সাড়ে ৬ কোটির লেনদেন কুন্তলের, উৎস জানতে চেয়ে সওয়াল আদালতের

0
50
Kuntal Ghosh

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ফের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ঘোষের(Kuntal Ghosh) যোগসূত্র নিয়ে ইডির দাবিতে চক্ষু ছানাবড়া। দুটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেনের তথ্য সামনে এনেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের দাবি, এই অ্যাকান্টগুলি থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এখন সেই বড় অঙ্কের টাকাই ইডির নজরে। শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয় হুগলির তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষকে। এবার সেই মামলার শুনানিতেই কুন্তলের আরও ১৪ দিনের জেল হেফাজতের আর্জি জানালেন ইডির আইনজীবী।

আরও পড়ুন রাস্তার ধারে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার নবজাতকের দেহ

- Advertisement -

ইডির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সাড়ে ছয় কোটি টকারা মধ্যে বেশিরভাগই টলিউডে শর্ট ফিল্ম, মিউজিক ভিডিও ইত্যাদিতে লাগানো হয়েছে। এমনকি পার্টনারশিপ ফার্মের মাধ্যমে টলিউডের বিভিন্ন অভিনেতা ও অভিনেত্রীর কাছেও এই টাকা গিয়েছে। তারকাদের বিলাসবহুল গাড়ি কিনে দেওয়া হয়েছে। এই তারকাদের তালিকাতেই রয়েছেন বনি সেনগুপ্ত। বনিকে ৪৪ লক্ষ টাকা এবং কুন্তল(Kuntal Ghosh) ঘনিষ্ঠ পার্লারের মালকিন সোমাকে ৫৫ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত টাকা দিয়েছেন কুন্তল ঘোষ(Kuntal Ghosh) ।

আরও পড়ুন ‘দর্শক যেটা ভাবছেন ভাবুক’- শ্রীতমার সঙ্গে প্রেম নিয়ে অকপট ঋত্বিক

তবে ইডি যখন সোমা এবং বনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন জানা যায়নি যে এই টাকা আদতে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা। এই লেনদেনের মাধ্যমে আসলে নিয়োগ কেলেঙ্কারির কালো টাকাকে সাদা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে ইডি। তবে ইডির কথা অনুসারে, এরা যখনই জেনেছে এটি নিয়োগ দুর্নীতির টাকা তখনই ইডিকে তা ফেরত দিয়েছে। অন্যদিকে, কুন্তল ঘোষ(Kuntal Ghosh) তার দুই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনও তথ্য ইডির কাছে জমা দেননি। এরকমই আদালতকে জানিয়েছেন ইডির আইনজীবী। আবার কুন্তলের আইনজীবী মেহেদি নওয়াজ জানিয়েছেন, সাড়ে ছয় কোটি টাকা কুন্তলের অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট করা হয়েছে, ডিপোজিট মানে সেটা সাদা টাকাই। পাশাপাশি সোমার সঙ্গে টাকার লেনদেন ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে হয়েছে তাই সেক্ষেত্রে সেটাও কালো টাকা নয়।

কুন্তলের(Kuntal Ghosh) আইনজীবীর এই যুক্তির পরেই বিচারক এই টাকার উৎস জানতে চান। ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুন্তলের আইনজীবী। ট্যাক্স জমা দিলেও তা তদন্তের মধ্যেই পড়ে বলেও পাল্টা জবাব দেন ইডির আইনজীবী। এই মর্মে বিচারক সওয়াল করেন, এই টাকার উৎস বলুন? টাকা যে জমা পড়েছিল তার ডক্যুমেন্ট কি আছে? আদালতকে এর উৎস জানতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিচারক আরও বলেন, ‘আপনি ১০ কোটি টাকা রোজগার করলেন এবং ইনকাম ট্যাক্স দিলেন তাহলেই সেই টাকা বৈধ হয়ে যায় না, কুন্তল ঘোষের এই দুটি অ্যাকাউন্টে কোথা থেকে এই সাড়ে ছ কোটি টাকা এল তার উৎস কি সেটা দেখান! আপনার টাকা তাই আপনাকেই উৎস জানাতে হবে। ডক্যুমেন্ট দেখান । কোথা থেকে সেই নথিপত্র পাওয়া যাবে তা বার করতে ইডি আপনাদের সাহায্য করবে’।