রাজারহাটে পুকুর ভরাটে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা

0
402

কলকাতা: পরিবেশ বাঁচাতে জলাশয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই পুকুর ভরাট বন্ধ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে দেহা গিয়েছিল রাজ্য প্রশাসনকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে সচেতনতা গড়তে চালু করেছিলেন ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্প। কিন্তু সচেতনতা দূরের কথা দলনেত্রীর কথা উপেক্ষা করে পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠল তৃণমূলেরই নেতার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাট-বিষ্ণুপুর দুই নং পঞ্চায়েত এলাকায়। ওই এলাকার ঘোষপাড়া অঞ্চলে চলছে পুকুর ভরাটের কাজ। যে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে তার অদূরেই রয়েছে বিডিও অফিস। ওই অফিসের সংলগ্ন এলাকায় পুকুর ভরাট নিয়ে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।

- Advertisement -

যার বিরুদ্ধে মূলত এই অভিযোগ তার নাম হচ্ছে অসীম বোস। রাজারহাট-বিষ্ণুপুর দুই নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য ছিলেন তিনি। ঘোষপাড়া অঞ্চলটি তৃণমূল নেতা অসীম বোসের এলাকা বলেই পরিচিত। সেখানে পুকুর ভরাটের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলেও উঠেছে অভিযোগ। তৃণমূলের স্থানীয় সমর্থকেরাও ওই ঘটনার জন্য অসীম বোসকেই কাঠগড়ায় তুলছে।

যদিও পুকুর ভরাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অসীম বোস। তাঁর পালটা দাবি, “এলাকায় কোনও পুকুর ভরাট হচ্ছে না।” কিন্তু ঘটনাস্থলে দেখা গিয়েছে পুকুরের মধ্যে মাটি ফেলা হচ্ছে। প্রায় জঙ্গল ঘেরা প্রায় সম্পূর্ণ পুকুর বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। এই বিষয়ে অসীম বোসের বক্তব্য, “ওই বিষয়টা আমিও শুনেছিলাম। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে একটা কোম্পানি নিজেদের মাটি রাখার জন্য পুকুরের পাশের জায়গাটা ভাড়া নিয়েছিল। সেখানেই মাটি রাখছিল। সেই মাটির কিছুটা ওই পুকুরে পরে গিয়েছে।” বিষয়টি নজরে আসতেই ওই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন অসীমবাবু। যদিও তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাজেদা বিবি পুকুর ভরাটের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন দলের নেতা অসীম বোসকেই। তাঁর কথায়, “ঘোষপাড়া তো অসীম বোসের এলাকা। সেখানে পুকুর ভরাট হলে তিনি জড়িত থাকতেই পারেন।” তাহলে পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সাজেদা বিবি বলেছেন, “আমি নিজের চোখে কিছুই এখনও দেখিনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই রাজারহাট থানার আইসিকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”