ব্যস্ততা কাটিয়ে পাহাড়ি নির্জনতা, ঠিকানা হোক বাঁশের বাড়ি

0
37

দার্জিলিং: সমুদ্র বলতে যেমন বাঙালি বোঝে দীঘা বা পুরী তেমনই হিল স্টেশন বা শৈলশহর বলতে দার্জিলিং। কথাতেই আছে দী-পু-দা অর্থাৎ দীঘা, পুরী আর দার্জিলিং হল বাঙালির প্রিয় ঘোরার জায়গা। শৈলশহর দার্জিলিং, যাকে আমরা ‘Queen of the Hills’ বলে থাকি, তার প্রেমে পড়েনি এমন বাঙালি বোধহয় খুব কমই আছেন। সারা পৃথিবী ঘুরে এলেও, বাঙালিদের কাছে দার্জিলিং কিন্তু কখনোই পুরনো হয়না। পাহাড়ের টানে বারংবার ছুটে যেতে মন চায় চা, ট্রয় ট্রেন আর কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরুপ দৃশ্য দেখার জন্য।

আরও পড়ুনঃ রিয়ালের সঙ্গে টক্কর, এমবাপ্পেকে ‘কোচ-খেলোয়াড়’ পরিবর্তনের মতো লোভনীয় অফার পিএসজির

দার্জিলিংয়ের কথা পর্যটকদেরকে বললে মনে মনে চিত্রিত হয় বিজন বাড়ি, লামাহাটা, তাকদা, বাঁশবাড়ির নাম। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম বাঁশবাড়ি। নাম শুনলে মনে হবে বাঁশের তৈরি বাড়ি। একদম ঠিক তাই কিন্তু এই বাঁশের বাড়ি আর পাঁচটা বাড়ির মত সাধারণ নয়। বাঁশবাড়ি গেলে দেখতে পাবেন কাচের বড়ো বড়ো জানলা দরজা। সকালে ঘুম ভাঙবে পাখিদের কলরবে। এক কাপ কফি খেতে খেতে পাখির ডাক উপভোগ। সারাদিনের ব্যস্ততাকে ফেলে রেখে এই বাঁশের বাড়িতে নিশ্চিন্তে বসে সময় কাটাতে পারেন। শহরের কোলাহল ছেড়ে নির্জন এ কিছুটা সময় কাটালে দেখবেন মনটাও ফ্রেশ হয়ে উঠবে।

এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামের আশেপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বড়ই মনোরম। প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকার সুযোগ উত্তরবঙ্গের খুব কম পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে। উল্টো দিকের পাহাড়ের গায়ে রয়েছে চংটং চায়ের বাগান। সবুজে মোড়া এই ছোট্ট জনপদকে ঘিরে রয়েছে নেপাল ও সিকিম মিলে। একদিকে নেপাল, আর একদিকে সিকিমের কিছু অংশ দেখা যায় বাঁশবাড়ি থেকে। আর এর পাশাপাশি তো রয়েছেই আদি অকৃত্রিম দার্জিলিং। সূর্য ডুব দিলেও জ্বলে ওঠে দার্জিলিং। রাতের অন্ধকারে আরও মায়াবী দেখায় শৈলশহরকে।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রোহিণী, কার্শিয়াং হয়ে ঘুমের রাস্তা ৬২ কিলোমিটার। এই ঘুম থেকে বিজনবাড়ির দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। এরপরেই শুরু হয়েছে পুলবাজারের পথ। নীচে দিয়ে বয়ে গিয়েছে রঙ্গিত নদী। ব্রিজ পেরোলেই দেখা মিলবে ঘন জনবসতি। এখান থেকে ১০ মিনিট পথ অতিক্রম করলে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দেখা মিলবে এক নতুন গন্তব্যের। নাম বাঁশবাড়ি। বাঁশ আর ধুপির অদ্ভুত সমন্বয় এই বাঁশবাড়ি। পাহাড়ে ঘেরা জঙ্গলের মাঝে পরিবেশবান্ধব এক অসাধারণ পর্যটনকেন্দ্র বাঁশবাড়ি। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে ছুটি কাটানোর বাঁশবাড়ির আদর্শ ডেস্টিনেশন।

দার্জিলিং থেকে এখানে বিজনবারি তে আসতে ছোট গাড়ি ভাড়া নেবে ১৫০০ টাকা আর পুরো গাড়ি ভাড়া করে নিলে পড়বে ২৩০০ টাকা মত। আর জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া নিলে পড়বে ছোট গাড়ি ২০০০ টাকা আর বড়ো গাড়ি ৩০০০ টাকা মত।