কথার মধু ঝরছে, ভাবখানা এমন- মেরেছো কলসির কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না

বঙ্গ রাজনীতিতে ঠিক কবে, কীভাবে, কার হাত ধরে কু-কথার সূচনা হয়েছে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে৷ তবে একবিংশ শতকের গোড়ায় কু-কথার জন্য বিনয়-সুভাষ-শ্যামল বনাম মমতা-সোনালী-মানসের জুটির কথা কারও অজানা নয়৷ এই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর৷ রাজ্যের প্রবীণ রাজনৈতিক সচেতন মানুষজনের মতে, আগে শুধু ভোটের সময় কু-কথার চাষ হত, এখন বছর ভর হয়!

0
57

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: সালটা ২০০৬৷ ভরা বাম জমানা৷ শুধু মাটি বা মানুষ নয়, বাংলার গাছ-পালাও তখন ‘লাল’ সমর্থক! একান্তে বুক ফুলিয়ে সেকথা বলতেনও বাম নেতারা৷ বিপরীতে দাপুটে বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সিপিএমের ভোট রিগিং রুখতে সেবারে বিধানসভা ভোটের মুখে মমতার দাবি মেনে বাংলায় এসেছিলেন কমিশনের দাপুটে পর্যবেক্ষকেরা৷ নেতৃত্বে বিহারখ্যাত পর্যবেক্ষক কে জে রাও৷ কেশপুর, গড়বেতা, আরামবাগ, নানুর- একের পর এক সন্ত্রস্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন৷ গ্রামের ভেতরে পর্যবেক্ষক ঢুকলে কী করতে হবে, তার নিদান হিসেবে মহিলাদের শরীরের ‘বিশেষ একটি অংশ’ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তৎকালীন দাপুটে বাম নেতা, প্রয়াত বিনয় কোঙার৷

বাংলায়, বিশেষত বঙ্গ রাজনীতিতে ঠিক কবে, কীভাবে, কার হাত ধরে কু-কথার সূচনা হয়েছে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে৷ তবে একবিংশ শতকের গোড়ায় কু-কথার জন্য বিনয়-সুভাষ-শ্যামল বনাম মমতা-সোনালী-মানসের জুটির কথা কারও অজানা নয়৷ এই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর৷ রাজ্যের প্রবীণ রাজনৈতিক সচেতন মানুষজনের মতে, আগে শুধু ভোটের সময় কু-কথার চাষ হত, এখন বছর ভর হয়!

- Advertisement -

ওই মহলের মতে, তুল্যমূল্যের বিচারে কেউ কাউকে ছেড়ে যান না৷ বরং শুভেন্দু বনাম মদন, দিলীপ বনাম কুণাল থেকে শুরু করে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে কু-কথা বলে বিশ্বখ্যাত হয়েছেন দিঘা লাগোয়া জনপদের নেতাটিও৷ দেবাংশুর প্রতিদ্বন্দী হিসেবে দলের অন্দরেই উঠে আসছে উদয়ন পুত্রের নাম! এমনকি জঙ্গলমহলের সৌমিত্র-সুজাতার ‘প্রেম কাহিনী’ কিংবা রত্না-বৈশাখী-শোভনের ‘ত্রিকোণ প্রেম কাহিনী’র কথাও কারও অজানা নয়৷ ওই মহলের মতে, কু-কথার চোরাস্রোতে গা ভাসিয়ে অতীতের সমস্ত রাজ্যপালের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন সদ্য ‘প্রাক্তন’ হওয়া বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়!

নেটিজেনরা বলছেন, চারিদিকে শুধু কথার মধু ঝরছে! ভাবখানা এমন, মেরেছো কলসির কানা তাই বলে কি প্রেম দেব না! একজন বাবা তুলে গালি দিলে অন্যজন তার ১৪ পুরুষ টানবেন! এটাই স্বাভাবিক। বরং, না টানলে তাঁর দর কমে যাবে চলতি রাজনৈতিক ‘বাজারে’! শুরু হয়ে গিয়েছে বর্ষ বিদায়ের কাউন্টডাউন৷ একই সঙ্গে বর্ষ সূচনারও৷ তবে নতুন বছরে বাংলা, বিশেষত বাংলার রাজনীতি কি আদৌ কু-কথা মুক্ত থাকতে পারবে? প্রশ্ন শুনে ভ্রু কপালে তুলছেন রাজনীতিকরা৷ কু-কথা বন্ধের ‘দ্বায়িত্ব’ নিতে নারাজ সকলেই৷ পরস্পরের দিকে আঙুল তুলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ইটের বদলা পাটকেলই হয়!

আরও পড়ুন: কেন ভাঙছে যৌথ পরিবার, কি বললেন নচিকেতা