পাঠকদের জন্য সুখবর, পঞ্চাশ শতাংশ ছাড়ে বই মিলছে কলেজ স্ট্রীটে

0
77

পূর্বাশা দাস: বই হয়ে উঠতে পারে অবসর যাপনের প্রিয় সঙ্গী। বই হয়ে উঠতে পারে একাকীত্বের সবচেয়ে বড় অবলম্বন। বই প্রেমীদের জন্য এবার দারুন সুখবর। একেবারে পঞ্চাশ শতাংশ ছাড়ে বই পাওয়া যাচ্ছে কলেজ স্ট্রীটে। অবিশ্বাস্য হলেও এ কথাই সত্যি। বইপ্রেমীদের জন্য অভিনব এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দে’জ পাবলিশিং।

করোনা কালের লকডাউন বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তার করাল থাবা বসিয়েছে। বিনোদন থেকে পর্যটন কোনও শিল্প ক্ষেত্রেই বাদ যায়নি করোনার প্রকোপ থেকে। সব ক্ষেত্রে একটাই কথা মন্দা! এই ব্যবসায়িক মন্দা থেকে  রেহাই পায়নি কলকাতার বইপাড়াও। করোনার সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো দোসর ছিল ভয়াবহ আম্ফান। আমফানের তান্ডবে কলেজ স্ট্রীটের বই পাড়া মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এবং বই বিপণিতে জল জমে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

- Advertisement -

আমফান এর কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত বা বহুদিন প্রকাশকের ঘরে পড়ে থাকা কিছু বই অথবা বেশি সংখ্যায় মুদ্রিত বই যেগুলি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু পুরোপুরি পাঠযোগ্য, সেরকম বই বিপুল ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে একই ছাদের তলায়। এই অভিনব উদ্যোগের পথিকৃত দে’জ পাবলিশিং। দে’জ পাবলিশিং এর তরফে কর্ণধার অপু দে খাস খবরকে জানালেন, “আমফানের সময় কিছু বই জলে ভিজে গিয়েছিল সে গুলিকে আমরা শুকিয়ে আবার পাঠযোগ্য অবস্থায় পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি। এছাড়াও বেশ কিছু বই যেগুলো বেশি সংখ্যায় আমরা ছাপিয়ে ছিলাম সেরকম বইও পাওয়া যাচ্ছে। তবে একদমই এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে এই বই পড়ার যোগ্য নয়। পাঠকদের মধ্যে বিপুল সাড়া পেয়েছি আমরা। বর্ধমান ব্যান্ডেলের মতো দূর-দূরান্ত থেকে পাঠকরা এসে তিন সাড়ে তিন ঘন্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে বই কিনছেন।”

কথায় কথায় অপু আরও জানালেন, “পাঠকদের মধ্যে  দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে বই কেনার উন্মাদনা কোথাও বইমেলার স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে। আরও বেশ কিছু প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে কথা বলে এই একই জায়গাতে ছোট বইমেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আপাতত এই বিপুল ছাড়ে বই পাওয়া যাচ্ছে শুধুমাত্র দে’জ পাবলিশিং এর তরফেই। তবে বইপ্রেমীদের কাছে আরও বেশি করে বই ছড়িয়ে দেওয়া এবং বই ব্যবসাকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যেই এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানালেন দে’জ পাবলিশিং এর কর্ণধার অপু দে। “আমার  কাছে বই কিনতে এসে বহু পাঠক কলেজ স্ট্রীটের অন্যান্য প্রকাশকের ঘর থেকেও বই কিনেছেন। এতে সামগ্রিক ভাবে বইয়ের বিক্রি বেড়েছে, বই ব্যবসার উন্নতি হয়েছে।” যোগ করলেন অপু।

১১ থেকে ১৫ই অগাস্ট পর্যন্ত এই অফার চলবে। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কলেজ স্ট্রীট অঞ্চলের শ্যামাচরণ দে স্ট্রীটে দে’জ পাবলিশিং এর বিপণিতে এই বিপুল ছাড়ের সুযোগ উপলব্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই পাঠকদের সাড়া পেয়ে আপ্লুত প্রকাশনা সংস্থা। দুপুর ১২টা থেকে দোকান খোলার কথা থাকলেও সকাল ১০টা থেকেই বই কেনার জন্য লাইন দিচ্ছেন বইপ্রেমী মানুষজন। সমস্ত রকম কোভিড বিধি মেনে একবারে মাত্র কুড়ি জন ক্রেতাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। কোভিড পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহারের বিষয়েও জোর দিচ্ছে প্রকাশনা সংস্থা।