যা ১৪ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছিল। এই আন্দোলন ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলেই সাফ জানিয়েছে সংগঠনগুলি। সংগঠনগুলির তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, “৩০ দিনের যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, জানুয়ারি ১৫ থেকে তা আরও ১০ দিন বৃদ্ধি করা হল। এই সময়সীমায় দাবি মেনে নেওয়া না হলে পূর্ব নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশনের অনুমোদন অনুযায়ী সমস্ত উপজাতি তাদের এক্তিয়ারে মধ্যেই সমস্ত জাতীয় অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকবে।” এই নিয়ে কোন্যাক সংগঠনগুলি দ্বিতীয়বার সরকারকে শেষ সময় দিল।

উল্লেখ্য, ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশন হল পাঁচটি জেলা জুড়ে ছয়টি নাগা উপজাতির একটি শীর্ষ সংস্থা। সেই সংগঠনের মধ্যে রয়েছে সোন, তুয়েনসাং, লংলেং, কিফিরে এবং নকলাক। ১০ জানুয়ারী ৩০ দিনের মেয়াদ শেষ হয়। তারপরে ১৪ জানুয়ারী সমস্ত উপজাতীয় সংস্থার একটি শীর্ষ সম্মেলন নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর গ্রামবাসীরা ওটিং গ্রাম থেকে মিনি ট্রাকে চেপে ফিরছিলেন। সেই সময়েই চলছিল অনুপ্রবেশকারী বিরোধী অভিযান। রাতের অন্ধকার থাকায় মিনি ট্রাকে থাকা গ্রামবাসীদের অনুপ্রবেশকারী ভেবে গুলি চালায় সেনা। তাতেই ঘটে দুর্ঘটনা। সেই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন দেশের শীর্ষ নেতারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছিলেন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের। সেই দাবি এবার আরও তীব্র হল। বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা।