জ্যোতিষীর পরামর্শে দুঃস্বপ্নের প্রতিকার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে জ্বিভ হারালেন ব্যক্তি

0
55

চেন্নাই: জ্বিভে সাপের ছোবল আর তাতেই এক ব্যক্তি হারিয়েছে তাঁর দেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে জ্বিভ হারিয়েও জ্যোতিষীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তাতেই অবাক হয়েছেন সকলে। কুসংস্কার মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে সেটাই জ্বলন্ত উদাহরণ মিলেছে। একবিংশ শতাব্দীতে বাস করেও কিভাবে এই ধরণের বিশ্বাস আসে সেটাই ভেবে উঠতে পারছেন না অনেকে।

ঘটনাটি তামিলনাড়ুর ইরোড জেলার। জানা গিয়েছে ৫৪ বছরের রাজা যিনি ইরোড জেলার গোবিচেত্তিপালিয়ামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কৃষক তিনি গত কয়েকদিন ধরে প্রায়ই একটি সাপে কামড়ানোর ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখছিলেন। রাজা ভয়ঙ্কর স্বপ্ন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটি প্রতিকার চেয়ে একজন জ্যোতিষীর কাছে যান। জ্যোতিষী তাঁকে এই স্বপ্নের প্রতিকার হিসাবে সাপের কিছু পূজা করার পরামর্শ দেন এবং রাজাকে একটি মন্দিরে নির্দেশ দেন যেখানে একটি সাপের গর্ত ছিল। সেই কথা শুনেই ওই ব্যক্তি পূজার জন্য মন্দিরে পৌঁছেছিলেন যেখানে পুরোহিত রাজাকে পূজা করার পরে সাপটিকে তার জিহ্বা দেখাতে বলেছিলেন। পুরহিতের নির্দেশ মেনে সাপের সামনে জ্বিভ দেখাতে গিয়েই ঘটেছে বিপত্তি। তিনি সাপের বাসস্থানের কাছে পূজা এবং আচারের শেষে রাজা একটি বিষধর সামনে তার জিহ্বাটি তিনবার বের করার সময়েই বিষধর সাপ তাকে তার জিভে কামড় দেয় এবং রাজা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

- Advertisement -

আরও পড়ুন- ‘পশ্চিমবঙ্গের সমাজই সুরক্ষিত নেই আর সংবিধান’, দিল্লি যাওয়া পথে বিস্ফোরক দিলীপ

বিষয় গুরুতর বুঝতে পেরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুরোহিত ব্যক্তির অবস্থা বুঝতে পেরেই সঙ্গে সঙ্গে রাজার জিভ কেটে দেন। তারপর, তাকে তার আত্মীয়রা ইরোডের মানিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়, যেখানে সাপের কামড়ের চিকিৎসা করা হয়। ইরোড ম্যানিয়ান মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ এস সেন্থিল কুমারান জানিয়েছেন যে রোগীকে ১৮ নভেম্বর তার মুখ থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন, “সাপের বিষের কারণে জিহ্বার টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডাক্তাররা রাজার কাটা জিভের চিকিত্সা করেছিলেন এবং তাকে সাপের বিষের প্রতিষেধকও দিয়েছিলেন। রাজার জিহ্বা কেটে ফেলার পরেও তার জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদের চার দিন ধরে সংগ্রাম করতে হয়।”