লাদাখে ভারতের পাশে তাঁবু গড়ে বসবাস চিনের, সতর্ক সেনা

0
18

নয়াদিল্লি: বেশ কয়েকদিন শান্ত থাকেলও চিনাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব যায়নি। ২০২০ সালের ১৫ মে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষের পর দফায় দফায় শান্তি বৈঠক হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে শান্তি ফেরানোর কথা বলা হলেও কাজে তা করছে না চিন। উল্টে চুপিসারে সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধির পথেই হাঁটার কাজ শুরু করেছে ড্রাগন। জানা গিয়েছে পূর্ব লাদাখের ডেমচকের চারডিং নালের পাশে ভারতের জায়গার পাশেই তাঁবু তৈরি করেছে তাঁরা।

এক উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা এই তাঁবু দখলকারী লোকদের “তথাকথিত নাগরিক” হিসাবে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন যে, ভারত যদিও তাদের ফিরে যেতে বলছে, তবুও সেখানে ‘তাঁদের উপস্থিতি রয়ে গিয়েছে। ডেমচকে এর আগেও দুই দেশের সেনাদের মুখোমুখি হতে দেখা গিয়েছিল ১৯৯০-এর দশকে ভারত-চিন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডাব্লুজি) বৈঠকে। সেই সময় ডেমচক এবং ট্রাই হাইটসের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) বিষয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল বলে উভয় পক্ষই একমত হয়েছিল। পরে, মানচিত্রের আদান-প্রদানের পরে, এলএসি-র বিভিন্ন ধারণার ভিত্তিতেটি অঞ্চল স্বীকৃত হয়েছিল।

আরও পড়ুন- খেলা হবে দিবসের প্রত্যুত্তরে এবার ‘পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও সপ্তাহ’ কর্মসূচি বিজেপির

সেই জায়গাগুলি ছিল সমর লুঙ্গপা, দেপসাং ব্লাজ, পয়েন্ট 6556, চাংলং নালা, কংকা লা, প্যাংগ তসো উত্তর তীর, স্পাংগুর, মাউন্ট সাজুন, ডুমচেলে এবং চুমার। বলে রাখা ভালো, যেখানে এলএসি রয়েছে সেখানে দ্বিপক্ষীয় ভাবে ভিন্ন মত পোষণ করেছে। গত বছর থেকে শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিগত বছরের তুলনায় পূর্ব লাদাখের এলএসি-তে পাঁচটি ঘর্ষণ পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সেইগুলি হল, গালওয়ান উপত্যকার KM120, শায়োক সুলা অঞ্চলের PP15 এবং PP17A, রিচিন লা এবং রেজ্যাং লা। উল্লেখ্য, সোমবার কর্পস কমান্ডার-পর্যায়ের আলোচনার দ্বাদশ দফার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু ভারত সেই আলোচনা কয়েক দিনের জন্য স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন- মমতার দাবিকে ‘মান্যতা’ দিয়ে সিপিএমের দলীয় অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে ২৬ জুলাই কারগিল দিবস হিসাবে পালন করে। এই কারণেই বৈঠক কয়েকদিন পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাওতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। সূত্র জানিয়েছে, কর্পস কমান্ডার-স্তরের আলোচনা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বা সম্ভবত তার আগে হতে পারে। উল্লেখ্য, চিনের হাবভাব দেখার পরেই, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দক্ষ সেনাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লাদাখে, ভারত-চিনের সীমান্তে৷ সীমান্তে নিয়ে যাওয়া এই ১৫ হাজার দক্ষ সেনার সিংহভাগই দীর্ঘদিনই জম্মু-কাশ্মীরের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নাগাড়ে ডিউটি করেছেন৷ সব মিলিয়ে ড্রাগন যাই করুক না কেন সমস্ত পদক্ষেপের উপরেই নজর রাখছে ভারত।