অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যালে সেজে উঠেছে শীতের সিটি সেন্টার

0
37

খাস ডেস্কঃ আজ থেকে শুরু হয়ে গেল হিমালয়ান অরেঞ্জ ট্যুরিজম ফেস্টিভ্যাল। পঞ্চম বর্ষে সল্টলেকের সিটি সেন্টারে চলা তিনদিনব্যাপী এই ফেস্টিভ্যালে রয়েছে নানান চমক। দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই উৎসবের স্বাদ উপভোগ করা যাবে। এশিয়ার সর্ববৃহৎ গ্রামীণ এই মেলা নামে কমলালেবুর উৎসব বা অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল হলেও এর মূল উদ্দেশ্য উত্তরবঙ্গ তথা হিমালয়ার কোলে গ্রাম্য পর্যটনকে উজ্জীবিত করা।

নেপাল, বাংলাদেশ, অরুণাচল প্রদেশের একাধিক মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যে দিয়ে এদিন এই ফেস্টিভ্যালের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করা গ্রাম থেকে আসা বাসিন্দারা নাচ,গান পরিবেশন করেন। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ট্যুরিজম এবং কনজারভেশনের আহ্বায়ক রাজ বসু। উদ্বোধনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস জানিয়েছেন- এই ফেস্টিভ্যালের ফলে কলকাতায় বসেই দার্জিলিং, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ,নেপালের হরেক রকম কমলালেবুর মিশ্রণের স্বাদ নেওয়া যাবে।

- Advertisement -

২০১৪ সাল থেকেই কলকাতায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূলত উত্তরের পাদদেশে যে ছোট ছোট গ্রামগুলি রয়েছে, যেখানে কমলালেবুর চাষ হয়, সেই গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিখুঁত কাজ স্টলে তুলে ধরা হয়েছে । এই ফেস্টিভ্যালে দার্জিলিং,সিকিম, অরুণাচলপ্রদেশ ছাড়াও পড়শি দেশ নেপাল, বাংলাদেশ থেকে কমলালেবু ও বিভিন্ন ফল দিয়ে বানানো সামগ্রিও রয়েছে স্টলে। তাঁদের হস্তশিল্প, সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলা, নেপাল, সিকিম, অরুনাচল প্রদেশের একাধিক গ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেছেন। মোট ৩৪ টি স্টলে ৫১২ জন ব্যবসায়ী তাঁদের চাষের ও হস্তশিল্পের সামগ্রি দিয়ে স্টল সাজিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন- এই মেলার ফলে গ্রামের মানুষদের ব্যাপক পরিসরে পরিচিতির পাশাপাশি আয়ের সুযোগ আগের থেকে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

হিমালয়ান অরেঞ্জ ট্যুরিজম ফেস্টিভ্যালের মধ্যে দিয়ে গ্রাম্য ছোট ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনই ভ্রমণপিপাসুরা এই শীতের মরশুমে নতুন নতুন ডেসটিনেশন ও হোম-স্টে’রও খোঁজ পাচ্ছেন। সেইসব পর্যটন কেন্দ্রের স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচয় ঘটছে। এতে ভারতের একাধিক জেলার পাশাপাশি পড়শি দেশের সঙ্গে পর্যটন ব্যবস্থা, বন্ধুত্ব, যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হওয়ার পথও প্রশস্ত হচ্ছে।