‘করোনা এখনও শেষ হয়নি’ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নতুন সতর্কবানীতে দেশে বাড়ছে উদ্বেগ

0
52

নয়াদিল্লি: ফের ভারতে মাথা চাড়া দিচ্ছে করোনা। নতুন করে মাথা চাড়া দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। তবে আসন্ন মারণ ভাইরাসের চতুর্থ ধেউ এই প্রশ্ন এখন দেশ জুড়ে ঘুরছে। করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ফের একবার সতর্ক করল কেন্দ্র। বেশ কয়েকটি রাজ্যে করোনার আক্রান্তের সংখ্যার বৃদ্ধির মধ্যে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য সোমবার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে স্কুলগামী শিশুদের টিকাদানের হার, বয়স্কদের জন্য বুস্টার ডোজ এবং জিনোম সিকোয়েন্সিং জোরদার করার দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নতুন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বার্তাই চিন্তা বৃদ্ধি করেছে।

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সিনিয়র আধিকারিকদের সাথে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেছেন, “কোভিড এখনও শেষ হয়নি। কিছু রাজ্যে কোভিডের ক্রমবর্ধমান মামলার খবর রয়েছে। এই সময়ে সতর্ক হওয়া এবং কোভিড-উপযুক্ত আচরণ যেমন মাস্ক পরা এবং সংক্রমণের বিস্তার রোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।” ফের যাতে ভারতে সংক্রমণ বৃদ্ধি না পায় সেই কারণে তিনি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে খুঁটিয়ে নজরদারি চালিয়ে যাওয়া এবং দেশে নতুন মিউট্যান্ট বা রূপগুলি সনাক্ত করার জন্য জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের উপর বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাকে রুখতে পরীক্ষা, ট্র্যাক, চিকিত্সা, টিকাকরণ এবং করোনাবিধি মেনে চলা এই পাঁচটি বিষয়ের কথা মাথায় রাখার কথা বলেছেন।

- Advertisement -

আরও পরুন: আপাতত জেরা শেষ, ৩ ঘণ্টা পর ইডি দফতর থেকে বেরালেন রাহুল গান্ধী

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুর্বল বয়সের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে করোনা টিকা দেওয়ার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আসুন আমরা ১২-১৭ বছর বয়সী সকল সুবিধাভোগীদের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের জন্য চিহ্নিত করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করি, যাতে তারা ভ্যাকসিনের নিয়ে সুরক্ষিত ভাবে স্কুলে যেতে পারে।” বর্তমানে দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই গ্রীষ্মের ছুটি রয়েছে এই কারণে শিশুদের এই সময়ের মধ্যে টিকাদান সম্পন্ন করার উপরেই যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। যাতে স্কুল খুললেও শিশুদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় না থাকে। সেই সঙ্গেই বয়স্কদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মনসুখ মান্ডব্যর কথায় ৬০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার গোষ্ঠীর মধ্যে ঝুঁকি রয়েছে তাই তাদের সতর্কতা ডোজ দিয়ে সুরক্ষিত করা দরকার।

আরও পরুন:  ধনখড়ের সম্মতির অপেক্ষায় ‘আচার্য’ মমতা

উল্লেখ্য, সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৮৪ জন নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত তিনদিন ধরেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজারের বেশিই রয়েছে। যা যথেষ্ট চিন্তার। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন যা রবিবারের থেকে বেশি। বর্তমানে দেশে করোনার অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৯৯৫ জন। ৩.২৪ শতাংশ রয়েছে দৈনিক পজিটিভিটি রেট। সব মিলিয়ে করোনা যে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা এই সতর্কবানী থেকেই স্পষ্ট।