রাজাবাজারে আক্রান্ত বাংলাপক্ষের মহিলা সহযোদ্ধারা, ওড়না টেনে মারধোর

ব্যাপক মারধোরের পরে এক সদস্যার গায়ে থাকা ওড়না টেনে নেওয়া হয় বলে উঠেছে অভিযোগ। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশের কাজে খুশি নয় সংগঠনের সদস্যরা।

0
650

সৌমেন শীল, কলকাতা: সংগঠনের কর্মসুচী থেকে ফেরার পথে আক্রান্ত হতে হল বাংলাপক্ষের মহিলা সহযোদ্ধাদের। ব্যাপক মারধোরের পরে এক সদস্যার গায়ে থাকা ওড়না টেনে নেওয়া হয় বলে উঠেছে অভিযোগ। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশের কাজে খুশি নয় সংগঠনের সদস্যরা।

আরও পড়ুন- তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ বাংলাপক্ষের

- Advertisement -

ঘটনাটি ঘটেছে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার বিকেলের পরে। ওই দিন স্ট্যান্ড রোডে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল বাংলাপক্ষের। সেই সভা থেকে ফিরছিলেন বাংলাপক্ষের দুই মহিলা সদস্যা। সেই সময়েই তাঁদের হামলার শিকার হতে হয়। মূলত হিন্দির বিরোধিতা করার কারণে বিভিন্ন সময়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে ওই সংগঠনের সদস্যদের। কখনও আবার উর্দুর বিরোধিতা করেও রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে রাজাবাজারের ঘটনা তেমন নয়। নেহাতই সামাজিক কারণ।

আরও পড়ুন- দলীয় কর্মীদের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি দিলীপ ঘোষ

ধর্মতলার দিক থেকে বাসে করে ফিরছিলেন ওই দুই মহিলা। সেই বাসে জনা কয়েক মহিলার মুখে মাস্ক ছিল না। মৌলালীর কাছে যা নিয়ে প্রতিবাদ করেন বাংলাপক্ষের সহযোদ্ধা দুই মহিলা। যা নিয়ে শুরু হয় বচসা। শিয়ালদহ স্টেশন পার করে জগৎ সিনেমা হলের সামনে বচসা চরমে ওঠে। টাকি স্কুলের কাছে বাস পৌঁছাতেই মুখে মাস্ক না পরা মহিলাদের বাড়ির লোকেরা চলে আসে এবং শুরু হয়ে যায় হামলা।

আরও পড়ুন- এবার রাজনীতির ময়দানে বড় চমক: রোহন, শত্রুঘ্ন যোগ দিচ্ছে শাসকদলে

দুই মহিলাকে ব্যাপক মারধোর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাপক্ষ। রীতিমতো দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে হয়েছে বলেও উঠেছে অভিযোগ। সমগ্র ঘটনা মোবাইলে রেকর্ড করতে চাইলে হাতে মেরে মোবাইল ফেলে দেওয়া হয়। গায়ের ওড়না টেনে মুখে আঘাত করার কারণে এক মহিলার চোখের কোনে ফুলে গিয়েছে।

এই বিষয়ে আর্মহার্স্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগ এফআইআর হিসেবে পুলিশ গ্রহণ করলেও পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাপক্ষের সহযোদ্ধারা। এক সহযোদ্ধার কথায়, “থানায় এফ আই আর করতে গেলে পুলিশ সহযোগিতা করলেও তাদের মুখে শোনা যায়, ‘বুঝতেই তো পারছেন, কি করবো বলুন!'”

আরও পড়ুন- সিঙ্গুরের সেগুন কাঠ চুরির মামলায় হাওড়া থেকে পাকড়াও অভিযুক্ত

ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই ব্যক্তি বলেছেন, “মানে?? কি বুঝবো?? কেনোই বা বুঝবো?? আমার মাটিতে আমার মায়ের বয়সী কাউকে কিছু বহিরাগত মারবে, গালিগালাজ করবে, অসভ্য ইঙ্গিত করবে আর আমি সেটা “বোঝা”র দোহাই দিয়ে হজম করে, ওষুধ খেয়ে, হাতে পায়ে বোরোলিন লাগিয়ে চলে আসবো? সেই দিন আর নেই।” এই বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বড়বাজার, ভাটপাড়া – কিংবা রাজাবাজার, মেটিয়াবুরুজ সব এক। বড়বাজারে এক বাঙালি ভাইকে বাংলাদেশী শুনতে হয়েছিল, আমরা সেখানে জয় বাংলা কায়েম করে এসেছিলাম।পরিষ্কার ভাবে বলছি, রাজাবাজারে ও জয় বাংলা কায়েম হবে। খুব শিগগির হবে।”