কেন্দ্র-রাজ্যের ইন্ধনে রামনবমীতে দাঙ্গা-অশান্তি, দাবি বাম নেতৃত্বের

''রাজ্য সরকার চায়. আবার দিল্লির সরকারও চায় মানুষের মধ্যে বিভাজন হোক। তাই দাঙ্গা হচ্ছে।''

0
65

সুমন আদক, হাওড়া: ”মমতা ব্যানার্জি চেয়েছেন একটা দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি হোক হাওড়ায় (Howrah)। তাই দাঙ্গা(Massive chaos) হয়েছে। তবে আমরা এখানে জল ঢালতে এসেছি”। রবিবার সন্ধেয় মধ্য হাওড়ায় দলের রাজ্য দফতরের সামনে প্রতিবাদ সভা শেষে বিস্ফেোরক অভিযোগ তুলেছেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

রামনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে শিবপুর ও কাজিপাড়ার Massive chaos, মমতা প্রশাসনের পরিকল্পিত। হাওড়ায় বামপন্থীদের রবিবারের প্রতিবাদ সভা থেকে এমন বক্তব্য, শুধু সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমেরই নয়, দলের পলিটব্যুরো সদস্য সূর্যকান্ত মিশ্রেরও।

- Advertisement -

একধাপ এগিয়ে বামপন্থী পোড়খাওয়া রাজনীতিক সূর্যকান্ত বলেছেন, ”এখানে গোলমাল হচ্ছে, কারণ রাজ্য সরকার চায় বলে। আবার দিল্লির সরকারও চায় মানুষের মধ্যে বিভাজন হোক। তাই দাঙ্গা হচ্ছে।” এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:শক্তিগড়ের ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল, উদ্ধার ১৩ টি বুলেটের খোল

হাওড়ায় বামপন্থীদের প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পলিটব্যুরো সদস্য সূর্যকান্ত বলেছেন, ”দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা একবার জ্যোতি বাবুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন কেন পশ্চিমবঙ্গে কোনও দাঙ্গা হয় না। অল্পকথার মানুষ জ্যোতি বসু তার উত্তরে বলেছেন সরকার চায় না, তাই দাঙ্গা হয় না।”

হাওড়ার সাম্প্রতিক অশান্তি(Massive chaos) ঘিরে রবিবার বিকেলে শিবপুর অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার আবেদন নিয়ে মহামিছিলের ডাক দিয়েছিল জেলা বামফ্রন্ট। পরিকল্পনা ছিল মধ্য হাওড়ায় সিপিআইএমের জেলা দফতর থেকে মহামিছিল শুরু হয়ে শেষ হবে কাজিপাড়ায়।

তবে পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় বামফ্রন্ট নেতৃত্ব মহামিছিল না করেই প্রতিবাদ সভা করেছেন। প্রতিবাদ সভায় হাজির ছিলেন মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্র সহ হাওড়া জেলার বামফ্রন্টের নেতা-নেত্রীরা।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পদাক মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, হাওড়ার পুলিশ ইচ্ছে করেই দাঙ্গাবাজদের Massive chaos করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর সেই তালিকায় হিন্দু এবং মুসলিম দুই সম্প্রদায়েরই জনগণই রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার পুলিশ প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলে সেলিম বলেছেন, বামপন্থীরা যখন শান্তি-সম্প্রীতির কথা বলতে যায়, তখন তাঁদের আটকানো হয়। শুধু পুলিশ দিয়েই নয়, তখন শান্তি সম্প্রীতির মিছিল আটকানোর জন্যে নামানো হয় র‍্যাফও। অথচ দাঙ্গার সময় সেই সক্রিয়তা দেখা যায় না।

বিস্তারিত খবর, লাইভ ভিডিও সহ সমস্ত রকম আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ:https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে শুধু আরএসএস, কিংবা বিশ্ব হিন্দু পরিষদইনয়, কেন্দ্র এবং রাজ্যের শাসক দল বিজেপি এবং তৃণমূলের নেতা ও মন্ত্রীরাও যুক্ত। তাঁর দাবি, একমাত্র বামপন্থীরাই সাম্প্রদায়িক উন্মাদনাকে প্রশমিত করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কোথাও কোনও বিভেদ বা অশান্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখে।

শক্তিগড়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হওয়া কয়লা ব্যবসায়ী রাজু ঝাঁ প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগে বিঁধেছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক। বলেন,
কয়লা পাচার আর গরু পাচার যোগ, বিজেপি আর তৃণমূল যোগ, দিলীপ ঘোষ আর অনুব্রত মণ্ডল যোগ এখন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সেলিমের দাবি, মূল পাচার মামলার সঙ্গে শক্তিগড়ের ঘটনা যোগ করে তদন্ত হলেই খুনের কিনারা বেরিয়ে আসবে। জানান, বিজেপি এবং তৃণমূলের চোর ও জোচ্চর দের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের লড়ার যেমন চলবে, তেমনি লড়াই চলবে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা এবং মুসলিম সাম্প্রদায়িকতরা বিরুদ্ধেও। রাজ্যের কোনও প্রান্তেই Massive chaos করার সুযোগ কাউকে দিতে রাজি নয় বামপন্থীরা।