অদম্য ইচ্ছাশক্তি, এক পায়েই দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে যাচ্ছে ১০ বছরের কন্যা, ভাইরাল ভিডিও

0
83

পাটনা: প্রতিবন্ধকতা যে শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনও বাধাই হতে পারে না সেই প্রমাণই আরও একবার দিল ১০ বছরের ছাত্রী। ইন্টারনেটের নতুন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যা মন কেড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনীতিবিদ সকলের। ভিডিওতে দেখা গিয়েচজে ১০ বছরের স্কুল ছাত্রীকে এক পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে স্কুলে যেতে। একরত্তির অদমাই ইচ্ছাই মন জয় করেছে আম জনতার।

বিহারের জামুই জেলায় সীমা নামের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ের এক পায়ে স্কুলে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দুই বছর আগে একটি দুর্ঘটনার পরে, ছোট্ট মেয়েটির পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। কিন্তু পা যাওয়া তাঁর পড়াশোনা ও স্কুলে যাওয়ার প্রতি তাঁর ইচ্ছা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পরিবর্তে সীমা প্রতিদিনই এক পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্কুলে যায় তার সীমার এক পায়ে স্কুলে যাওয়ার একটি ভিডিও একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এবং সংবাদ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক এবং অনুপ্রেরণামূলক ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে৷ এমনকি রাজনীতিবিদ থেকে অভিনেতা অনেকেই এই অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী কন্যার ভিডিও শেয়ার করেছেন।

অভিনেতা সোনু সুদ, যিনি করোনা মহামারী চলাকালীন জনহিতকর কাজের জন্য প্রশংসা অর্জন করেছিলেন তিনি সীমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। একরত্তির ভিডিও রিটুইট করে, সোনু সুদ লিখেছেন, “এখন সে এক নয়, দুই পায়ে লাফিয়ে স্কুলে যাবে। আমি টিকিট পাঠাচ্ছি, দুই পায়ে হাঁটার সময় এসেছে।” বিহার সরকারের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন বিভাগের মন্ত্রী ডঃ অশোক চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে ট্যাগ করে সীমার ভিডিও শেয়ার করেছেন। লিখেছেন, “আমরা গর্বিত যে আমাদের রাজ্যের শিশুরা শিক্ষার প্রতি সচেতন হচ্ছে, সমস্ত বাধা অতিক্রম করছে এবং একটি শিক্ষা গ্রহণ। সীমা এবং তার মতো প্রতিটি শিশুকে চিহ্নিত করে তাদের যথাযথ সাহায্য করা হবে। যাইহোক, মেয়ে শিশুর কাছে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছেছে।”

অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন যে সীমা সমস্ত দেশপ্রেমিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। তিনি টুইটে লিখেছেন, “১০ বছরের সীমার কাজ আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। দেশের প্রতিটি শিশু সুশিক্ষা চায়। আমি রাজনীতি জানি না, আমি জানি প্রতিটি সরকারেরই যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে। সীমার মতো প্রতিটি শিশুকে সর্বোত্তম শিক্ষা দেওয়া প্রতিটি সত্যিকারের দেশপ্রেমের মিশন হওয়া উচিত, এটাই প্রকৃত দেশপ্রেম।” ইতিমধ্যেই বিহারের আধিকারিকরা দ্রুত ভিডিওটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং সীমাকে একটি ট্রাইসাইকেল উপহার দিয়েছেন। ট্রাইসাইকেলে বসা সীমার ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।