চুপ চাপ আপে ছাপ, বাংলার গ্রামাঞ্চলে মমতার ভিত নড়াতে কেজরিওয়ালের নয়া কৌশল

0
39
Arvind Kejriwal

কলকাতা: ‘বাংলার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। উন্নয়নের নামে সরকারের তরফে একাধিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে৷ কোটি কোটি টাকা খরচও হচ্ছে৷ কিন্তু আদতে রাজ্যবাসীর কোনও সুরাহা হচ্ছে না৷ কারণ, দুর্নীতিতে গলা পর্যন্ত ডুবে রয়েছে সরকারি সিস্টেম৷’ – দাবি আম আদমি পার্টির৷

আরও পড়ুন: ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’

- Advertisement -

সম্প্রতি বাংলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পৌঁছে নিজেদের মতো করে সেসবেরই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করেছেন আপের নেতারা৷ ‘জনদরদী’ মা-মাটি-মানুষের সরকারের ‘সেই সব তথ্য’কে সামনে রেখেই সরকারের মুখোশ খুলতে উদগ্রীব আপ নেতৃত্ব৷ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের কোনও ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যেকোনওদিন ঘোষণা হতে পারে পঞ্চায়েতের নির্ঘণ্ট৷ সে কারণেই দেড় বছর আগে থেকেই বাংলার একাধিক জেলায় গোপনে, সন্তর্পণে সংগঠনের বিস্তারের কাজে নেমেছেন আপের কর্মীরা৷

রাখ-ঢাক না রেখে ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের ‘কর্মতীর্থ’ প্রকল্প নিয়ে সরব হয়েছেন আপ নেতৃত্ব৷ আপের (AAP) এই রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সঞ্জয় বসু বলেন, ‘‘কর্মতীর্থ প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত এক হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে বলে জানিয়েছে সরকারি ওয়েবসাইট ‘এগিয়ে বাংলা’। কিন্তু তার কোনও ব্যবহারিক প্রয়োগ নেই।’’

আরও পড়ুন: ‘যদুবংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, উনি ভাইপোকে বাঁচাতে ব্যস্ত’: Dilip Ghosh

আপ নেতৃত্বর দাবি, কর্মতীর্থের নামে ঘটা করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৫৫ টির বেশি এমন বিপণীর বাড়ি তৈরি করা হয়েছে৷ কিন্তু সেগুলি কোনও কাজের নয়৷ অধিকাংশই বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে৷ এর থেকেই স্পষ্ট যে আদতে কর্মতীর্থ তৈরি হলেও তাতে বেকারদের কোনও লাভ হয়নি৷ বরং, ওই বাড়ির টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে শাসকদলের নেতাদের পকেট ভারী হয়েছে৷ এভাবেই বিভিন্ন প্রকল্পে বিস্তর দুর্নীতি হয়েছে বাংলায়৷

নেতৃত্বরা বলছেন, এটা শুধুমাত্র নমুণা মাত্র৷ যেভাবে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে, তেমনই উন্নয়নের প্রকল্পগুলিও একটু নাড়াচাড়া করলেই বেরিয়ে আসবে হাজারও অসঙ্গতি, বেনিয়মের ছবিটা৷

আরও পড়ুন: Horoscope Today : আপনার জীবনে দ্বিতীয় নারীর প্রবেশ! রইল বিস্তারিত

অন্যদিকে কিভাবে সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই দিল্লিতে আম আদমির পাশে দাঁড়িয়েছে কেজরিওয়ালের সরকার, সেকথাও মানুষের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন নেতৃত্ব৷ নেতৃত্বের কথায়, ‘‘পাশাপাশি দুই রাজের সরকারি পরিষেবার হাল হকিকৎ আমরা মানুষের কাছে তুলে ধরব৷ দিল্লির স্টাইলে বাংলাকেও দুর্নীতিমুক্ত করাটাই আমাদের লক্ষ্য৷’’

ইতিমধ্যে দিল্লির টোটকা কাজে লেগেছে পঞ্জাবে৷ বরং বলা ভাল, আপের ওপর আস্থা রেখে দু’হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন পঞ্জাবিরা৷ এবার লক্ষ্য বাংলা৷ ধীর পায়ে সেই লক্ষ্য পূরণেই এগোচ্ছে আপ নেতৃত্বরা৷

আরও পড়ুন: Weather Update: ফের কাঠফাটা গরম, কবে থেকে? রইল বিস্তারিত